দেশের নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ অপরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে। এ জন্য পরিকল্পিত ও টেকসই নগরায়ণ গড়ে উঠছে না। সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হলেও তা বাস্তবায়নে তেমন কোনো আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে না। এমন অভিমত জানিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।
গতকাল শনিবার রাজধানীর প্ল্যানার্স টাওয়ারে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)’ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্থানিক পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন : আমার চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।
পরিকল্পনাবিদরা বলেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন করতে হলে যেকোনো দেশের আগে জাতীয় পর্যায়ে স্থানভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হয়। সেখানে নির্দেশনা থাকবে দেশের কোন এলাকায় কী ধরনের উন্নয়ন করা যাবে। ভূমি, জলাশয়, পরিবেশ বিবেচনায় রেখে ওই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। এরপর অঞ্চল পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হয়। সর্বশেষ এলাকাভিত্তিক বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে এর আলোকে যেকোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এসব নিয়মের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।
তারা বলেন, স্বাধীনতার অর্ধশত বছরেও দেশে স্থানভিত্তিক (স্থানিক) পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়নি। অথচ সরকার ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ প্রণয়ন করেছে। সিটি ও পৌরসভা এলাকায় প্রায় ৩০০টি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। কিছু বাস্তবায়নেরও চেষ্টা করা হচ্ছে। গ্রামে নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দিতে ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ প্রকল্পের আওতায় গ্রাম এলাকার মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। দেশের কেন্দ্রীয় স্থানিক পরিকল্পনা না থাকায় এসব মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সুফল মিলছে না। বিআইপির সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তার বিগত মেয়াদকালে অন্তত ১০টি একনেক সভায় নির্দেশনা দিয়েছেন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা ছাড়া কোনো প্রকল্প প্রস্তাব না করতে। এরপরও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।’ তিনি মনে করেন, পরিকল্পনা কমিশনে যারা এগুলো করছেন, তারা আমলা। দক্ষতা নেই বলে তাদের দিয়ে এসব কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। বিআইপির যুগ্ম সম্পাদক তামজিদুল ইসলাম বলেন, স্থানিক পরিকল্পনাকাঠামোর মাধ্যমে সরকারের অনেক অর্থের সাশ্রয় হবে।
সংগঠনের বোর্ড মেম্বার তামান্না বিনতে রহমান বলেন, সরকারের কাছে মতামত পৌঁছানোর জন্য পরিকল্পনাবিষয়ক স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজন। বোর্ড মেম্বার মো. আবু নাইম সোহাগ বলেন, পরিকল্পনাবিদদের মূল্যায়ন করে পরিকল্পনাগত কাজে তাদের যুক্ত করা উচিত। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিআইপির বোর্ড সদস্য উসওয়াতুন মাহেরা খুশি, হোসনে আরা আলো, মো. ফাহিম আবেদীন, এ কে এম রিয়াজ উদ্দীন, আমিনুল ইসলাম কাইয়ুম।
