সাক্ষাৎকার

তিন মাসের মধ্যে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনবে সরকার

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:৫৪ পিএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের হুইপ নজরুল ইসলাম বাবু। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত টানা চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এবার হুইপের দায়িত্ব পেলেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে দেশের রাজনীতি, সরকার, সংসদ এবং নিজ নির্বাচনী এলাকার পরিকল্পনা ও সমসাময়িক নানা বিষয়ে কথা বলেন হুইপ নজরুল ইসলাম বাবু। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দেশ রূপান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি উম্মুল ওয়ারা সুইটি

দেশ রূপান্তরের পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো:  

প্রশ্ন: এবারের সংসদ অধিবেশন কেমন চান বা কেমন হবে?

নজরুল ইসলাম বাবু: এবারের সংসদ হবে আলোড়িত সংসদ। এবারই প্রথম বাংলাদেশের ইতিহাসে ৬২ জন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তারা এবারের সংসদকে প্রাণবন্ত রাখবে। তারা অনেক বড় ফাইট দিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছেন। কাজেই সংসদে তারা সরব থাকবে। আইন প্রণয়ন কার্যক্রম এবং সমসাময়িক ইস্যুতে তারা আলোচনা-সমালোচনা করবে এমনটাই আমি বিশ্বাস করি।

প্রশ্ন: স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৫৮ জনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন— তারা কেউ কেউ মনোনয়নও চেয়েছেন কিন্তু দল থেকে তারা নৌকা প্রতীক পাননি। এখন তারা কি সরকারের বাইরে কোনো ভূমিকা রাখবে বলে আপনি মনে করেন?

নজরুল ইসলাম বাবু: দলের মনোনয়ন বোর্ড হয়তো তাদের অনেককেই বুঝতে পারেনি। কিন্তু এলাকার জনগণ তাদের নিরাশ করেনি। তারা যে সত্যিকার অর্থে জনপ্রিয় এটা তারা প্রমাণ করেছে। তাদের যোগ্যতার স্বাক্ষর তারা সংসদে রাখবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। নেত্রী (শেখ হাসিনা) তাদের বলেছেন সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চায় তারা যেন ভূমিকা রাখেন। তারা সংসদে আসতে পেরে খুবই উৎফুল্ল। গণভবনে তাদের জন্য আধঘণ্টা বরাদ্দ থাকলেও নেত্রী আড়াই ঘণ্টা সময় দিয়েছেন। তাদের কথা শুনেছেন।

প্রশ্ন: এবারের সংসদ ও সরকারের চ্যালেঞ্জগুলো কী কী বলে আপনি মনে করছেন?

নজরুল ইসলাম বাবু: এই মুহূর্তে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা। আমরা আশা করি আগামী তিনমাসের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। সরকার চেষ্টা করবে আগামী তিন মাসের মধ্যে যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আসে। শেখ হাসিনার ক্যারিশমাটিক নেতৃত্বে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। তিনি অবশ্যই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন। আরও বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিগত সময়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। কেউ যেন দেশকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে এবং আর কেউ যেন ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা না করতে পারে সেটাও সরকার দেখবে। আমি মনে করি ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার সুযোগ আর কোনো রাজনৈতিক দলকে দেবে না সরকার।

প্রশ্ন: এমপি হিসেবে নিজের নির্বাচনী এলাকা নারায়ণগঞ্জ নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি? 

নজরুল ইসলাম বাবু: গত ১৫ বছরে এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান। সবসময় জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এবার তৃতীয় মেঘনা সেতু করার প্রকল্প কার্যক্রম হাতে নেব। তাহলে ছয়টি জেলার মানুষ আড়াইহাজারের ওপর দিয়ে চলাচল করবে। ঢাকা হয়ে যাবে সবার জন্য খুব কাছাকাছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন মহাযজ্ঞে নারায়ণগঞ্জবাসীর সফলতার জন্য আমি কাজ করব। শিক্ষার হার বাড়াতে এবং এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে এর মধ্যে যেসব প্রকল্প হাতে নিয়েছি সেগুলো আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। এবার এক নতুন নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলা হবে। মাদক থেকে দূরে রেখে তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষার দিকে অনুরাগী করে তোলার প্রত্যয় নিয়ে আমরা কাজ করছি।

প্রশ্ন: জনগণের জন্য আপনার অঙ্গীকার কি থাকবে?

নজরুল ইসলাম বাবু:  তরুণদের নিয়ে একটি আদর্শিক, সুন্দর, সাবলীল এলাকা হবে আড়াইহাজার, যেটি ঢাকার অতি সন্নিকটে। যেখানে একজন মানুষও অসুবিধায় থাকবে না। শিক্ষা শেষে কাজের নিশ্চয়তা হবে। প্রতিটি মানুষের মুখে হাসি ফুটবে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি আমি পালন করতে পারব— এই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মকে সাথে নিয়ে কাজ করব।

সংক্ষিপ্ত পরিচয়

১৯৬৭ সালের ১০ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন নজরুল ইসলাম বাবু। পৈতৃক বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের অন্তর্গত বাজবী মৌলভী বাড়ী এলাকায়। তিনি নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য। তিনি ২০০৮ সালে প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও এবার ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন। তাছাড়া তিনি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

নজরুল ইসলাম বাবু জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করেছেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে গ্রেনেড হামলার শিকার হন তিনি। এছাড়া ছাত্র রাজনীতি করার সময়ও দলের জন্য নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। ওয়ান ইলেভেনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কারামুক্তির দাবিতে তিনি ছিলেন রাজপথের একজন লড়াকু। এছাড়া ছাত্রজীবনে আন্দোলন সংগ্রামের কারণে তিনি দীর্ঘ ৯ মাস কারাবন্দী ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত