সোমালিয়াকে হুমকি দিলে ‘দেখে নেবে’ মিসর: সিসি

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:২২ পিএম

সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে সমুদ্র ব্যবহারের পথ তৈরির ইঙ্গিত দিয়েছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া। এরপর সোমালিয়ার পক্ষে বার্তা দিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ আল সিসি। তিনি বলেছেন, সোমালিয়ার ওপর হুমকি মেনে নেবে না মিসর।

সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি ইথিওপিয়ার প্রতি মিসর বা মিসরের সঙ্গে ভ্রাতৃপ্রতীম সম্পর্ক আছে এমন কারো সঙ্গে টক্কর না দেয়ার আহ্বান জানান। সোমবার (২২ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম ডয়চে ভেলে।

মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসি রবিবার ইথিওপীয়দের উদ্দেশে বলেছেন, সোমালিয়াকে কেউ হুমকি দিলে বা দেশটির নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করলে মিসর তা সহ্য করবে না।

একসময় ব্রিটেনের অভিভাবকত্বে থাকা সোমালিল্যান্ড ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। নিজস্ব সরকার, নিরাপত্তা বাহিনী এবং মুদ্রা থাকলেও তাদের স্বীকৃতি দেয়নি আন্তর্জাতিক বিশ্ব।

সম্প্রতি ইথিওপিয়া জানিয়েছে, একটি সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের সুযোগের বিনিময়ে সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিতে পারে দেশটি। সেক্ষেত্রে সোমালিল্যান্ডের আওতায় থাকা এডেন উপসাগরের ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রতট আগামী ৫০ বছরের জন্য ব্যবহারের সুযোগ পাবে ইথিওপিয়া।

তবে ইথিওপিয়া ও সোমালিল্যান্ডের মধ্যকার এই সমঝোতা স্মারকটিকে গত ১ জানুয়ারি ‘আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে সোমালিয়া। সোমালি প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বলেন, আমরা চুপ থেকে আমাদের সার্বভৌমত্ব বিপদগ্রস্ত হওয়া দেখব না। তারা ইথিওপিয়াকে ‘অবৈধ’ সমঝোতা থেকে সরে আসতে এবং ‘সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করতে’ আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে আল সিসি ইথিওপিয়াকে বিচ্ছিন্ন অঞ্চলটির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে দেশটির সঙ্গে কায়রোর উত্তেজনা নতুন নয়।

ইথিওপিয়ার নীল নদকেন্দ্রিক মেগা প্রকল্প ‘গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ বাঁধ’ তৈরি নিয়ে গত এক দশক ধরে মিসরের সঙ্গে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দেশ দুটি এবং সুদানের মধ্যে এ সংক্রান্ত আলোচনা এখনও কোনও ফল বয়ে আনতে পারেনি। ফলে কায়রো পানি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত