অপহরণ চক্রের সদস্য ঢাকায় গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০১:৩৮ এএম

লিবিয়ায় ফেনীর সোনাগাজীর মোরশেদ আলম নামে এক প্রবাসীকে অপহরণ করে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনার মামলায় রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে আল আমিন ওরফে মিলন (২৭) নামে অপহরণ চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত মঙ্গলবার গুলশানের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আল আমিনের বাড়ি খুলনার লবণচরা থানার মহাম্মদিয়াপাড়ায়।

লিবিয়ায় অপহরণের শিকার মোরশেদ আলম সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের মির্জাপুর এলাকার বাসিন্দা।

গতকাল বুধবার বিকেলে আল আমিনকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। সেখান অপহরণ চক্রের সদস্য আল আমিন লিবিয়ায় প্রবাসী মোরশেদ আলমকে অপহরণ করে নির্যাতন ও মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে তার স্ত্রীর কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ নেওয়ার কথা স্বীকার করে লিবিয়ায় তাদের চক্রের সদস্যদের নাম-ঠিকানাসহ চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন।

ওই প্রবাসীর স্ত্রী জাহানারা বেগম গত ৮ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে প্রবাসে স্বামীকে অপহরণ করে মৃত্যুর ভয় দেখানোর ঘটনায় একটি মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপহরণকারী চক্রের সদস্য আল আমিনকে গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার এজাহারে জাহানারা উল্লেখ করেন, গত ২৭ ডিসেম্বর রাতে লিবিয়া থেকে আলী নামে এক ইমু অ্যাকাউন্ট থেকে ফোন করে তার (জাহানারা) স্বামী মোরশেদ আলম তাকে জানান, অজ্ঞাতনামা লোকরা তাকেসহ অন্তত ৫০-৬০ জনকে অপহরণ করে একটি অন্ধকার কক্ষে নিয়ে বেঁধে রেখেছে। ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ না দিলে তাকে মেরে ফেলবে। একইভাবে পরদিনও একই নম্বর থেকে জাহানারার মোবাইল ফোনে কল আসে। পরে জাহানারা ওই ইমু অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো একটি হিসাব নম্বরে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা পাঠান। এরপর তার স্বামী আবারও ফোন করে কমপক্ষে সাত লাখ টাকা পাঠাতে বলেন। চলতি মাসের ৪ তারিখে জাহানারা আবারও অপহরণকারীদের দেওয়া আরেকটি হিসাব নম্বরে এক লাখ টাকা পাঠান।

জাহানারা বেগম বলেন, দেড় লাখ টাকা দেওয়ার পর গত ৮ জানুয়ারি আবার অপহরণকারীদের নম্বর থেকে ফোন করে মোরশেদ তাকে বলেন, দাবি করা টাকা না দেওয়ায় তাকে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতন করছে। পরে আত্মীয়-স্বজনদের পরামর্শে তিনি থানায় এসে ইমু নম্বর ও অপহরণকারীদের দেওয়া ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের হিসাব নম্বর ও জমা রসিদ দিয়ে মামলা করেন।

সোনাগাজী মডেল থানার এসআই মাহবুব আলম সরকার বলেন, ‘ব্যাংকের দুটি হিসাব নম্বরের লোকদের নাম-ঠিকানা ও হিসাব নম্বরে থাকা মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করা হলেও তাদের খঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে গত সোমবার রাতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আল আমিনের অবস্থান নিশ্চিত হন। এরপর অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার গুলশান এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসেন।’

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি সুদ্বীপ রায় বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর অপহরণ চক্রের সদস্য আল আমিন জিজ্ঞাসাবাদে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ নেওয়ার কথা স্বীকার করে লিবিয়ায় তাদের চক্রের সদস্যদের নাম-ঠিকানাসহ চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয়। পরে তাকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালতের নির্দেশে তাকে ফেনীর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত