অবসরপ্রাপ্তদের অভিযোগ

গ্রামীণ ব্যাংকের ১৪ হাজার অবসরপ্রাপ্ত পরিবার বিপাকে

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম

পুনঃপেনশন ও বিভিন্ন ভাতা দেওয়ায় হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নে গ্রামীণ ব্যাংক গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একইসঙ্গে প্রায় ১৪ হাজার অবসরপ্রাপ্তের ন্যায্য পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সোমবার (২০ জুলাই) বেলা পৌনে ১২টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির সভাপতি কেএম শহীদুল হক।

তিনি বলেন, ১৯৮৩ সালের ২ অক্টোবর অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। তাই সরকার ঘোষিত সব সুযোগ-সুবিধা গ্রামীণ ব্যাংকে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরই প্রাপ্য। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অবসরপ্রাপ্তদের পুনঃপেনশন ও বিভিন্ন ভাতা দেওয়া থেকে বঞ্চিত করে রেখেছেন কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে আন্দোলন করলেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

শহীদুল হক বলেন, অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে কিছু কিছু পদক্ষেপ নেয় সরকার। এর মধ্যে ২০০৪ সালের ৮ জুলাই সরকারি, আধাসরকারি, সংবিধিবদ্ধ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উৎসব ভাতা ও চিকিৎসা ভাতা দেওয়া সিদ্ধান্ত নেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। ২০১৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলা নববর্ষ ভাতা দেওয়ার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া ২০১৮ সালে শতভাগ পেনশন সমর্পণের ১৫ বছর পর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনঃপেনশন চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে পুনঃপেনশন ও ভাতা দেওয়া অব্যাহত থাকলেও অবসরপ্রাপ্তদের এসব সুবিধা দেয়নি গ্রামীণ ব্যাংক।

তিনি বলেন, ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ২০২১ সালে হাইকোর্টে কয়েকটি রিট করেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৯ মার্চ রিট আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দেন বিচারপতি নাইমা হায়দার ও কাজী জিনাত হকের আদালত। গত ২২ জুন পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ে গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের পুনঃপেনশন ও অন্যান্য ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। রায় প্রকাশের পর গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অবসরপ্রাপ্তরা বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করেন। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি মেলেনি। বরং তারা রায় বাস্তবায়ন না করতে এখনও নানাভাবে গড়িমসি করছেন। ফলে প্রায় ১৪ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। অতএব সবার দাবি যেন এটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সহসভাপতি হাবিবুল ইসলাম, উপদেষ্টা একেএম গোলাম মাওলা, মহাসচিব অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান, অর্থ সম্পাদক আবু মোহাম্মদ মতিউজ্জামানসহ গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত আরও অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত