যেসব কারণে ভারতীয় সেনাদের মালদ্বীপে চান না মুইজ্জু

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:৫৮ পিএম

নিরাপত্তা, পর্যটনখাতের জন্য এতদিন অনেকটাই ভারত নির্ভর ছিল মালদ্বীপ। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দেশকে ভারতীয় প্রভাবমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভাল সাড়া পান মোহামেদ মুইজ্জু, নির্বাচনে জিতে তিনিই এখন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট। ক্ষমতায় এসেই তিনি মালদ্বীপ থেকে ভারতীয় সেনা উপস্থিতি হটাতে তৎপর হন। মুইজ্জুর এই ভারতীয় সেনা বিরোধী অবস্থান বিশ্লেষণ করেছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

এই বিশ্লেষণ বলছে, ভারতের প্রভাব প্রতীকীভাবে দূর করতে দ্বীপদেশটিতে যে অল্প কয়েকজন ভারতীয় সেনা আছেন তাদের সরাতে চান মুইজ্জু। ইতিমধ্যে তিনি ভারতীয় সেনাদের দেশ ছাড়ার আলটিমেটাম দিয়েছেন। এই সময়সীমা অনুযায়ী মালদ্বীপে থাকা ভারতীয় সেনাদের মার্চের ১৫ তারিখের মধ্যে দেশটি ছাড়তে হবে।

এনডিটিভির ভাষ্যমতে, সদ্যই চীন সফর শেষে মালদ্বীপে ফিরেই এই সময়সীমা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু। এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি ভারত।  

বর্তমানে মালদ্বীপে ৭৭ জন ভারতীয় সেনা অবস্থান করছেন, এছাড়া ভারতীয় সামরিক বাহিনীর ১২ জন মেডিকেল অফিসার আছেন দ্বীপপুঞ্জটিতে।

তারা সেখানে কেন?

ভারত বলছে তাদের সেনারা দ্বীপদেশটির প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে মানবিক সহায়তা, জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিতের কাজ করে। ভারত সরকার মালদ্বীপকে দু’টি হেলিকপ্টার ও একটি ডর্নিয়ার উড়োজাহাজ দিয়েছে। এগুলো মূলত সমুদ্রে টহল, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজে ব্যবহার করা হয়। ভারতীয় সেনারা এসব অভিযান পরিচালনা করেন। এর মধ্যে প্রথম হেলিকপ্টারটি ২০১০ সাল থেকে কাজ করছে,যখন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ছিলেন মোহামেদ নাশিদ।

 

মালদ্বীপ কেন ভারতীয় সেনাদের বের করে দিতে চায়?

আগে থেকেই ভারত মালদ্বীপের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। বিশেষ করে দেশটির অন্তত ৫ লাখ মানুষের ভাত, সবজি, ওষুধ, এবং মানবিক সহায়তা প্রশ্নে ভারত ছিল তাদের ভরসা। এমনকি ১৯৯৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইউমের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান চেষ্টা হলে তা ঠেকাতে সেনা পাঠিয়েছিল ভারত। মালের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর পরই অবশ্য দ্রুত সেনা প্রত্যাহার করেছিল দিল্লি।

অতিমাত্রায় নির্ভরতার কারণে মালদ্বীপের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দিল্লির হস্তক্ষেপ উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 এমনকি ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে দেশের ‘সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি’ বলে অভিহিত করেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট। আর তাই ভারতের প্রভাব কমিয়ে আনার অংশ হিসেবে দেশটিতে থাকা ভারতীয় সেনাদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত মালদ্বীপ সরকার নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

চীনের সংশ্লিষ্টতা

ভূরাজনৈতিক কারণে মালদ্বীপে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ভারতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে চীন। মালদ্বীপের পাশেই রয়েছে ভারত মহাসাগরের প্রধান ব্যস্ততম সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। যে পথ দিয়ে চীনের তেল আমদানির প্রায় ৮০ শতাংশই পরিবহন করা হয়।

সম্প্রতি চীন সফরে গেলে সম্পর্ক আরও মজবুতের কথা বলেন দুই দেশের প্রেসিডেন্ট

সম্প্রতি মুইজ্জুর চীন সফরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মালদ্বীপকে ১.৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা দিয়েছে চীন; যা দেশটির মোট ঋণের প্রায় ২০ শতাংশের সমান। সবদিক দিয়ে ভারতকে পাশ কাটিয়ে চীনমুখী অবস্থানে রয়েছে মালদ্বীপের বর্তমান সরকার। আর সে কারণেই ভারত-বিরোধী নানা পদক্ষেপ লক্ষ্যণীয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত