দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে পুনঃএকত্রীকরণ ও সহযোগিতার বিষয়সমূহ দেখভালকারী সংস্থাগুলো বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির সরকারি সংবাদ মাধ্যম মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার ০.০০১ মিলিমিটার অঞ্চলেও যদি কোন ধরনের লংঘনের ঘটনা ঘটে তাহলে যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে বলে দেশটির নেতা কিম জং উনের হুমকির মধ্যেই এসব সংস্থা বাতিলের ঘোষণা এলো।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির (কেসিএনএ) খবরে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া দু’দেশের কার্যত নৌ সীমান্ত নর্দান লিমিট লাইন মানবে না এবং যুদ্ধের মাধ্যমে সিউলকে দখলে নেওয়ার জন্যে সাংবিধানিক পরিবর্তনের কথাও জানায় দেশটি।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়ন সুক ইয়েল তার মন্ত্রিপরিষদকে বলেছেন, পরমাণু শক্তিধর উত্তর কোরিয়া উস্কানি দিলে দক্ষিণ কোরিয়া কয়েকগুণ শক্তি নিয়ে তার জবাব দেবে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্ত নিয়ে দু’দেশের সম্পর্ক চরম পর্যায়ে । উত্তর কোরিয়া নভেম্বরে মহাকাশে গোয়েন্দা স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে যা উত্তেজনা কমাতে ২০১৮ সালে করা সামরিক চুক্তির লংঘন।
কেসিএনএ বলেছে, পুনঃএকত্রীকরন ও সহযোগিতার বিষয়গুলো দেখভালকারী সংস্থাগুলো বিলুপ্ত করার পিয়ংইংয়ের সিদ্বান্ত এসেছে উত্তর কোরিয়ার পার্লামেন্ট থেকে। সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে দেওয়া ভাষণে কিম দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘সবচেয়ে শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার জন্যে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ‘এমনকী আমাদের স্থল, আকাশ ও জলসীমার ০.০০১ মিলিমিটার এলাকাতেও যদি দক্ষিণ কোরিয়া কোন লংঘনের ঘটনা ঘটায় তবে তা যুদ্ধের উস্কানি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।’
‘দ্য ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়া’ এবং রিপাবলিক অব কোরিয়া দু’দেশের সরকারি নাম। উভয় দেশের প্রতিষ্ঠা ৭৫ বছর আগে হলেও কার্যত দু’দেশই একে অন্যকে অবৈধ অস্তিত্ব হিসেবে গণ্য করে।
