অপহৃত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান হিমেলকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে র্যাব। এসময় তাকে অপহরণের পর নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় চক্রের মূলহোতা মালেকসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
র্যাব বলছে, গ্রেপ্তার মালেক হিমেলের মাকে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার থেকে ফোন করে প্রথমে ২ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং তার ছেলেকে পাশবিক কায়দায় নির্যাতনের ভিডিও পাঠায়। পরে পর্যায়ক্রমে ১ কোটি তারপর ৫০ লক্ষ তারপর ৩০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করে মালেক। মুক্তিপণের টাকা না পেলে হিমেলের হাত-পা কেটে ফেলা ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।এসময় তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, হিমেলের মা অপহরণকারীদেরকে মুক্তিপণের টাকা দিতে সম্মত হলে তাকে ২৩ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে আসতে বলে। তিনি বিষয়টি র্যাবকে অবহিত করেন। পরে র্যাবের একটি দল সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তারা র্যাবের ওপর ছুরি দিয়ে হামলা চালায়। এতে একজন কর্মকর্তাসহ দুইজন র্যাব সদস্য আহত হন। এসময় মালেক ও ছামিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পাহাড়ি টিলা এলাকা থেকে হিমেলকে উদ্ধার এবং অপহরণ চক্রের সদস্য রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় অপহরণ চক্রের ২ জন সদস্য পালিয়ে যায়। মালেকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর উত্তরা থেকে রাসেল ও বিল্লালকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, অপহরণ চক্রের মূলহোতা মালেক এবং অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছামিদুল। গ্রেপ্তার ছামিদুল হিমেলের বাসায় ৪ বছর যাবত গাড়ি চালক হিসেবে চাকরি করায় তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল। তাদের পারিবারিক আর্থিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানত ছামিদুল। গত ১৬ ডিসেম্বর মালেকের নেতৃত্বে উত্তরার একটি জায়গায় সমবেত হয় অপহরণকারীরা। এসময় মালেক ও ছামিদুল হিমেলকে অপহরণ করে তার পরিবারের নিকট থেকে বিপুল অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনার বিষয়টি তাদের অন্যান্য সহযোগীদের জানান। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার ছামিদুল হিমেলকে শেরপুরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাটারি বিক্রয়ের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে হিমেলকে শেরপুরে যেতে আগ্রহী করে। গত ২৬ ডিসেম্বর সকাল আনুমানিক ৯টায় ভুক্তভোগী শেরপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করলে ছামিদুল বিষয়টি মালেককে জানায়।
র্যাব আরও জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী মালেক ও অন্যান্য সহযোগীরা ৩/৪টি মোটরসাইকেলে করে হিমেলের গাড়ি অনুসরণ করতে থাকে। গাজীপুরের সালনায় এলাকায় পৌঁছালে গ্রেপ্তারকৃতরা মোটরসাইকেল দিয়ে গাড়িটির পথরোধ করে। সন্ধ্যার দিকে তারা ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী এলাকা ধোবাউড়ায় পৌঁছায়। পরে রাসেল ও বিল্লাল তাদেরকে ধোবাউড়ায় পৌঁছে দিয়ে গাড়িটি গাজীপুরের বাসন এলাকায় এনে রাখে। পরে বিল্লাল ময়মনসিংহ চলে যায় আর রাসেল উত্তরাতে ভুক্তভোগীর মায়ের গতিবিধি অনুসরণ করতো বলে জানা যায়।
ধোবাউড়ায় ৩ দিন থাকার পর মালেক, ছামিদুল ও অপহরণ চক্রের অন্যান্যরা হিমেলকে নিয়ে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় চলে আসে। রনি তাহিরপুরের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা ও রাস্তাঘাট ভালভাবে চিনতো। তারা হিমেলকে নিয়ে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় পরিবর্তন করে অবস্থান করতে থাকে। এসময় তারা হিমেলকে পাশবিকভাবে নির্যাতন করে এবং তার ভিডিও ধারণ করে।
