নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটকে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা ভুয়া বলেছেন। এটা কোনো ভোটই ছিল না। তড়িঘড়ি করে মন্ত্রিপরিষদ ও এমপিরা শপথ নিয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণতন্ত্র মঞ্চ আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
মান্না বলেন, ‘তড়িঘড়ি করে মন্ত্রিপরিষদ শপথ নিল, এমপিরা শপথ নিল। কারণ কখন কী ঘটে যায়, বলা যায় না। লড়াই যখন শুরু করেছি, লড়াই করব। লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে নিজেদের পাওনা আদায় করে নেব। লড়াই করলেই এই সরকার আর টিকতে পারবে না।’
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘৭ তারিখে কেউ ভোট দিতে যায়নি। ২ শতাংশ ভোটও পড়েনি। বিদেশি পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, কোনোভাবেই ৮ থেকে ১০ শতাংশ ভোটের বেশি পড়েনি। আওয়ামী লীগ ছাড়া ২৭টি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। তারা সবাই বলেছে, এখানে কোনো নির্বাচন হয়নি। তারা প্রত্যেকেই এই ভোট বর্জন করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে তারা একদলীয় শাসনের দিকে নিয়ে গেছে। এই নির্বাচনকে যদি আপনারা ক্ষমতায় থাকার লাইসেন্স মনে করেন, তাহলে ভুল করবেন। আলোচনা করে সংকট উত্তরণের একটা সুযোগ আছে আপনাদের। এখনো সময় আছে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন।’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘৭ তারিখ দেশের মানুষ ভোট দিতে যায়নি। আওয়ামী লীগের মহাজোট সঙ্গী হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন বলেছেন, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা আবদুস সুবাহান গোলাপ বলেছেন, প্রশাসনের সহায়তায় নির্বাচনে কারচুপি করেছে। সরকারকে পতন ঘটানো না পর্যন্ত আমাদের লড়াই-সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।’
ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি কারণ তারা ৭ তারিখের ভোট বর্জন করেছিল। সরকারকে যতদিন পর্যন্ত আমরা পদত্যাগ করাতে না পারব ততদিন আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।’
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ কায়সার, জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রব প্রমুখ।
