যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সোমালিয়ার নাগরিকদের ডিপোর্টেশন সুরক্ষা (টেম্পোরারি প্রটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস) বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দেওয়া এই ঘোষণার ফলে, যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ীভাবে বসবাস, কর্মরত বা রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা সোমালি নাগরিকদের আগামী মার্চ মাসের মধ্যে দেশ ছাড়তে হবে।
১৯৯০ সালে চালু হওয়া টিপিএস মূলত যুদ্ধ বা অনিরাপদ পরিস্থিতির কারণে ফেরত পাঠানো অনুচিত দেশের নাগরিকদের রক্ষা করতে দেওয়া হয়। এই সুবিধা প্রাপ্তরা সাধারণত আইনিভাবে বসবাস ও কাজ করতে পারেন এবং প্রত্যাবর্তন থেকে মুক্ত থাকেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে প্রায় ২৫০০ সোমালি নাগরিক কাজের অনুমতি ও আইনি স্থিতি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন।
মিনিয়াপোলিস থেকে এএফপি জানিয়েছে, এটি অভিবাসী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর অভিযানের অংশ, বিশেষ করে মিনেসোটার রাজধানী অঞ্চলে যেখানে বড় একটি সোমালি সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের তল্লাশি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
মানবাধিকার ও বিক্ষোভ সংগঠনগুলো এই নীতিকে পক্ষপাতদুষ্ট ও বৈষম্যমূলক হিসেবে সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, সোমালিয়া এখনও ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে, তাই নাগরিকদের দেশে ফেরানো বিপদজনক হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযান কেবল টিপিএস বাতিলেই সীমাবদ্ধ নয়। সরকারি সহায়তা জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি অভিযান জোরদার হয়েছে। ফেডারেল সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, ৯৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮৫ জনই সোমালি বংশোদ্ভূত। ৩০০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি অনুদান জালিয়াতির দায়ে ইতিমধ্যেই ৫৭ জন দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
কংগ্রেসের প্রথম সোমালি-আমেরিকান সদস্য ইলহান ওমর বলেছেন, 'ট্রাম্প প্রতিদিন সোমালিদের ভয় দেখাতে চাইছেন। কিন্তু তারা ভয় পায় না।' আইন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সোমালি টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এবং এটি ন্যায়বিচার আদালতে নিয়েও যাওয়া হতে পারে।
