প্রতিটি কোণে যুদ্ধ-সংঘাত

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:০১ পিএম

প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্য বিশ্ব এখন অস্থির সময় পার করছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর গাজায় সংক্ষিপ্ত সময়ে ব্যাপক প্রাণহানি বিশ্ববাসীর বিবেক নাড়িয়ে দিয়েছে। আবার গত দশকের শুরুর দিকে সিরিয়ায় যে গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল, এর রেশ না কাটতেই গত বছর থেকে শুরু হলো সুদানের গৃহযুদ্ধ। বলা যায়, স্নায়ুযুদ্ধ অবসানের পর গোটা বিশ্ব যুদ্ধকেন্দ্রিক এত ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেনি।

নব্বইয়ের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে শীতল যুদ্ধ তথা স্নায়ুযুদ্ধের রেশ কাটলেও ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনা অভিযান যেন সেই পুরনো স্মৃতির দিকে নিয়ে যায় বিশ্ববাসীকে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে সংঘাতপূর্ণ ও উত্তেজনাময় অবস্থা পার করছে পৃথিবী বিশ্ব মোড়লদের কথায় অন্তত তা-ই মনে হয়। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু করার পর থেকে পশ্চিমা বিশ্ব রুশ আগ্রাসনকে যুক্তেরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ মনে করছে।

পশ্চিমা বিশ্ব যখন পুতিনকে মানবতার সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে তুলে ধরছে, সেই মুহূর্তে গাজায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধ বেধে গেল। বলা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর এত ভয়াবহ যুদ্ধ হয়নি। এরই মধ্যে এই যুদ্ধে ২৭ হাজার ফিলিস্তিনির প্রাণ গেছে। পশ্চিমা বিশ্বের পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে ওঠা দেশ ইসরায়েলের নির্বিচার গণহত্যা আর পরিকল্পিতভাবে গাজাবাসীকে মানবিক সংকটের চূড়ান্ত পর্যায়ে ঠেলে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় লাগাম পরানো যায়নি। ইউক্রেনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান আর গাজার প্রাণহানি নিয়ে নীরবতা এমন দ্বৈত অবস্থান ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে পশ্চিমারা।

বর্তমান বিশে^র সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে গাজায়। ২৭ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষের মৃত্যু দেখেছে বিশ্ব চার মাসের কম সময়ে। এর আগে কোনো সংঘাতে এত অল্প সময়ে এত প্রাণহানির উদাহরণ নেই। গাজার অবকাঠামো, বাড়িঘর, হাসপাতাল, জাতিসংঘ-পরিচালিত আশ্রয়কেন্দ্রসহ এমন কিছু নেই যেখানে ইসরায়েলি বর্বর যুদ্ধযন্ত্র হামলা করেনি। এখনো চলছে এই নৃশংস ও ভয়াবহ আক্রমণ। ইসরায়েলি আাগ্রাসনে গাজার নিরস্ত্র নারী-শিশু যুদ্ধের ভয়াবহতম শিকারে পরিণত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জীবন খাদ্য, ওষুধ, পানি আর জ্বালানির মতো নিত্যব্যবহার্য জিনিসের সংকটের মধ্যেই কাটছে। গত ৭ অক্টোবর হামাস অতর্কিতভাবে ইসরায়েলে আক্রমণ করার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ লড়াই। দশকের পর দশক ধরে ইসরায়েলি দখলদারি, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার স্বপ্নকে নিঃশেষ করে দেওয়ার প্রচেষ্টার সামনে দাঁড়িয়ে হামাস যুদ্ধ শুরু করে। তবে দিন যত গড়ায় বুঝতে বাকি থাকে না, এই লড়াই অসম। তবে হাজার হাজার প্রাণহানি, ক্ষুধা, হয়রানির মধ্যেও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে হামাসের এই প্রতিরোধের প্রতি সমর্থন ক্রমবর্ধমান।

এদিকে ট্রান্স-আটলান্টিক সামরিক জোট ন্যাটোর সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ইউক্রেনে পুতিনের সেনা অভিযানে বেসামরিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান ২০ হাজারের আশপাশে। পশ্চিমা বিশ্বের নেতৃত্বাধীন অর্থনীতি আর রাজনীতির বিরুদ্ধে সোভিয়েত শাসনের ভগ্নস্তূপে দাঁড়ানো শাসক পুতিন স্নায়ুযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো সরাসরি মার্কিন অক্ষের দিকে ঘেঁষতে থাকা কোনো দেশে আক্রমণ করলেন। পশ্চিমা দুনিয়া ভাবতে শুরু করেছিল, সোভিয়েত তথা রাশিয়ার স্নায়ুযুদ্ধ-পূর্ব শৌর্য হয়তো নস্যাৎ হয়েছে। কিন্তু সেসব মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়ে পুতিন ইউক্রেনে আগ্রাসন চালান। যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্ররা চিন্তিত এই ভেবে, ইউক্রেনে পুতিনের সম্ভাব্য জয় পশ্চিমা বিশ্বের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করবে।

প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের দুই লড়াইয়ের মধ্যে আফ্রিকার সুদানে দেখা যায় নতুন করে গৃহযুদ্ধ। গত বছরের এপ্রিলে দেশটির সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের অনুগত বাহিনী এবং আরেক জেনারেল মোহামেদ হামদান দাগালো ওরফে হেমেদতির নেতৃত্বাধীন আধা সামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)  সংঘাতে জড়ায়। এখন অবধি এই সংঘাতে প্রাণহানি হয়েছে ১৫ হাজারের কাছাকাছি। খুন, ধর্ষণ, লুটপাট এখন দেশটির নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চূড়ান্ত অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে দারফুর অঞ্চলে। আরব জাতিগোষ্ঠীর হামলায় ক্রমাগত কোণঠাসা বাকিরা। সুদানের সাবেক প্রেসিডেন্ট স্বৈরশাসক ওমর আল বশিরের সময় গড়ে ওঠা আরএসএফ দেশের সেনাবাহিনীর সমান্তরালে অভিজাত বাহিনী হিসেবে শক্তি বৃদ্ধি করে। বশিরের পতনের পরও সমান্তরাল শক্তির ভরকেন্দ্র হিসেবে রয়ে গেছেন তারই একসময়ের শিষ্য দাগালো। সুদানে আট মাসের সংঘাতে  যাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের অভিযোগ উঠেছে, তাদের অনেকের বিরুদ্ধে বশির জমানায় যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। বশিরের আরব মিলিশিয়ারাই আজকের আরএসএফ। সাম্প্রতিক সংঘাতের মূল কারণ, দুই বাহিনীর কর্তৃত্বের লড়াই। চলতি শতকের শুরুতেও সুদানের দারফুরসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জাতিগত সহিংসতা ছিল, যার রেশ এখনো রয়েছে। দারফুরে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বশিরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

আফ্রিকায় সুদানের সেনাবাহিনীকে যেমন চ্যালেঞ্জ করছে রাষ্ট্রীয় আধা সামরিক বাহিনী; মিয়ানমারের  সেনাবাহিনীই একইভাবে সবচেয়ে বড় কঠিন সময় পার করছে। তবে তাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে দেশের নানা প্রান্তে গড়ে ওঠা জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র দল এবং গণতন্ত্রপন্থিরা। বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক জান্তার বাহিনী ব্যাপকভাবে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটাচ্ছে। এসব হামলায় ঠিক কত লোকের প্রাণহানি হচ্ছে বা হয়েছে, তার পরিষ্কার কোনো ধারণা এখনো পাওয়া যায় না। তবে ২০২১ সালে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সুচির বেসামরিক সরকারকে উৎখাতের পর গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভে প্রায় পাঁচ হাজারের মতো প্রাণহানি হয়েছে। জান্তার অব্যাহত নিপীড়নে এনএলডির রাজনীতিকরা ছায়া সরকার চালু করেছেন। আলাদা মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করে জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। গণতন্ত্রপন্থি যোদ্ধা আর জাতিগত বাহিনীর আক্রমণে জান্তার বাহিনী ইতিহাসের সবচেয়ে করুণ সময় পার করছে। মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর কর্তৃত্ব স্বাধীনতার পর থেকেই। কখনো সামিরক বাহিনীকে এতটা বিচলিত মনে হয়নি, যতটা এখন তাদের দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে জান্তার বাহিনী  উৎখাত হয়েছে। আত্মসমর্পণ করে পালাচ্ছে সেনারা। অনেক জায়গায় বিদ্রোহীরা আলাদা প্রশাসন চালু করেছে। বলা হচ্ছে, দেশের প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি এলাকায় জান্তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। জান্তা চীন ও রাশিয়ার সমর্থন পেয়ে যাচ্ছে। আবার ছায়া সরকার পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

আরব বসন্তের জোয়ারে ২০১১ সালের সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। কিন্তু ইরানের শিয়া মতাবলম্বী প্রশাসন ও রাশিয়ার সঙ্গে উষ্ণ রক্ষা করে চলা আসাদ সরকার নৃশংস কায়দায় বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করে। আসাদ সরকারকে সরাতে পশ্চিমাদের সমর্থন নিয়ে আলাদা ছায়া সরকার শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। একপর্যায়ে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র লড়াই শুরু করে আসাদবিরোধীরা। সেই থেকে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ এখনো চলছে। মাঝে আন্তর্জাতিক ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আবির্ভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে। তবে আইএস ক্ষয়িষ্ণু হলেও সিরিয়া ধীরে ধীরে বহুপক্ষীয় যুদ্ধের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এর ব্যাপকতা কিছুটা কমলেও শেষ হয়নি সংঘাত।

২০১১ সালে সিরিয়ার যে মানচিত্র ছিল, তা এখন বিভিন্ন অংশের নিয়ন্ত্রণে। রাজধানী দামেস্ক আসাদের শাসনের কেন্দ্র। কিন্তু দেশটিতে আসাদ সরকারের পক্ষে ইরানের অবস্থান রয়েছে, রাশিয়ার সেনাঘাঁটি রয়েছে। অন্যদিকে আইএস নির্মূলের কথা বলে সিরিয়ার বিরাট অংশে মার্কিন সেনা ও তাদের সহযোগীরা অবস্থান করছে। একই সঙ্গে তুরস্ক সিরিয়ার কুর্দি-অধ্যুষিত অঞ্চলে সেনা অভিযান চালায় নিয়মিত। সিরিয়ায় আসাদ সরকারের সমর্থক হিসেবে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোও সক্রিয় রয়েছে। সিরিয়ার যুদ্ধক্ষেত্র এখন পরাশক্তিদের ছায়াযুদ্ধের কেন্দ্র। সিরিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পক্ষের যুদ্ধ চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মতো দুই শক্তি এখানে সক্রিয় থাকলেও এরা কেউ কাউকে আক্রমণ করে না। তবে তাদের শত্রু ভিন্ন। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী ও সিরিয়ার সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করে রাশিয়া। আবার সিরিয়ার সরকারবিরোধীদের সমর্থনের পাশাপাশি আইএস এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করে যুক্তরাষ্ট্র। মোটকথা, একটি জটিল সমীকরণের যুদ্ধ চলছে সিরিয়ায়। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে নিহত হয়েছে প্রায় ছয় লাখের মতো বেসামরিক মানুষ। 

বহুপক্ষীয় যুদ্ধের আরেক বড় জায়গা হয়ে রয়েছে ইয়েমেন। আরব বসন্তের প্রেক্ষাপটে সুন্নি মতাবলম্বী প্রেসিডেন্ট আলি আব্দুল্লাহ সালেহর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। ২০১৪ সালে রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেয় শিয়া মতাবলম্বী হুতি বিদ্রোহী। তারা ইরানের সমর্থন পেয়ে আসছে। এ সময় সুন্নিপন্থি প্রেসিডেন্ট সালেহ সৌদি আরব পালিয়ে যান। পরে সালেহকে ক্ষমতায় ফেরাতে ২০১৫ সালের মার্চে সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোকে নিয়ে ইয়েমেনে হুতিদের হটিয়ে দিতে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন এই যুদ্ধজোটের সঙ্গে হুতিদের লড়াইয়ে নিহত হয় প্রায় ৩ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ। সৃষ্টি হয় তীব্র মানবিক সংকট। মাঝে সৌদি প্রশাসনের সঙ্গে হুতিদের বন্দিবিনিময় হলেও যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। বর্তমানে হামাসের হয়ে ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে লড়ছে হুতিরা।

ওদিকে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলের সংঘাত বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। ২০১১ সাল থেকে মালি, বুরকিনা ফাসো, নাইজার জুড়ে চলছে সংঘাত। আরব বসন্তের পর থেকে ইসলামি জঙ্গিবাদই এসব সহিংসতার মূল কারণ। দেশ তিনটিতে ফ্রান্সসহ বিদেশি সেনারা অবস্থান নিয়ে জঙ্গিবাদী কার্যকলাপ রুখতে চেষ্টা করছিল। আগের থেকে তীব্রতা কমে এলেও এখনো থেমে যায়নি সংঘাত। সম্প্রতি দেশ তিনটিতে সামরিক অভ্যুত্থান হওয়ার পর দৃশ্যপট পাল্টেছে। বর্তমানে ফরাসি সেনারা আর নেই। সেনা শাসকরা জঙ্গিবাদ রুখতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তিন দেশেই আলকায়েদা-সমর্থিত এবং আইএস-সমর্থিত বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। 

এসব সংঘাতের বাইরে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সংঘাত নিয়ে উত্তেজনা চলছে। যেকোনো মুহূর্তে শুরু হতে পারে লড়াই। সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে স্তিমিত হয়ে রয়েছে কোরীয় যুদ্ধ। ১৯৫৩ সাল থেকে দুই কোরিয়া যুদ্ধবিরতিতে রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত