ডালাসে টাইগাররা টেরই পাবে না যে বিদেশের মাটিতে এসেছে!

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:০৪ পিএম

হংকংয়ের নাম শুনলেই আমাদের চোখে ভাসে জ্যাকি চ্যান। কুংফু কারাতের দেশ। ওরা যখন ক্রিকেট খেলে স্বাভাবিকভাবেই মনে আসে প্লেয়ারদের নাম হবে চ্যাং ব্যাং ধরনের কিছু। কিন্তু দেখা যায় ওদের খেলোয়াড়রা বেশির ভাগই মোহাম্মদ অমুক বা তমুক পাটেল। 

তেমনি আমেরিকার নাম শুনলে আমাদের মাথায় আসে হলিউডের অ্যাকশন সিনেমা, বা ডাব্লিউডাব্লিউই রেসলিং। ক্রিকেট দলের নাম শুনলে ভাবি সাদা চামড়ার খেলোয়াড়রাই কেবল খেলবে। বাস্তবে দেখা যায় আমাদের উপমহাদেশীয় খেলোয়াড়রাও খেলেন। 

এ থেকে আমেরিকা সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়। দেশটা সবার। বিশ্বের এমন কোন জাতি নাই যার কোন প্রতিনিধি এ দেশে নাই। জাতিগতভাবেই এরা পৃথিবীর সব দেশের সব সভ্যতাকেই স্বাগত জানায়। গত এক শ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব শাসন করার অন্যতম কারণ এটি। “দশে মিলে করি কাজ" তত্ত্বে বিশ্বাস। 

আমেরিকা বেসবল, বাস্কেটবল আর আমেরিকান ফুটবলের জন্য বিখ্যাত। অলিম্পিকে চায়নার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সোনা জেতে। ফুটবল, যেটাকে এরা “সকার” বলে, এটি এখানে “মেয়েদের খেলা।” মেয়েদের সকারে এরা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দল। বহুবার বিশ্ব শিরোপা ঘরে তুলেছে। পুরুষ সকার দলের পারফরম্যান্সও খারাপ না। বিশ্ব আসরে নিয়মিতই প্রশংসা কুড়াচ্ছে। 

ডালাসের গ্যালারি থেকে সাবাশ বাংলাদেশের গর্জন মিরপুর থেকেও শোনা যাবে।

সেদিক দিয়ে ক্রিকেট এদের কাছে অতি অপরিচিত একটি খেলা ছিল। বাক্যটি অতীত কালে বললাম, কারণ বর্তমানে দৃশ্যপট পাল্টাচ্ছে। প্রচুর উপমহাদেশীয় অভিবাসীর ফলে এখানকার মাঠে, পার্কে, ইনডোরে ক্রিকেট খেলতে দেখা যায়। টেপ টেনিস থেকে শুরু করে লেদার বল ক্রিকেটের লীগ হয়, প্রচুর দল অংশ নেয় এবং অনেক মানসম্পন্ন খেলা হয়। 

একটা সময়ে যে আমেরিকানরা বলতো “পাঁচ দিন ধরে যে খেলা চলে এবং যার রেজাল্ট ড্র হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, এমন গেম কেন দেখব?” সেই একই আমেরিকানরা এখন টি-২০তে থ্রিল খুঁজে পাচ্ছে। 

মেজর লীগ ক্রিকেট শুরু হয়ে গেছে। এ বছর বসতে যাচ্ছে টি-২০ বিশ্বকাপের আসর। মাঝে দিয়ে সম্ভাবনা আছে সিপিএল মার খেয়ে যাওয়ার। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজ অঞ্চলটা গরিব এবং দুর্নীতিগ্রস্ত। এদিকে আমেরিকার সবচেয়ে বড় শক্তি এর অর্থনীতি এবং দারুণ মেধাবী ম্যানেজমেন্ট। খুব বড় একটা সম্ভাবনা আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা দলে দলে আমেরিকায় মুভ করবে ক্রিকেটে সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারের জন্য। ইতিমধ্যেই ভারত পাকিস্তানের বহু খেলোয়াড় মুভ করেছে, আরও করবে। এরা আমেরিকার জাতীয় দলে খেললে ক্রিকেটে নিজেদের মেলে ধরতে আমেরিকার খুব বেশি সময় লাগবে না।

তবে সব নির্ভর করবে মেজর লীগের আগামী কয়েকটি আসর কেমন যায় সেটির ওপর। দর্শক আগ্রহী হলে স্পনসররা আগ্রহী হবে। স্পনসর আগ্রহী হলে ক্রিকেটাররা আগ্রহী হবে। পেশাদার ক্রিকেটার তৈরি হবে। সবই একের সঙ্গে অন্য যুক্ত। আগামী বিশ্বকাপে বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার ম্যাচটি ডালাসে হতে চলেছে। 

ডালাসে টাইগাররা টেরই পাবে না যে বিদেশের মাটিতে এসেছে।

যে স্টেডিয়ামে খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে, সেটি এককালে বেসবল স্টেডিয়াম ছিল। বর্তমানে একে ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাল্টানো হয়েছে। ম্যাচটিকে ঘিরে স্থানীয় বাঙালিদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। দলে দলে তরুণ, মধ্যবয়সী যুবক সবাই টিকিট কেটে মাঠে গিয়ে ম্যাচ দেখতে চায়। প্রিয় দলকে ঘরের মাঠের অনুভূতি দিতে চায়। এর মধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। 

বাংলাদেশের জন্যও সুবিধা হলো। ডালাসে প্রচুর বাংলাদেশির বাস। টাইগাররা টেরই পাবে না যে বিদেশের মাটিতে এসেছে। গ্যালারি থেকে ”সাবাশ বাংলাদেশের” গর্জন মিরপুর থেকেও শোনা যাবে। ঠিক মতন কান পেতেই দেখুন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত