সৌন্দর্য বর্ধনে ১০৮টি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হবিগঞ্জ পৌরসভা। পৌরসভা বলছে, সৌন্দর্যবৃদ্ধিতে ও ড্রেন নির্মাণের কাজের জন্য এসব গাছ কাটা হবে।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, শাহ এ এম এস কিবরিয়া পৌর মিলনায়তনের চারপাশে আকাশমণি, শিলকড়ই, মেহগনি, জলপাইসহ নানা জাতের ৭০টি গাছ কাটা পড়বে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য।
স্থানীয়রা জানান, এসব সবুজ গাছগাছালি ঘিরে পানকৌড়ি, শালিক, কোকিল, চড়ুইসহ নানা প্রজাতির পাখিদের বসতে দেখা যায়। গাছগুলোর বয়স প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর। জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের সামনের আরও ৩৮টি গাছ কাটা পড়বে। এ গাছগুলো কাটা হচ্ছে ড্রেন নির্মাণ কাজের প্রয়োজনে।
বন বিভাগ, মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের অনুমতি নেয়া হয়েছে জানিয়ে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী দিলীপ কুমার দত্ত বলেন, গাছ কাটার জন্য দরপত্রও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এজন্য গত ২৮ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ পৌরসভা গাছের মূল্য ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন কার্যাদেশ পেলেই গাছ কাটা শুরু করবেন ঠিকাদার। তিনি জানান, দু-এক দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতাকে এসব গাছ কাটার অনুমোদন দেওয়া হবে।
কিবরিয়া মিলনায়তনের কাছেই রয়েছে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ। ওই মাঠে খেলা করা ৭ম শ্রেণির ছাত্র শামসুল আবেদিন খান নাবিল বলেন, প্রখর রোদে ওই গাছগুলো ছায়ায় অনেকই বিশ্রাম নেন। সকাল বিকেল নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে পরিবেশ বেশ সুন্দর হয়। এখন গাছগুলো কাটলে পরিবেশের পাশাপাশি পাখিদের আবাস নষ্ট হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখার সহ-সভাপতি ও হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জাহান আরা খাতুন বলেন, জঙ্গলের হওয়ায় গাছ কেটে পৌরসভা কী এমন সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করবে তা বোধগম্য নয়। গাছ যেখানে পরিবেশেকে সুন্দর করে সেখানে গাছ কাটা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত এ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
গাছ কাটার কারণ সম্পর্কে হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আতাউর রহমান সেলিম সাংবাদিকদের জানান ‘কিবরিয়া পৌর মিলনায়তনের দেয়ালের পাশ ঘেঁষে বেড়ে ওঠা এ গাছগুলো জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। তাই এগুলো কেটে পরিষ্কার করে এর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হবে।
