পাকিস্তানে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। পুরোদমে প্রচারণা চালাচ্ছে নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল-এন) ও বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। কিন্তু নির্বাচনপূর্ব প্রায় সব জরিপে এগিয়ে থাকা জনপ্রিয় দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে নেই বললেই চলে। দলটির নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আছেন কারাগারে, দলত্যাগ করেছেন অনেকে, দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘ব্যাট’ বাতিল করেছে পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন। এদিকে আল জাজিরা খবর দিয়েছে ইমরান খান ও তার দলের খবর প্রচারে ব্যাপক সেন্সরের নির্দেশ এসেছে দেশটির সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী সামরিক বাহিনীর তরফ থেকে। এবার অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তান থেকে পিটিআইয়ের ওয়েবসাইটে ঢোকা যাচ্ছে না।
পিটিআই জানিয়েছে, ভোটারদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূর করতে ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট তথ্য সহজে দিতে তারা তাদের ওয়েবসাইট ইনসাফডটপিকে অনলাইন পোর্টাল চালু করেছে। পিটিআই ক্যান্ডিডেটস ডটকম নামেও তাদের একটি সাইট রয়েছে। এই ওয়েবসাইটে এমন ফিচারও রয়েছে, যাতে ভোটাররা ইমরান খানের অফিশিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পিটিআই–সমর্থিত প্রার্থীদের বিষয়ে তথ্য জানতে পারবেন।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন-এর কর্মীরা গতকাল শুক্রবার পিটিআইয়ের ওয়েবসাইটে ঢোকার চেষ্টা করেন। তবে ওয়াই–ফাই অথবা মোবাইল ফোনের ডেটা দিয়ে তারা পিটিআই ওয়েবসাইটে ঢুকতে পারেননি। কেবল ভিপিএন দিয়ে সাইটে ঢোকা গেছে।
পিটিআইয়ের এক্স অ্যাকাউন্টে পাকিস্তান টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষকে (পিটিএ) ট্যাগ করে অন্তর্বর্তীকালীন তথ্যমন্ত্রী মুর্তজা সোলাঙ্গি বলেছেন, ‘পিটিআইয়ের ওয়েবসাইট পাকিস্তানে কেন বন্ধ, আপনি কি ব্যাখ্যা করতে পারেন?’
এক সংবাদ সম্মেলনে পিটিএর মহাপরিচালক আহমেদ শামিম পীরজাদা বলেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও সিস্টেম আপগ্রেডের কারণে এ ধরনের সমস্যা হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন মাস এই সমস্যা থাকতে পারে বলে তিনি জানান।
শুধু ওয়েবসাইট নয়, সম্প্রতি পিটিআইয়ের বেশ কিছু অনলাইন কর্মসূচি চলার সময়ও ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হতে দেখা যায়। ২০ জানুয়ারি পিটিআইয়ের ভার্চ্যুয়াল পাওয়ার শো শুরুর এক ঘণ্টা আগে ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হয়। এর আগে ১৭ ডিসেম্বর ও ৭ জানুয়ারি একইভাবে ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হয়। ইন্টারনেট স্থগিতাদেশ বিষয়ে নোটিশ দিতে পিটিআই সুপ্রিম কোর্টকে অনুরোধ জানিয়েছে।
এদিকে এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটের আগে প্রধান দলগুলো ইশতেহার ঘোষণা করে প্রচারণায় তুমুল ব্যস্ত হলেও নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে না ক্রিকেট তারকা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ইমরান খানের দলকে। এমনকি দেখা যাচ্ছে না ইমরানের ছবিযুক্ত কোনো পোস্টার কিংবা ব্যানার।
মিডিয়াতেও ‘মাইনাস’ ইমরানের দল পিটিআই!