রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি মো. নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সহকর্মী এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুর পৌনে ১২টায় বিভাগের ৪৬৪তম অ্যাকাডেমিক কমিটির সভা চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে। সভা চলাকালীন বিভাগীয় সভাপতি উত্তেজিত হয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষকের গলা চেপে ধরেন। এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিভাগীয় সভাপতি মো. নুরুজ্জামান।
ভুক্তভোগী শিক্ষক জানিয়েছেন, আজ দুপুরে অ্যাকাডেমিক কমিটির সভায় বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের পরীক্ষা কমিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা কমিটিতে সভাপতিসহ মোট পাঁচজন সদস্য থাকে। তাদের মধ্যে একজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে নিয়ে আসা হয় (এক্সটার্নাল শিক্ষক)। সাধারণত পরীক্ষা কমিটির সভাপতি পছন্দ অনুযায়ী এক্সটার্নালের নাম সুপারিশ করেন। এটি বিভাগের প্রচলিত নিয়ম।
তবে বিভাগীয় সভাপতি পরীক্ষা কমিটির সভাপতির সুপারিশ না নিয়ে আগেই একজন এক্সটার্নাল শিক্ষককে কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। পরীক্ষা কমিটির সভাপতি এই বিষয়টি নিয়ে সভায় আপত্তি জানান। সভার এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী শিক্ষকের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সভাপতি তার চেয়ার থেকে তেড়ে এসে ভুক্তভোগী শিক্ষকের গলা চেপে ধরেন। পরে উপস্থিত শিক্ষকরা তাকে থামান। পরে সেখানেই সভার সমাপ্তি ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক বলেন, সিদ্ধান্তটি নিয়ে পরীক্ষা কমিটির সভাপতির পক্ষ নিয়ে কথা বললে তার সঙ্গে আমার তর্ক হয়। পরে তিনি চেয়ার ছেড়ে তেড়ে এসে আমার গলা চেপে ধরেন। আমি পাল্টা আক্রমণ না করে তাকে নিষেধ করি। তবুও তিনি আমাকে ফের মারার চেষ্টা করেন। পরে উপস্থিত শিক্ষকরা তাকে থামান। এতে আমি প্রচণ্ডভাবে অপমানিত হয়েছি। এর আগেও একজন শিক্ষক ও ছাত্রকে লাঞ্ছিত করেছেন তিনি। তার কাছে কোনো সহকর্মী নিরাপদ নয়। এই পদে থাকার তার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষক একটু উঁচু গলায় কথা বলেছেন। মিটিংয়ে সাধারণত এমন হয়েই থাকে। তবে বিভাগের সভাপতির উচিত হয়নি তাকে লাঞ্ছিত করার। তাও ভালো ভুক্তভোগী শিক্ষক কোনো পাল্টা আক্রমণ করেননি। যদি হতো তাহলে বিষয়টি অন্য দিকে মোড় নিত।’
এ বিষয়ে বিভাগের সভাপতি মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
