প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় বাবার জানাজায় অংশ নিয়েছেন ছাত্রদল নেতা মো. নাজমুল মৃধা (২৬)। নির্ধারিত জানাজার আগেই তার জন্য আয়োজন করা হয় বিশেষ জানাজার। গতকাল শনিবার বেলা ৩টার দিকে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম সুবিদখালী গ্রামে ওই জানাজা হয়। নাজমুল মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। জানাজার সময় তার হাতকড়া খুলে দেওয়া হলেও খোলা হয়নি পায়ের ডান্ডাবেড়ি। নাজমুলের আবেদনের পরও লাশ দাফনের আগেই তাকে আবারও পটুয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠায় পুলিশ। গত ১৯ ডিসেম্বর রাতে নিজ বাসার সামনে থেকে গ্রেপ্তার হন নাজমুল। পরে একটি বিস্ফোরক মামলার আসামি করে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। গতকাল ডান্ডাবেড়ি পায়ে ছাত্রদল নেতা নাজমুলের জানাজায় অংশ নেওয়ার কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওঠে নিন্দার ঝড়।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, নাজমুলের বাবা মোতালেব হোসেন মৃধা (৬৭) দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মোতালেব হোসেন দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ছিলেন। নাজমুলের জন্য উপজেলার সুবিদখালী সরকারি র. ই পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তার বাবার জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয় বিকেল ৫টায়। এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে নির্ধারিত সময়ের আগেই নাজমুলকে নিজ বাড়িতে ছোট পরিসরে আলাদাভাবে জানাজায় অংশগ্রহণ করানো হয়। এরপর লাশ দাফনের আগেই আবারও তাকে জেলহাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। পুরোটা সময় ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় ছিলেন ছাত্রদল নেতা নাজমুল মৃধা।
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নাজমুলের স্বজনরা বলেন, নাজমুল কোনো মামলার দ-প্রাপ্ত আসামি না হলেও তাকে বাবার জানাজায় ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আহসানুল্লাহ পিন্টু সিকদার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির হোসেন ফরাজী, সাবেক সভাপতি আশ্রাফ আলী হাওলাদার, পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সদস্য মো. জাকারিয়া এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, ‘৫ ঘণ্টার জন্য শর্তসাপেক্ষে ছাত্রদল নেতা নাজমুলকে জামিন দিয়েছে আদালত। নিরাপত্তার স্বার্থে তার পায়ে ডান্ডাবেড়ি খুলে দেওয়া হয়নি।’
