ফের চালু হচ্ছে করোনার টিকা

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:৩৭ এএম

দেশে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আবার করোনার টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য শিগগির দেশজুড়ে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ডোজ দিতে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত বুধবার এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর এবং কভিড-১৯ টিকা ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব ডা. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে ও অন্যকে সুরক্ষা দিতে সবার টিকা নেওয়া উচিত।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এ দফায় টিকার ক্ষেত্রে সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মী, ৬০ বছর এবং এর বেশি বয়সী জনগোষ্ঠী, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ১৮ বছর এবং তার চেয়ে বেশি বয়সী জনগোষ্ঠী, স্বল্পরোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী) জনগোষ্ঠী এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানীর আটটি কেন্দ্রে তৃতীয় ও চতুর্থ ডোজ হিসেবে ভিসিভি টিকা দেওয়া হবে। এই টিকা করোনার নতুন ধরন জেএন.১-সহ সব ধরনের বিরুদ্ধে কার্যকর। কেন্দ্রগুলো হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল ও ফুলবাড়িয়া সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল।

পরে ধাপে ধাপে ঢাকার বিভিন্ন বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট ও সরকারি হাসপাতাল, ঢাকার বাইরের সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জেলাপর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে টিকা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, করোনা টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে ফাইজার টিকা দেওয়া হবে।

প্রাথমিকভাবে মহাখালীর ডিএনসিসি কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নয়াবাজারে ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালে এই টিকা পাবে মানুষ।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, টিকা নিতে প্রত্যেককে টিকার কার্ড সঙ্গে আনতে হবে।

এ বছর ১ কোটি ২৫ লাখ মানুষ টিকা পাবে : এর আগে গত মঙ্গলবার করোনা টিকা দেওয়ার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন। রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আগামী ২ বছর আড়াই কোটি মানুষকে করোনা টিকার চতুর্থ ডোজ দেবে সরকার। এর মধ্যে এ বছর পাবে ১ কোটি ২৫ লাখ মানুষ ও বাকি ১ কোটি ২৫ লাখ মানুষ পাবে আগামী বছর।

সেদিন করোনা টিকার ব্যাপারে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে এপ্রিল মাসে। গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন-গ্যাভির কাছে টিকার চাহিদা দেওয়া হয়েছে। তারা টিকা সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে। আড়াই কোটি মানুষ এই টিকা পাবে। বর্তমানে কিছু টিকা মজুদ আছে। এ ছাড়া গ্যাভি জানিয়েছে, তারা এ বছর এক কোটি টিকা দেবে। বাকি টিকা আগামী বছর দেবে।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাতে এখনো করোনার কিছু টিকা আছে। ফাইজারের এই টিকা করোনার নতুন ধরন ‘জেএন১’-এর বিরুদ্ধেও কার্যকর। কাজেই ফ্রন্টলাইনার যারা, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি যাদের প্রতিনিয়ত জনসমাগমে যেতে হয়, তারা চাইলেই করোনাভাইরাসের টিকার চতুর্থ ডোজ নিতে পারেন। এই টিকার মেয়াদ আগামী বছর ০পর্যন্ত আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত