জীবনযাপন ঠিক না হলে চোট আসবেই

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:৫০ এএম

পেসার তালহা জুবায়ের জাতীয় দলের জার্সিতে সাতটি টেস্ট ও ছয়টি ওয়ানডে খেলেছেন। ইনজুরি বড় হতে দেয়নি সেই ক্যারিয়ার। এরপর মন দেন কোচিংয়ে। অদম্য পরিশ্রম ও নিরলস চেষ্টায় সুনাম কুড়িয়েছেন। সিঁড়ি পেরিয়ে দশম বিপিএলে খুলনা টাইগার্সের প্রধান কোচের ভূমিকায় দেখা যাবে এবার। সেসব নিয়েই আড্ডা দেন সামীউর রহমানের সঙ্গে

এর আগে ঢাকা ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে কাজ করেছেন, বয়সভিত্তিক দলে কোচিং করিয়েছেন, এবার খুলনার প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করবেন। নিজের কোচিং ক্যারিয়ার নিয়ে আপনার লক্ষ্য কী?

তালহা জুবায়ের : এর আগে আমি পেস বোলিং কোচ, অ্যাসিস্ট্যান্ট কোচ হিসেবে বিপিএলে কাজ করেছি। এবার কোনো দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করব। অবশ্যই এটা আমার ক্যারিয়ারের জন্য একটা বড় ধাপ। অবশ্যই চেষ্টা করব এখান থেকে যতখানি সম্ভব ভালো কিছু করার। একটা দলের রেজাল্ট কী হবে তার পেছনে কোচের অনেক বড় ভূমিকা থাকে। এ জন্য আমার দলের পরিবেশ ও ইতিবাচক ধারা যদি ধরে রাখতে পারি তাহলে দলের জন্যই ভালো হবে। আর নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে বললে এখনই আমি জাতীয় দল নিয়ে চিন্তা করছি না। তবে বিপিএলে প্রধান কোচ হিসেবে এমন কিছু করতে চাই, যাতে পরে অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে আমাকে নেওয়ার জন্য ডাক আসে। আমার পরের লক্ষ্যই এখন এটা।

ক্রিকেটার হিসেবে আপনার ক্যারিয়ারের শুরুটা খুব দারুণ ছিল। ইনজুরি সেটা বিকশিত হতে দেয়নি। একজন কোচ হিসেবে আপনার খেলোয়াড়দের ইনজুরি থেকে মুক্ত থাকতে কোন ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন?

তালহা জুবায়ের : এ বিষয়ে আমার পরামর্শের মধ্যে প্রথমেই থাকে খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি। এ ছাড়া লাইফস্টাইল, বিশেষ করে রাত না জাগা, অহেতুক আড্ডাবাজিতে সময় নষ্ট না করা, খেলার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুরো জীবন খেলার পেছনে উৎসর্গ করা। কারণ খেলোয়াড় হিসেবে আমরা সম্পূর্ণভাবে পেশাদার। এখনকার সময়ে পেশাদারিত্ব আগের তুলনায় অনেকগুণ বেড়ে গেছে। বয়সভিত্তিক বা জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে এ নিয়ে যখনই কথা হয় আমি বলি, যা-ই হোক না কেন নিজের শরীরের দিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু মাঠে এসে ফিটনেস নিয়ে কাজ করলেই হবে না, খাদ্যাভ্যাস, লাইফস্টাইল ঠিক না করলে ইনজুরি আসবেই। আর এই শিক্ষাটা আমার নিজের জীবন থেকে নেওয়া। খারাপ সময়ে মানুষ চেনা যায়। জীবনে অনেক বন্ধুর প্রয়োজন নেই। একজন ভালো বন্ধুই আপনার উন্নতির জন্য যথেষ্ট।

টি-টোয়েন্টি ম্যাচে একজন বোলার মাত্র ২৪টি ডেলিভারি করতে পারেন। এই ২৪টি ডেলিভারি দিয়ে তিনি কীভাবে ইমপ্যাক্ট রাখতে পারেন?

তালহা জুবায়ের : ক্রিকেট ইজ অ্যা গেম অব ব্যাটসম্যান। সবাই চার-ছক্কা দেখতেই পছন্দ করে। যেদিন একজন বোলার ভালো বোলিং করেন, সেদিনও প্রশংসার অনেকখানি উইকেটের ভাগে চলে যায়। বোলাররা অ্যাপ্রিসিয়েশন পায় খুবই কম। উইকেট পেতে কিছুটা ভাগ্যের সহায়তা দরকার। এ ছাড়া টি-টোয়েন্টি বোলারদের উচিত ওই ২৪ ডেলিভারিতে যত কম পরিমাণ সম্ভব রান দেওয়া।

আইপিএলে মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্সের পেছনে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে তাদের দলগুলো। এটা কি কেবল ব্র্যান্ডিং না একজন পেসারের ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা এর পেছনের কারণ। আপনি কী মনে করেন?

তালহা জুবায়ের : একজন পেসার অবশ্যই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন; বিশেষ করে কামিন্স-স্টার্কের মতো বোলাররা। তবে সেটা যে প্রতি ম্যাচেই ঘটবে, বিষয়টা এমন নয়। ফাইনাল ম্যাচে গিয়ে তার বাজে দিন হতেই পারে। কিন্তু হ্যাঁ, এমন প্রতিভার একজন বোলারের কাছ থেকে দলের ম্যাচ জেতানো নৈপুণ্যের প্রত্যাশা থাকে। সেমি বা ফাইনালে ভাগ্য প্রয়োজন হয়। তবে আসরজুড়ে ভালো করে ওই পর্যায়ে যেতে এমন খেলোয়াড় দলে প্রয়োজন হয়। অনেক দলের মধ্যে চাহিদা থাকায় এবার দামটা এত বেশিতে গিয়ে ঠেকেছে।

টি-টোয়েন্টির পেস বোলিংয়ে স্পিড, অ্যাকিউরেসি না ভ্যারিয়েশন, কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

তালহা জুবায়ের : অ্যাকিউরেসি। অবশ্যই অ্যাকিউরেসি। কারণ অনেক জোরে বা ভ্যারিয়েশন ডেলিভারি করার পরেও বোলার যদি ঠিক জায়গায় বল না করতে পারে, সফল হবে না। টি-টোয়েন্টিতে আনপ্রেডিক্টেবল বোলারের গুরুত্ব অনেক। কিন্তু ধরুন ডেথ ওভার পরিস্থিতিতে ইয়র্কার করতে গিয়ে বোলার যদি ফুলটস করে ফেলে, লেন্থে বল করাটা সেটা ক্ষমার অযোগ্য। তাই বোলারকে অবশ্যই অ্যাকিউরেট হতে হবে। আর ভ্যারিয়েশন না থাকলে তো এই পর্যায়ে একজন বোলার খেলতেই পারবেন না।

এখন বৈচিত্র্যময় বোলারের কদর করা হয়। ওয়াইড ইয়র্কার, নাকল ডেলিভারিতে ডট বল আদায় করা এগুলো কীভাবে দেখেন?

তালহা জুবায়ের : ম্যাচের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পুরো বিষয়। মাঠ, ব্যাটার কে, ওই সময়ের চাহিদা কী এগুলোর ওপর নির্ভর করে। বোলারকে ইউনিক হতে হবে। ব্যাক অব হ্যান্ড ব্রেট লি এনেছে, স্পিট ফিঙ্গার করেছিল শ্রীলঙ্কার ফার্নান্দো, মোস্তাফিজকে স্লোয়ার করা কেউ শেখায়নি। বোলারের নিজস্বতা থাকতে হবে। এরপরই ম্যাচেরই পরিস্থিতি বুঝে অ্যাকিউরেটলি সেই সব ভ্যারিয়েশন প্রয়োগ করে সফল হতে পারেন একজন বোলার।

বাংলাদেশ যুবদলের সঙ্গে ছিলেন আপনি। দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে প্রত্যাশা কী?

তালহা জুবায়ের : দলটাকে কাছ থেকে দেখায় আমি খুবই আশাবাদী; বিশেষ করে এশিয়ার কাপে দলগত অবদান দেখার পর থেকে। অ্যাগ্রেসিভ ব্যাটার, অ্যাটাকিং পেসার, অভিজ্ঞ স্পিনাররা আছে দলে। অধিনায়ক রাব্বী অনেক ভালো অবস্থায় আছে। তাই আমি দৃঢ় বিশ্বাসী, ওখান থেকে আমাদের যুবারা ভালো ফল নিয়ে আসবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত