জার্মানি রাজনীতিতে ‘অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)’ যেন ইউরোপ মহাদেশের রাজনৈতিক দ্বিধার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। একদিকে ডানপন্থি মনোভাবাপন্ন মানুষের দিক থেকে দলটি বিপুল সমর্থন পাচ্ছে। তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নাৎসিবাদ, ফ্যাসিবাদের মিশেলে গড়া চরম ডানপন্থি। তবে এ-ও সত্যি, জার্মানিতে স্মরণকালের অন্যতম বড় বিক্ষোভ হয়েছে তাদের বিরুদ্ধেই।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এএফডির জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে।
নীতিগতভাবে এএফডি নাৎসিদের প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করতে চায় না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জোট থেকে বের হয়ে আসতে চায়। দলটির নেতা বিয়র্ন হ্যোকে একবার বলেছিলেন, ‘ইইউ জোটকে মারতে হবে যেন সত্যিকারের ইউরোপ বঁাঁচতে পারে।’ এএফডির প্রেস অফিসার হিসেবে এক সময় কাজ করা নেতা ক্রিস্টিয়ান ল্যুথ একবার অভিবাসীদের গুলি করার কথা বলেছিলেন। এএফডির পেছনে এখন যথেষ্ট জনসমর্থন রয়েছে। আর জার্মানির ১৬টি রাজ্যের মধ্যে তিনটিতে এই দলকে চরম দক্ষিণপন্থি দল বলা হয়েছে।
এ অবস্থায় জার্মানির পার্লামেন্টে এখন এএফডির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা করছে। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজের নেতৃত্বাধীন সরকারের তিন শরিক এসপিডি, এফডিপি ও গ্রিন পার্টি। তারা এএফডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে একমত।
ফেডারেল সাংবিধানিক আদালত কোনো দলকে নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে অতি কঠিন মানদণ্ড রয়েছে। সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ান পেস্তালোজ্জা জানান, কোনো দলকে নিষিদ্ধ করতে হলে আদালতে প্রমাণ করতে হবে যে, ওই দলটি লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট শক্তি সঞ্চয় করেছিল।
তবে হ্যাঁ, এএফডির আর্থিক সুবিধায় লাগাম টানা যেতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর চাঁদা উত্তোলনের পাশাপাশি প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ অনুযায়ী সরকারি বা রাষ্ট্রীয় সাহায্য পায়। এএফডি এখন এক কোটি ইউরো রাষ্ট্রের কাছ থেকে পায়।
এদিকে এএফডির নেতা বাউম্যান বলেছেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের গণতন্ত্রবিরোধী বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
