হংকংয়ের মিনি সংবিধান আরও কঠোর হচ্ছে

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:৩৪ এএম

চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ে ‘বিতর্কিত’ জাতীয় নিরাপত্তা আইন আরও কঠোর হচ্ছে। চলতি বছরেই এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হবে। ২০২০ সালে মূল ভূখন্ড চীনের শাসকগোষ্ঠী হংকংয়ে এই আইন প্রবর্তন করে। এই আইনের অধীনে গণতন্ত্রপন্থি অনেক বিক্ষোভকারীর বিচার চলছে।

সম্প্রতি হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার হুমকিগুলো বাস্তব। আমরা মারাত্মকভাবে এ সবের দ্বারা ভুগছি। আমরা এসব দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আর যেতে চাই না। কিছু বিদেশি এজেন্ট এখনো হংকংয়ে সক্রিয় থাকতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন হংকংয়ের সমাজকে শান্ত ও নিরাপদ মনে হচ্ছে, সম্ভাব্য অন্তর্ঘাত ও গোপন তৎপরতার ওপর নজর রাখতে হবে যা বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে; বিশেষ করে স্বাধীন হংকংয়ের ধারণা এখনো অনেকের মনে গেঁথে রয়েছে।’

 ২০১৯ সালে হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভ শুরু হয়। পরের বছর বেইজিংয়ের শাসকগোষ্ঠী গণতন্ত্রপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা আইন চালু করে যা ব্যবহার করা হয় বিক্ষোভকারীদের দমন করতে। এই আইনে বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকা-, বিদ্রোহ, সন্ত্রাসবাদ ও বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশের অপরাধে যাবজ্জীবন পর্যন্ত কারাদন্ডের বিধান রাখা হয়।

হংকংয়ের ‘মিনি সংবিধান’-এর ‘অনুচ্ছেদ ২৩’-এ মধ্যে আরও পাঁচ ধরনের অপরাধকে যুক্ত করা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে-দেশদ্রোহিতা, উস্কানি, গুপ্তচরবৃত্তি, জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্নকারী ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ। শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, এবং আন্দোলনকর্মীরা বলছেন, ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদের মধ্য দিয়ে যেসব কর্মকান্ডকে অপরাধমূলক কর্মকান্ড হিসেবে দেখানো হচ্ছে তা হংকংয়ে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে।

জন লি বলেন, ‘এটি এক ধরনের সাংবিধানিক দায়িত্ব যে, হংকং হস্তান্তরের ২৬ বছর পর এই বাধ্যবাধকতা পূরণ করা হচ্ছে।’ এই আইনে ২০২০ সালের পর থেকে প্রায় ৩০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ জনকে এরই মধ্যে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত