মিয়ানমার সীমান্তে সীমান্তরক্ষীরা সতর্ক আছেন : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:২২ এএম

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন। দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ সময় দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) গাজায় গণহত্যা বন্ধের নির্দেশকে স্বাগত জানান তিনি।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।

যুক্তরাজ্যের হাউজ অব কমন্সের ‘অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ অন বাংলাদেশ’র ভাইস চেয়ার লেবার পার্টির এমপি বীরেন্দ্র শর্মার নেতৃত্বে চারজন এমপিসহ ৮ সদস্যের প্রতিনিধিদল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

রাখাইনে চলমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের অবস্থান প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই উত্তেজক পরিস্থিতি কিছুদিন ধরেই চলছে। আমাদের সীমান্তরক্ষীরা অনেক আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে আছেন। আমরা এ বিষয়ে সব সময়ই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছি। আমরা মনে করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে যদি মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়, তাহলে তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাধ্য হবে।’

নতুন করে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করা হবে কি না এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার কারণে ইতিমধ্যেই আমরা ভারাক্রান্ত। প্রতিবছর ৩৫ হাজার করে রোহিঙ্গা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। মানবিক কারণে তখন আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিলাম। আমরা মনে করি, মিয়ানমারের পরিস্থিতি উন্নয়নের মাধ্যমে এই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।’

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সমস্যার একমাত্র স্থায়ী সমাধান। তারাও আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। কিছুদিন আগে ন্যাম সামিটে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে যে আলোচনা হয়েছিল, সেটিও আজকের বৈঠকে আমাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। দেশটি বাংলাদেশের বড় উন্নয়ন অংশীদার। আমাদের দেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিনিয়োগ রয়েছে ইউকের। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ এমপিরা সফরে এসেছেন। এ দেশের সংসদের সঙ্গে ইউকে সংসদের সম্পর্ক আরও বৃদ্ধিও এই সফরের উদ্দেশ্য।’

বাংলাদেশে ইউকের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কৃষি এবং আইসিটি খাতে বিনিয়োগ করার যে সুযোগ রয়েছে, এ বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ দুটো খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার সামর্থ্য রাখেন এবং অনেকের মধ্যে বিনিয়োগের আগ্রহও তৈরি হয়েছে।’

দক্ষিণ আফ্রিকার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিস্তিনের গাজায় গণহত্যার বিষয়ে আইসিজে রায় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এ রায়কে আমরা ইতিমধ্যে সমর্থন জানিয়েছি। আমরা মনে করি, ফিলিস্তিনি যে গণহত্যা হচ্ছে, মানবতার বিরুদ্ধে যে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে সেটি বন্ধ করার ক্ষেত্রে এ রায় সহায়ক হবে। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ এ বিষয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতি কূটনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। আমরা আশা করি, ইসরায়েল আইসিজের রায় মেনে চলবে এবং গণহত্যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।’

পাঁচ দিনের সফরে আসা প্রতিনিধিদলে যুক্তরাজ্যের হাউজ অব কমন্সের অন্য সদস্যরা হলেন কনজারভেটিভ পার্টির এমপি ও সাবেক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতি মন্ত্রী পল স্কালি, লেবার পার্টির এমপি ও পররাষ্ট্রবিষয়ক সিলেক্ট কমিটির সদস্য নিল কোয়েল, বিরোধীদলীয় হুইপ লেবার পার্টির এন্ডু ওয়েস্টার্ন।

প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন হাউজ অব কমন্সের সিনিয়র পার্লামেন্টারি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডোমিনিক মোফিট, কুইনস কমনওয়েলথ ট্রাস্টের উপদেষ্টা ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান কানেক্ট চেয়ারম্যান জিল্লুর হুসেইন ও কানেক্টের প্রধান নির্বাহী ড. ইভলিনা বানায়ালিভা এবং কমনওয়েলথ এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিলের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. সুমন চৌধুরী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত