চমক রেখে মন্ত্রিসভা সাজালেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ০২:১৮ পিএম

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছেন। অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের ওপর আস্থা রেখে তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন এনেছেন। সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রীকে বাদ দিয়ে নিজের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দায়িত্ব বণ্টন করেছেন তিনি।

সবচেয়ে আলোচিত নিয়োগ হয়েছে জন হিলিকে অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর অব দ্য এক্সচেকার) করা। স্টারমার সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তিনি। গত মাসে প্রতিরক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। এর আগে টনি ব্লেয়ারের সরকারের সময়ে ট্রেজারিতে অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রী ও আর্থিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবার দেশের অর্থনীতি, বাজেট ও সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দিয়েছেন বার্নহ্যাম।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে এড মিলিব্যান্ডকে। সাবেক লেবার নেতা মিলিব্যান্ড স্টারমার সরকারের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। এবার তিনি যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শাবানা মাহমুদকে বহাল রাখা হয়েছে। অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবামন্ত্রী হয়েছেন ইভেট কুপার। স্টারমার সরকারের শেষ দিকে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) খাতের সংকট মোকাবিলা তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী করা হয়েছে ওয়েস স্ট্রিটিংকে। তিনি আগে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবামন্ত্রী ছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা নীতি, সামরিক ব্যয় এবং মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

আবাসন ও স্থানীয় সরকারবিষয়ক দায়িত্বে ফিরেছেন অ্যাঞ্জেলা রেইনার। নতুন বাড়ি নির্মাণ, কাউন্সিল হাউস বাড়ানো এবং আবাসন ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব তাঁর ওপর দেওয়া হয়েছে।

ব্যবসা, উদ্ভাবন, বিজ্ঞান ও বাণিজ্যমন্ত্রী হয়েছেন জোনাথন রেনল্ডস। শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন হবে তাঁর প্রধান দায়িত্ব।

লুইস হেইকে ফার্স্ট সেক্রেটারি অব স্টেট ও চ্যান্সেলর অব দ্য ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার করা হয়েছে। সরকারের নীতি সমন্বয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

শিক্ষামন্ত্রী হয়েছেন লুসি পাওয়েল। আর সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসনকে নারী ও সমতা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে লিসা ন্যান্ডি বহাল রয়েছেন। কর্মসংস্থান ও পেনশনমন্ত্রী হয়েছেন প্যাট ম্যাকফ্যাডেন। নতুন চিফ হুইপ করা হয়েছে অ্যানেলিস মিডগলিকে।

জ্বালানি ও নেট-জিরো বিষয়ক মন্ত্রী হয়েছেন মিয়াটা ফানবুলেহ। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও জলবায়ু নীতির বাস্তবায়নে তিনি কাজ করবেন। পরিবেশমন্ত্রী হয়েছেন ডেম অ্যাঞ্জেলা ইগল, বিচারমন্ত্রী অ্যালেক্স নরিস এবং পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে বহাল রয়েছেন হেইডি আলেকজান্ডার।

অ্যাটর্নি জেনারেল করা হয়েছে এলি রিভসকে। তিনি সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ট্রেজারির চিফ সেক্রেটারি হয়েছেন এমা রেনল্ডস। সরকারি ব্যয় ও বাজেট ব্যবস্থাপনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন হ্যামিশ ফ্যালকনার। আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক (এআই) মন্ত্রী করা হয়েছে কানিশকা নারায়ণকে। সরকারি সেবা ও প্রযুক্তি খাতে এআই ব্যবহারের নীতি প্রণয়নে তিনি কাজ করবেন।

আঞ্চলিক দায়িত্বেও পরিবর্তন এসেছে। স্টিফেন কিনক হয়েছেন ওয়েলসবিষয়ক মন্ত্রী, স্যার ক্রিস ব্রায়ান্ট নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডবিষয়ক মন্ত্রী এবং ডগলাস আলেকজান্ডার স্কটল্যান্ডবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে বহাল রয়েছেন।

নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি স্টারমারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতার। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এবং সাবেক কর্মসংস্থান ও বিজ্ঞানমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল।

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, তাঁর সরকার মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানকে অগ্রাধিকার দেবে। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, গৃহহীনতা হ্রাস, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা ফিরিয়ে আনাই হবে সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহ্যামের প্রথম মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞতা ও পরিবর্তনের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। পরিচিত কয়েকজন মন্ত্রীকে বহাল রেখে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে, একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে নতুন নেতৃত্ব এনে তাঁর রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। এখন নজর থাকবে, এই দল নিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক সংকট ও জনআস্থার ঘাটতি কতটা কাটিয়ে উঠতে পারেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত