অপচিকিৎসায় নবজাতক-প্রসূতির মৃত্যু, ক্লিনিক সিলগালা

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:২১ এএম

বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা এলাকায় সুন্দরবন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অপচিকিৎসায় প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পরপরই প্রসূতি মেঘলা আক্তার (১৯) এবং নবজাতকের মৃত্যু হয়। 

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বামনা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেন। প্রসূতি মেঘলা উপজেলার উত্তর রামনা গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী।

ক্লিনিকের মালিক উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ মিজানুর রহমান এবং ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্ত্রী মেঘলা আক্তারের প্রসববেদনা শুরু হলে সোমবার বিকেলে সুন্দরবন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করানো হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সবুজ কুমার দাস, পরিচালক রেজাউল ইসলামসহ ৫-৬ জন মিলে মেঘলার সিজারিয়ান অপারেশন শুরু করেন। রাত পৌনে ১১টায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এর পরপরই ক্লিনিকের মালিক, ডাক্তার, নার্সসহ স্টাফরা পালিয়ে যান।’

মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বামনা থানার ওসি তুষার কুমার ম-লের নেতৃত্বে মেঘলার বাবার বাড়ি উপজেলার গুদিঘাটা গ্রাম থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ।

দুপুর ১২টায় বামনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারেক হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান এবং বামনা থানার ওসি ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেন।

বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সুন্দরবন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার জন্য বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। অপচিকিৎসার কারণে প্রসূতি মেঘলা ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। তাই আমরা সুন্দরবন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তালা লাগিয়ে দিয়েছি।’

এ ব্যাপারে সুন্দরবন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেয়ারম্যান এবং ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। আর সুন্দরবন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে মালিকপক্ষ, ডাক্তার, নার্সসহ কোনো স্টাফকে পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত