২০১৯ সালে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের বিতর্কিত স্থানে রাম মন্দির তৈরির রায় দিয়েছিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে পাঁচ একর জমি দেওয়া হয়েছিল যেখানে তারা একটি মসজিদ তৈরি করতে পারবে।
মহা ধুমধামে ও ব্যাপক আয়োজনে ‘রামাজন্মা ভূমি তীর্থক্ষেত্র ফাউন্ডেশন’বাবরি মসজিদের বিতর্কিত জায়গাটিতে রাম মন্দির নির্মাণের প্রথম ধাপের কাজ প্রায় শেষ করতে চললেও মসজিদ নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত জমিটি এখনও ফাঁকা। মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরুর কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।
উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা শহর থেকে প্রায় পঁচিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তান্নিপুর গ্রামে মসজিদ নির্মাণের জন্য স্থান বরাদ্দ দিয়েছিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
মসজিদটি নির্মাণের জন্য ওয়াকফ বোর্ডের তৈরি সংস্থা ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশনকে (আইআইসিএফ) দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। ফাউন্ডেশনের উন্নয়ন কমিটির প্রধান হাজি আরাফাত শাইখ সম্প্রতি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘পবিত্র রমজান শেষ হওয়ার পর আগামী মে মাসে মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হবে। নির্মাণকাজ শেষ হতে তিন থেকে চার বছর লাগবে।’
২০১৯ সালের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট বিতর্কিত জমির মালিকানার রায় মন্দিরের পক্ষে দেন। রায় ঘোষণার কয়েক মাসের মধ্যেই রামমন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে যায়। আজ সোমবার রামমন্দির উদ্বোধন করা হচ্ছে।
রামমন্দির নির্মাণের জায়গা থেকে নতুন মসজিদ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা জায়গার দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। কিন্তু এখনো এর কাজ শুরু করা যায়নি। এমনকি মসজিদ নির্মাণে এখন পর্যন্ত তহবিলও সংগ্রহ করা হয়নি। আইআইসিএফের প্রেসিডেন্ট জুফার আহমদ ফারুকি বলেন, ‘আমরা কারও কাছে সাহায্য চাইনি। তহবিলের জন্য কোনো গণ-উদ্যোগও নেওয়া হয়নি।’
ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি আতহার হুসেন বলেছেন, মিনারসহ আরও কিছু ঐতিহ্যবাহী অংশ যুক্ত করতে মসজিদটির নকশা নতুন করে আঁকতে হয়েছে। এ কারণে কাজ শুরু হতে দেরি হচ্ছে। মসজিদ প্রাঙ্গণে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল স্থাপনেরও পরিকল্পনা আছে বলে জানান তিনি।
আইআইসিএফের উন্নয়ন কমিটির প্রধান এবং বিজেপি নেতা আরাফাত শাইখ বলেছেন, মসজিদটি নির্মাণে অর্থ সহায়তা চাইতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি ক্রাউড-ফান্ডিং (গণ-তহবিল সংগ্রহে) ওয়েবসাইট চালু করা হবে।
আরাফাত শাইখ বলেন, ‘মানুষের মধ্যকার শত্রুতা ও বিদ্বেষকে একে অপরের প্রতি ভালোবাসায় পরিণত করতেই আমরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। কেউ সুপ্রিম কোর্টের রায় গ্রহণ করেছে কি না, তা এ ক্ষেত্রে বিবেচনার বিষয় নয়। আমাদের সন্তানদের ও জনগণকে যদি ভালো কিছু শেখাতে পারি, তবে এসব লড়াইয়ের অবসান হবে।’
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নামানুসারে মসজিদটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মসজিদ মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ’।
মোগল সম্রাট বাবরের সেনাপতি মীর বাঁকি ১৫২৮ সালে অযোধ্যায় মসজিদ তৈরি করেন, যা পরবর্তী সময়ে বাবরি মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে। মূলত বাবরি মসজিদের নামকরণ করা হয়েছিল মুঘল সম্রাট বাবরের নামানুসারে।
তবে হিন্দুদের দাবি, রাম জন্মভূমিতে ‘রামের মন্দির ভেঙে’ মসজিদটি তৈরি করা হয়েছে। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর করসেবকদের হামলায় মসজিদটি ধ্বংস হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতজুড়ে দাঙ্গা দেখা দেয়। তাতে দুই হাজার মানুষ নিহত হন, যাঁদের বেশির ভাগই সংখ্যালঘু মুসলমান।
