নীলনদ বিরোধে ট্রাম্পের মধ্যস্থতাকে সমর্থন জানাল মিসর ও সুদান

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:০৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীল নদের গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ সমাধানের মধ্যস্থতা প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে মিসর ও সুদান ।

মিসরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসি নদীকে 'মিসরীয় জনগণের জীবনধারা' হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্পের আগ্রহের প্রশংসা করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে নীল নদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি সিসি ট্রাম্পকে একটি চিঠি পাঠিয়ে মিসরের অবস্থান এবং পানি নিরাপত্তা সম্পর্কিত উদ্বেগ তুলে ধরেছেন।

অন্যদিকে, সুদানের জাতিসংঘ সমর্থিত সামরিক বাহিনীর নেতা আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানও এক্সে দেওয়া পোস্টে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের মধ্যস্থতা প্রস্তাবকে সুদান স্বাগত এবং সমর্থন করছে। তিনি বলেন, 'উদ্যোগের লক্ষ্য হলো এমন টেকসই ও গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করা যা সব পক্ষের অধিকার সংরক্ষণ করবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করবে।'

নীল নদ আফ্রিকার দীর্ঘতম নদী এবং এটি ১১টি দেশ অতিক্রম করে প্রবাহিত হয়। ইথিওপিয়া সেপ্টেম্বর মাসে ১৪ বছরের নির্মাণকাজের পর ব্লু নাইলে গ্র্যান্ড রেনেসাঁ ড্যাম উদ্বোধন করেছে। তবে পানি ব্যবস্থাপনা ও ভর্তি কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভাটির দেশ মিসর ও সুদানের সঙ্গে ইথিওপিয়ার বিরোধ চলছে। দুই দেশই বৈধ ও বাধ্যতামূলক ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আহ্বান জানিয়ে আসছে।

নীল নদকে কেন্দ্র করে মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন ও প্রভাবশালী মিসরীয় সভ্যতা গড়ে ওঠে। এটি মূলত নদীর তীরে বিকশিত হয় এবং খ্রিস্টপূর্ব ৩১০০ থেকে ৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার বছর ধরে সমৃদ্ধি অর্জন করে। শেষপর্যন্ত খ্রিস্টপূর্ব ৩০ সালে রানি ক্লিওপেট্রার আমলে নদীভিত্তিক মিসর রোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত