ইমান ও সৎ কাজের গুরুত্ব

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:১৪ এএম

মানুষ অতি সুন্দর। মানুষকে অতি উত্তম আকৃতিতে সৃষ্টি করা হয়েছে। তার আকার, আকৃতি ও গঠন অতি সুন্দর, তার মুখমণ্ডল, চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, হস্ত, পদ সবকিছুই সুন্দর, আকর্ষণীয়, মোহনীয় করে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সুন্দরতম গঠনে, অতঃপর আমি তাকে হীনদের হীনতম স্তরে ফিরিয়ে দিই। কিন্তু তাদের নয়, যারা ইমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে।’ (সুরা আত-ত্বীন : ৪-৫)

কোরআন মাজিদের এ বর্ণনা নিয়ে হাদিস ও তাফসিরের কিতাবে বিস্তর আলোচনা রয়েছে। এ আয়াত সংশ্লিষ্ট আলোচনায় রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য অনেক শিক্ষা। কারণ যে মানুষ সর্বোত্তম আকৃতিতে সৃষ্টি, সে মানুষই আবার নিকৃষ্টতম সৃষ্টিতে রূপান্তরিত হয় ইমান না আনার কারণে। ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘মানুষ যখন জাহান্নামের অধিবাসী হয়, যদি সে আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.)-এর আনুগত্য না করে থাকে। এ কারণেই যারা ইমান এনেছে ও ভালো কাজ করেছে তাদের পৃথক করে নেওয়া হয়েছে।’

আসলে বিশ্বাসগতভাবে কোনো মানুষ যদি অধঃপতিত হয়, তাহলে সে মানুষটি নেমে যায় নিকৃষ্টতম সৃষ্টিতে। তার এ নিকৃষ্টতম হওয়া থেকে রক্ষা পেতে হলে তাকে দুটি কাজ করতে হবে ইমান আনতে হবে এবং সৎকাজ করতে হবে। ইমান আনলে এবং সৎকাজ করলে সে বাহ্যিকভাবেও যেমন পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র থাকে, পরিমার্জিত জীবনযাপন করে, ভালো কথা বলে এবং অশালীন আচরণ করে না; মিথ্যা, প্রতারণা, শঠতা, ঠকবাজি, গিবত, শত্রুতা, পরনিন্দা করে না; ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করে না; হত্যা, রাহাজানি, চুরি, ডাকাতি করে না; তেমনি অন্তর্নিহিতভাবেও সে ভালো থাকে, সে সবসময় উন্নত ও কল্যাণ চিন্তা করে, পরোপকারের চিন্তা করে; সে অন্যায় কাজ থেকে, অন্যের ক্ষতি সাধন থেকে বিরত থাকে; সে সবসময় মানুষকে ন্যায়ের পথে, শান্তির পথে, কল্যাণের পথে তথা আল্লাহর পথে আনার চিন্তায় নিমগ্ন থাকে। মানুষের জীবন চেষ্টা-পরিশ্রম সাপেক্ষ, কষ্ট সাপেক্ষ। যেমন মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি কষ্ট ও পরিশ্রমের মধ্যে।’ (সুরা আল বালাদ : ৪)

মানুষ এমন একটি সৃষ্টি যে দুনিয়া এবং আখেরাতে কষ্টের সম্মুখীন হতে হবে এবং আরও বলা হয়েছে, সে কঠোরতা এবং কষ্টের সম্মুখীন। এর অর্থ হলো, মানুষ তার পার্থিব জীবনে এবং তার জীবন চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে বা তার ভালো-মন্দ বুঝ হওয়া থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নানাবিধ কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়।

ইসলামি স্কলাররা বলেন, একজন ইমানদার ব্যক্তি দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হবে, কিন্তু এতেও তার জন্য অনেক কল্যাণ রয়েছে। কেননা এটা তাকে ধৈর্য ধারণ করতে সাহায্য করে, তাকে কৃতজ্ঞতা ও বিনয় প্রকাশ ও সর্বদা ইবাদত-বন্দেগি করতে সাহায্য করে। প্রত্যেকটি কাজের জন্য তাকে পরিশ্রম করতে হয়, তার রিজিক চেষ্টা সাপেক্ষ, পশু-পাখি ও অন্যান্য প্রাণী সারা বছরের জন্য খাদ্য সঞ্চয় করে রাখে না, প্রয়োজনও হয় না। কিন্তু মানুষের খাদ্য সংরক্ষণ করতে হয়। তার দৈনন্দিন জীবনের জন্য অনেক প্রস্তুতি নিতে হয়। অন্য প্রাণীদের তেমন প্রয়োজন হয় না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত