বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংক ব্যবস্থা চালু হয়েছে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কিন্তু গত দুবছর ধরে ইসলামি ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। বর্তমানে পাঁচ ইসলামি ব্যাংকের ঘাটতি ২৪ হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে। দেশে এর আগের কোনো গভর্নর ইসলামি ব্যাংকিংয়ের কাঠামোগত দুর্বলতা খুঁজে পাননি। কিন্তু বর্তমান গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ইসলামি ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকটের এ সময়ে ‘কাঠামোগত দুর্বলতা’ খুঁজে পেলেন। গতকাল বুধবার চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য দেন।
পাঁচ ইসলামি ব্যাংকের তারল্য সংকট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, ইসলামি ব্যাংকগুলোয় কাঠামোগত কারণে তারল্য সংকট হয়েছে। তাদের সুকুক বন্ড রয়েছে টোটাল ইসলামি ব্যাংকের দুই শতাংশ। অন্য ব্যাংকগুলোরও তারল্য সংকট ছিল, তবে তাদের বন্ডে বিনিয়োগ থাকায় টাকা সরবরাহ করা গেছে।
আর্থিক খাতের দুর্বলতা বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা আগেই দুর্বল ব্যাংকগুলোকে চিহ্নিত করেছিলাম। এটা বলতে পারি দুর্বল ব্যাংকগুলো আরও খারাপের দিকে যায়। দেশের ৫২ বছরের ইতিহাসে কোনো ব্যাংক বন্ধ হয়নি, হবেও না। তবে ওই দুর্বল ব্যাংকগুলোর দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগে। তারা খারাপের দিকে যায়নি আর দুর্বলতা কাটিয়ে উঠবে।
নতুন মুদ্রানীতিতে সুশাসনকে গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গভর্নর বলেন, আমাদের খেলাপি ঋণ ইস্যুতে আমরা একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছি। করপোরেট গভর্ন্যান্সকে (সুশাসন) নিশ্চিক করার জন্য আমরা একটি নীতি হাতে নিয়েছি। তবে সেটি আজকে আলাপ করব না, কারণ এটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ডের অনুমোদন লাগবে। তারপর আমরা সেটি বাস্তবায়ন করব।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমিয়ে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে রাখা হয়েছে। এটি কমিয়ে ধরা প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, প্রবৃদ্ধি কমিয়ে ধরা প্রসঙ্গে আমাদের কোনো
মাথাব্যথা নেই। আমাদের এখন লক্ষ্য হলো মূল্যস্ফীতি কমানো। মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য যদি প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ কমিয়ে ধরতে হয় তাতে কোনো অসুবিধা নাই।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেছেন, ৫২ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশে কোনো ব্যাংক বন্ধ হয়নি। ভবিষ্যতেও হবে না।
ব্যাংকগুলোতে টাকা রাখার ক্ষেত্রে মানুষের অনাস্থা তৈরি হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনাস্থা তৈরি হওয়ার মতো কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশের ৫২ বছরের ইতিহাসে কোনো ব্যাংক বন্ধ হয়নি। ভবিষ্যতেও কোনো ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাবে, এমন সম্ভাবনাও নেই।
গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দুর্বল ব্যাংক হিসেবে যাদের চিহ্নিত করা হয়েছিল বর্তমানে তাদের অবস্থা কী, জানতে চাইলে গভর্নর বলেন, যেসব ব্যাংক দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে সেগুলো আর দুর্বলতার দিকে ফিরে যায়নি।
এর আগে, বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রাধান্য দিয়ে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের ২য় ষান্মাসিকের (জানুয়ারি-জুন, ২০২৪) মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে।
এ সময় চট্টগ্রাম ভিত্তিক একটি গ্রুপের হাতে থাকা ইসলামি ধারার পাঁচটি ব্যাংকের সংকটময় পরিস্থিতি বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি গভর্নর বলেন, ইসলামি ব্যাংকগুলোর কাঠামোতে সমস্যা ছিল। সেখানে তারল্য সংকট হয়েছে অন্য কারণে, তাদের সুকুক বন্ড রয়েছে মোট ইসলামি ব্যাংকের দুই শতাংশ। অন্য ব্যাংকগুলোও তারল্য সংকট ছিল। তবে তাদের বন্ডে বিনিয়োগ থাকায় তারা ওই বন্ডের বিনিময়ে ধার করতে পারছে। এজন্য ইসলামি ব্যাংকের সংকট কাটাতে নতুন করে নীতিমালা করা হচ্ছে বলেও অবহিত করেন তিনি।
আর্থিক খাতের দুর্বলতা বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা আগেই দুর্বল ব্যাংকগুলোকে চিহ্নিত করেছিলাম। এটা বলতে পারি দুর্বল ব্যাংকগুলো আরও খারাপের দিকে যায়। দেশের ৫২ বছরের ইতিহাসে কোনো ব্যাংক বন্ধ হয়নি, হবেও না। তবে ওই দুর্বল ব্যাংকগুলোর দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগে। তারা খারাপের দিকে যায়নি আর দুর্বলতা কাটিয়ে উঠবে।
বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতি চরম আকার ধারণ করেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশে, যা গত ৮ মাসের মধ্যে সর্বনি¤œ। আগামী জুনের মধ্যে তা ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত ভুগছে ব্যাপক তারল্য সংকটে। এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন মুদ্রানীতিতে এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সাধারণত বাজারে টাকার সরবরাহ বাড়িয়ে বা কমিয়ে বাজারে টাকার জোগান নিয়ন্ত্রণ করে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু আগের মুদ্রানীতি থেকে এরকম মুদ্রা সরবরাহ নীতির বদলে সুদহার ভিত্তিক নীতি নেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ সুদের হার বাড়িয়ে বা কমিয়ে বাজারে মুদ্রার জোগান নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। মুদ্রা সরবরাহের এই নীতি এবারও বহাল রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এবারের মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মুদ্রা বিনিময় হারের চাপ এবং সরকারের কাক্সিক্ষত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় অর্থের সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
