মাহফুজুর রহমান রাব্বি
অলরাউন্ডার
এবারের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দলের নেতৃত্বে রাব্বি। বাবার মৃত্যুর পর বড় সন্তান মেহেদী হাসান সংসারের হাল ধরেন। পাশাপাশি ছোট ভাই রাব্বিকে ক্রিকেটের মনোযোগী ছাত্র হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছেন। স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসেবে ব্যাটিং-বোলিংয়ে ইমপ্যাক্ট ফেলে এখন দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি। তার মধ্যে সাকিব আল হাসানের ছায়া দেখছেন। তিনি নিজেও আইডল মানেন সাকিবকে। অনূর্ধ্ব-১৫, ১৬ ও ১৭ দলকে অধিনায়কত্ব করার অভিজ্ঞতা আছে তার। পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দল পরিচালনায় মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। তার অধীনেই যুব এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। এবার লক্ষ্য তাদের বিশ্বকাপ। বলেছিলেন, ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ জিতে আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।’
যুব ওয়ানডে ম্যাচ : ২১, ইনিংস : ২১, রান : ৩৭০, সর্বোচ্চ : ৭৪, উইকেট : ৩২, সেরা : ৬/২৯
চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান
ব্যাটসম্যান
এই ক্রিকেটার নিজেকে ‘ভাগ্যবান’ ভাবতেই পারেন। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এই ক্রিকেটারের কোনো কিছুতে মা-বাবার ‘না’ নেই। অনূর্ধ্ব-১৪, ১৬, ১৭ হয়ে জায়গা মিলে যায় যুব দলে। পড়ালেখায় কোনোকালেই মন ছিল না রিজওয়ানের। এখনো নেই। তার ধ্যানজ্ঞান জুড়ে শুধুই ক্রিকেট। টপঅর্ডার ব্যাটার-কার্যকর মিডিয়াম পেসার, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেটা রিজওয়ানকে আলাদা করছে। বলেছেন, ‘শরিফুল ভাইয়ের বাসা পঞ্চগড়। বাড়িতে গেলে তার সঙ্গে থাকা হয়। ঘোরাঘুরিও করি। দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞতা তার কাছ থেকে শুনেছি। বিসিএলে আকবর ভাইয়ের দলে ছিলাম। তার সঙ্গেও কথা হয়েছে। দুজনই বলছিলেন, একটু বোলিং সহায়ক উইকেট যেমন পেস-বাউন্স থাকে। ওটা সমস্যা না। আমরা মানিয়ে নেব।’
যুব ওয়ানডে ম্যাচ : ১৭, ইনিংস : ১৭, রান : ৪২৪, সর্বোচ্চ : ৭৯, উইকেট : ৩।
জিসান আলম
ব্যাটসম্যান
বাবা জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার জাহাঙ্গীর আলম। প্রথম ব্যাট ধরার কৌশল শেখা বাবার কাছেই। জিসান ক্রিকেট স্কুলে ভর্তিও হন বাবার হাত ধরে। এরপর ছুটে চলা তার। অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৮ হয়ে এবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দলে। এই ওপেনারের ব্যাটে বাংলাদেশের শিরোপা পুনরুদ্ধারের অনেকটাই নির্ভর করছে। এই ডানহাতি ব্যাটার সেই গল্পই শোনালেন, ‘বাবা-চাচারা ক্রিকেটার ছিলেন, তাদের দেখেই ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন। সব সময় তাদের মতো হতে চেয়েছি।’ জিসান ২০২২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দলে ভালোভাবেই ছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে মূল দলে জায়গা হয়নি তার। এবার সুযোগের সঙ্গে প্রত্যাশার চাপও আঁচ করতে পারছেন জিসান, ‘যেহেতু গতবারও ছিলাম, সে জন্য এবার আমার ওপর সবারই প্রত্যাশা বেশি।’
যুব ওয়ানডে ম্যাচ : ১৫, ইনিংস : ১৫, রান : ৩২৬, সর্বোচ্চ : ৬২, উইকেট : ০।
আশিকুর রহমান শিবলী
ব্যাটমস্যান
ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন বুনেছিলেন শৈশবেই। নিজ জেলা ফরিদপুরে ক্রিকেটের হাতেখড়ি। সেখানে অনূর্ধ্ব-১২ দলের একটি টুর্নামেন্টে খেলে সেরা ব্যাটার হন। এরপর পথচলা শুরু, তবে টপকাতে পারছিলেন না জেলা শহরের গণ্ডি। শেষ পর্যন্ত সুযোগ আসে ইয়ুথ ক্রিকেট লিগে। সেরা পারফরম করে নজর কাড়েন নির্বাচকদের। তাতেই খোলে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দরজা। বড় ভাই আশরাফুল আলমই আশিকুরের পরামর্শক। ছোট ভাইয়ের জন্য বল, উইকেটের ব্যবস্থাও করে রাখতেন। ভাইয়ের অবদানের প্রসঙ্গে তুলে আশিকুর। অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে নৈপুণ্য দিয়ে নাম ছড়িয়েছেন শিবলী। বলেছেন, ‘এশিয়া কাপে দুবাইয়ের কন্ডিশনে আমরা অভ্যস্ত ছিলাম না। কিন্তু আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। দক্ষিণ আফ্রিকায় আমাদের দায়িত্ব মানিয়ে নেওয়া।’
যুব ওয়ানডে ম্যাচ : ১৮, ইনিংস : ১৮, রান : ৫০৩, সর্বোচ্চ : ১১৬*, উইকেট : ০।
শিহাব জেমস
ব্যাটসম্যান
গাইবান্ধার ছেলে শিহাবের ক্রিকেটার হওয়ার নেশা সেই কৈশোর থেকে। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্থানীয় কোচ বাবুলের হাত ধরে। ২০১৫ সালে প্রথমবার বিকেএসপিতে সুযোগ পাননি তিনি। এরপর অনূর্ধ্ব-১৮ পর্যায়ে ব্যাটে রানের দেখা পেয়ে মিলে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে জায়গা। এখন তো শিহাব বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিশ্বকাপ যাত্রার সঙ্গী। বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে নিজের সবচেয়ে বড় ইচ্ছার কথাও জানিয়ে গেলেন শিহাব, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা যখন বাংলাদেশে আসে, তখন থেকে একটা স্বপ্ন যে আমাদেরও জিততে হবে। আমরাও পারি। আর এমনিতেও বিশ্বকাপের ট্রফি নেওয়ার আমার অনেক ইচ্ছা। কারণ অনেক কিংবদন্তি ক্রিকেটারকে বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে নিয়ে উল্লাস করতে দেখেছি। আমারও ওই রকম ইচ্ছা। এটাই সবচেয়ে বড় ইচ্ছা।’
যুব ওয়ানডে : ম্যাচ ২৪: ইনিংস ২৩ : রান ৪৯২ : সর্বোচ্চ ৯৮ : উইকেট ২।
রাফিউজ্জামান রাফি
অলরাউন্ডার
রাফির টেপটেনিস দিয়ে ক্রিকেটে হাতেখড়ি। ঠাকুরগাঁও ক্রিকেট একাডেমির কোচ রোকনুজ্জামান রাহাতের হাত ধরে শুরু। ২০১৭ সালে মাত্র ১১ বছর বয়সে দ্বিতীয় বিভাগ লিগে খেলার সুযোগ পেয়ে যান। সেই লিগে পারফরম করে সুযোগ মেলে জেলা দলে। একই বছর রংপুর বিভাগের হয়ে খেলেন অনূর্ধ্ব-১৪ টুর্নামেন্টে। ২০১৮ সালে প্রথম চেষ্টাতেই বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে যান রাফি। সেখান থেকে অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭ হয়ে এবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দলে এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার। সাকিব আল হাসানকে আদর্শ মেনে স্পিনার হতে চেয়েছেন তিনি। রাফি বলছিলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ক্রিকেট কঠোর পরিশ্রমের খেলা। এ জন্য আমি পরিশ্রম করতে পছন্দ করি।’
যুব ওয়ানডে ম্যাচ : ১৫, ইনিংস : ১৫, উইকেট : ৩১, সেরা : ৫/১৮, ইকোনমি : ৩.৭১।
আদিল বিন সিদ্দিক
উইকেটকিপার
কেরানীগঞ্জে গড়ে ওঠা নসরুল হামিদ ক্রিকেট একাডেমিতে ক্রিকেটের পাঠ শুরু আদিলের। ২০১৬ সাল থেকে এখনো একই একাডেমির ছাত্রত্ব ধরে রেখেছেন তিনি। তারপর বিসিবির বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট অনূর্ধ্ব-১২ কার্নিভালে অংশ নিয়ে সেরা ব্যাটার হন আদিল। সেই শুরু পথচলা, এরপর বিসিবির অনূর্ধ্ব-১২, অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৮ হয়ে এবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন এই তরুণ। আদিল ছিলেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার। তবে নিজেই সিদ্ধান্ত নেন, বল ছেড়ে গ্লাভস হাতে নেওয়ার। বলেছেন, ‘আমি বেশ ভাগ্যবান। পরিবার থেকে কোনো চাপ ছিল না। তবে আব্বু এক কথায় বলতেন, যেটাই করো মন দিয়ে করো। এবারের বিশ্বকাপ নিয়ে আমার প্রস্তুতি খুবই ভালো আছে। আমি এটা নিয়ে চিন্তিত না। আমার দিক থেকে আমি শতভাগ প্রস্তুত।’
যুব ওয়ানডে ম্যাচ : ১১, ইনিংস : ১১, রান : ২৮৩, সর্বোচ্চ : ৫৮, উইকেট : ০।
আরিফুল ইসলাম
অলরাউন্ডার কিশোরগঞ্জের ছেলে আরিফুলের শুরুটা টেপ টেনিস দিয়ে। দিনাজপুর বিকেএসপির ছাত্র। অনূর্ধ্ব-১৬ বিভাগীয় দলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে অনূর্ধ্ব-১৭ দলে ডাক পান, এতেই চলে আসেন বিসিবির দৃষ্টিতে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের শুরুতে আরিফুল পছন্দ করতেন আগ্রাসী ব্যাটিং। বেশির ভাগ ম্যাচই শেষ করে আসতেন তিনি। এ জন্য ‘ফিনিশার’ তকমাও সেঁটে যায় তার নামের সঙ্গে। তবে জাতীয় দলে এসে ভূমিকা বদলে যায়। নিয়মিত আর হাত ঘোরাতে হয় না তার, ব্যাটিং অর্ডার বদলে উঠে আসেন চার নম্বরে। নিজের ভূমিকা নিয়ে আরিফুল বলেন, ‘আমি যেখানে ব্যাট করি সেখানে মেরে খেলা যায় না, ধরে খেলতে হয়। দলের পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাট করতে হয়। আমি যদি এখানে ব্যর্থ হই, তাহলে দলের ক্ষতি হবে। দলের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে এই পরিবর্তন এনেছি। এখন সেভাবেই খেলি।’
যুব ওয়ানডে ম্যাচ : ৩৭, ইনিংস : ৩৫, রান : ১০৭১, সর্বোচ্চ : ১০৫*, উইকেট : ১৮।
