কুষ্টিয়ায় দৌলতপুরে ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে হলফনামা তৈরি করে বাল্যবিয়েতে সহযোগিতা করায় নোটারি আইনজীবীর উপর চড়াও হয়েছেন বরের মা। এ সময় ওই নারীকে নির্যাতন ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত সোমবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরের ভুক্তভোগী নারী জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দকে অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় নোটারি আইনজীবীর লোকজন বিজয় টিভির প্রতিনিধির ওপর হামলা করেছেন। এছাড়া ওই সাংবাদিকের অফিসে হামলা করে দুইটা পিসি ও ক্যামেরা ভাঙচুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এমন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়ার জেলার আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ আবু সাইদ জানান, এঘটনায় সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আইনি সহযোগিতা চাইলে দেয়া হবে।
অভিযোগ অস্বীকার করে নোটারি আইনজীবী সিরাজ প্রামানিক বলেন, ‘আইনজীবীর চেম্বারে কোনো বাল্যবিয়ে হওয়ার সুযোগ নেই।
স্থানীয়রা জানান, কুষ্টিয়া আদালত চত্বরে অধিকাংশ নোটারি আইনজীবী মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ভুয়া তথ্য সম্বলিত হলফনামা নোটারি তৈরী করে দিয়ে বাল্যবিয়েতে সহযোগিতা করে আসাছেন। এদের মধ্যে অ্যাভোকেড সিরাজ প্রামানিকের নাম শীর্ষস্থানে রয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
জানা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার একজন ভুক্তভোগী মা এমন অভিযোগ নিয়ে নোটারি আইনজীবী অ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামানিকের চেম্বারে এসে চড়াও হন এবং জুতা খুলে মারতে উদ্যোত হন। এ সময় পাল্টা ওই নারী আইনজীবীর লোকজন দ্বারা লাঞ্ছিত হন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ের নিয়ে যান।
ওই নারী মাহফুজা বেগম অভিযোগ করেন, ‘আমার ছেলের বয়স ১৪ বছর। নবম শ্রেণিতে পড়ে। একই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির এক মেয়েকে নিয়ে এসে নোটারি আইনজীবী সিরাজ প্রামানিকের কাছে। তিনি মোটা টাকার বিনিময়ে ছেলের বয়স ২১ বছর আর মেয়ের বয়স ১৮ বছর দেখিয়ে ভুয় তথ্যের হলফনামা তৈরি করে তার চেম্বারেই কাজী ডেকে বিয়ে করিয়ে দিয়েছে। ওই হলফনামায় আমার এবং আমার স্বামীর এনআইডির কোনো তথ্য দেয়া হয়নি বা আমার ছেলের জন্ম নিবন্ধনের তথ্যও ব্যবহার করা হয়নি। ভুয়া তথ্য দিয়ে নোটারি হলফনামা করে দিয়েছেন এই উকিল সাহেব।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুষ্টিয়া আদালত পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ‘কথিত নোটারি আইনজীবীরা ভুয়া তথ্যের হলফনামায় কম বয়সী ছেলে মেয়েদের বয়স বেশি করে। এ ধরনের অভিযোগ জেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা মিটিংএ অনেকবার উঠেছে। কিন্তু কিছুতেই আটকানো যাচ্ছে না তাদের।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নোটারি আইনজীবী সিরাজ প্রামানিক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার সঙ্গে কারো কোন বিরোধ নেই। হামলার অভিযোগ ঠিক না। আমি একজন আইনজীবী, আমার এখানে কোনো বাল্যবিয়ে হয়নি বা হওয়ার সুযোগ নেই’।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আদালত পুলিশের উপ-পরিদর্শক জিলানী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এধরনের অভিযোগ মৌখিকভাবেই শুনে আসছি। কিন্তু এ পর্যন্ত কেউ কোন লিখিত অভিযোগ করেনি বলেই একের পর এক এই ঘটনা ঘটছে।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক এহতেশাম রেজা বলেন, ‘এ ধরনের ভুয়া তথ্যের নোটারি হলফনামা করে বাল্যবিয়ের অভিযোগ প্রায়ই পাচ্ছি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে বসে এই বিষয়টি সুরাহা করার উদ্যোগ নেয়া হবে।’
