যুদ্ধের ইতিহাস মানুষের মতোই প্রাচীন। মানুষ সমাজবদ্ধ হওয়ারও অনেক আগে থেকেই ব্যক্তি স্বার্থের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে খুনোখুনি করেছে, হয়েছে উদ্বাস্তু। গোষ্ঠী-গোত্রের সেই সব কাল পেরিয়ে, হাজারো বছর পরে রাষ্ট্রের সীমানা করেও সংঘাতে জড়াচ্ছে। এখনো গোলার আঘাতে অকাতরে মরছে মানুষ, কাতারে কাতারে বাস্তুভিটা থেকে পালাতে হচ্ছে বাঁচার জন্য। আসলে প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন কারণ বা ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ হয়েছে অথবা যুদ্ধের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এসব যুদ্ধের পরিস্থিতির জন্য কখনো শুধু একটিমাত্র কারণ কাজ করেছে, আবার অনেক সময় একাধিক কারণে কোনো দেশ, জাতি, সম্প্রদায় বা গোষ্ঠী যুদ্ধে জড়িয়েছে। সাধারণভাবে যুদ্ধের সংজ্ঞা হচ্ছে এক বা একাধিক বিশেষ সুবিধা বা উদ্দেশ্য পূরণের জন্য একটি গোষ্ঠী, সম্প্রদায় বা দেশ অথবা একই মনোভাবাপন্ন একাধিক দেশ বল বা জোরপূর্বক অন্য কোনো দল, সম্প্রদায় বা দেশের ওপরে সামরিক আগ্রাসন পরিচালনা করে তাকে যুদ্ধ বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বলা হয়। শুধু আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক দেশের মধ্যে নয়; বরং কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যসাধনের জন্য শুধু একটি দেশের মধ্যেও যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। মডার্ন ওয়ার ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, সাধারণত পাঁচ কারণে যুদ্ধে জড়ায় মানুষ। তবে সত্যিকার অর্থে মানুষ কেন যুদ্ধে জড়ায় এই প্রশ্নের উত্তর প্রতিটি যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ভিন্ন হয়। মোটাদাগে ক্ষমতার লিপ্সা, অর্থনৈতিক সুবিধা, ভৌগোলিক সমীকরণ, ধর্ম ও সংস্কৃতি, প্রতিশোধ-প্রতিরোধ কিংবা সামাজিক বদলের আশায় সংঘাতে জড়ায় মানুষ। এখনো বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় যে শতাধিক যুদ্ধ-সংঘাত চলছে, এর পেছনেও আছে অনেক কারণ। তবে একুশ শতকে এসে এসব কারণ ছাড়াও ‘তৃতীয়’ আরেকটি কারণ থাকে। সংঘাতে জড়ানো দুটি জাতি রা রাষ্ট্রের মতো স্বার্থ থাকে কথিত ‘মোড়ল’ রাষ্ট্রগুলোর। এই যেমন বর্তমানে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন এবং ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধে ওই চারটি দেশ বা গোষ্ঠীর মতোই বড় স্বার্থ আছে যুক্তরাষ্ট্রের। স্বার্থ আছে বিশ্বের অস্ত্র কোম্পানিগুলোরও।
নব্বইয়ের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে শীতল যুদ্ধ তথা স্নায়ুযুদ্ধের রেশ কাটলেও ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনা অভিযান যেন সেই পুরনো স্মৃতির দিকে নিয়ে যায় বিশ্ববাসীকে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে সংঘাতপূর্ণ ও উত্তেজনাময় অবস্থা পার করছে পৃথিবী বিশ্ব মোড়লদের কথায় অন্তত তাই মনে হয়। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু করার পর থেকে পশ্চিমা বিশ্ব রুশ আগ্রাসনকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ মনে করছে। আর সে কারণেই এই যুদ্ধে ইউক্রেনের জয়ের বিকল্প ভাবতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো। ফলে রাশিয়া সর্বশক্তি দিয়েও গেল দুই বছরের যুদ্ধের কোনো ফলাফল আনতে পারেনি।
কিছুদিন আগেই হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোসেফ এসনাই প্রজেক্ট সিন্ডিকেটে লেখা এক নিবন্ধে বলেছিলেন এই যুদ্ধের নেপথ্য নিয়ে। তার ভাষ্য, ১৯৪৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত ইউরোপে যত সংঘাত হয়েছে, এর মধ্যে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ সবচেয়ে বিধ্বংসী সংঘাত। পশ্চিমের অনেকেই যখন এ যুদ্ধকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ হিসেবে দেখছেন, তখন পুতিন বলেছেন, ২০০৮ সালে ন্যাটো ইউক্রেনকে সদস্য বানানোর বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেটি রাশিয়ার অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছিল; সে কারণে রাশিয়া এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। অন্য অনেকে মনে করেন, শীতল যুদ্ধের সমাপ্তি এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর পশ্চিমারা রাশিয়াকে যথার্থ সমর্থন ও সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হওয়াও আজকের অবস্থার পেছনের একটি বড় কারণ। কিন্তু আগামী কয়েক বছর লড়াই চলবেএমন আশঙ্কায় ছেয়ে যাওয়া এ যুদ্ধের উৎপত্তির আসল অনুঘটক কী, তা কি আমরা বুঝতে পারছি? জোসেফ এসনাইয়ের ভাষ্য, ইউক্রেনে হামলার সময় পুতিন রাশিয়ান জনগণকে বলেছিলেন, তিনি ইউক্রেনকে ‘নাৎসিমুক্ত’ করার জন্য একটি ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ পরিচালনা করছেন এবং ন্যাটোকে রাশিয়ার সীমান্তে সম্প্রসারিত হতে বাধা দিচ্ছেন। আসলে পুতিন তার ‘রাশিয়ান বিশ্ব’ পুনরুদ্ধার করতে চাইলেন এবং ইউক্রেনে আক্রমণ করে বসলেন। এসবের পেছনে ‘গভীর কারণ’ ছিল শীতল যুদ্ধের পরবর্তী অবস্থা। শীতল যুদ্ধের অবসানের প্রাথমিক পর্যায়ে রাশিয়া এবং পশ্চিম উভয়ই আশা করেছিল, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন রাশিয়ায় গণতন্ত্রের উত্থান ঘটাবে এবং সেখানে একটি বাজার অর্থনীতির জন্য অনুমতি পাওয়া যাবে। প্রারম্ভিক বছরগুলোতে ক্লিনটন এবং ইয়েলৎসিন সুসম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েওছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যখন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইয়েগর গাইদারের সরকারকে ঋণ ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিল, তখন রাশিয়ানরা বলল, তারা আরও অনেক কিছু আশা করেছিল। একটা বঞ্চনার বোধ রাশিয়ার মানুষকে ক্ষুব্ধ করল। সেই বোধকে কাজে লাগিয়ে পুতিন জাতীয়তাবাদী হয়ে উঠলেন এবং পশ্চিমাবিরোধী ভাবমূর্তি গড়ে তুললেন। তার একটা পরিণতি হিসেবেও এই যুদ্ধকে দেখা যেতে পারে। আর এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার নেপথ্যে আছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক থিঙ্ক ট্যাংক ইনস্টিটিউট অব স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ) মনে করে, ইউক্রেনে যুদ্ধ যে শিগগিরই শেষ হচ্ছে না তা ধরে নেওয়াই সঠিক বিচার। দ্য হাই প্রাইস অব ল্যুজিং ইউক্রেন শীর্ষক প্রতিবেদনে গবেষণা সংস্থাটি বলেছে, ইউক্রেন যুদ্ধে বেশিরভাগ মানুষের ধারণার চেয়েও অনেক উচ্চমাত্রার স্বার্থ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। রাশিয়ার বিরুদ্ধে তারা ইউক্রেনকে যেকোনো মূল্যে জেতাতে চায়। এর কারণ বিশ্ব রাজনীতির আসন্ন মেরুকরণে নিজেদের মোড়লের জায়গায়ই দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, যেটা তারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে চালিয়ে আসছে।
বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে গাজায়। ২৭ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষের মৃত্যু দেখেছে বিশ্ব চার মাসেরও কম সময়ে। এর আগে কোনো সংঘাতে এত সংক্ষিপ্ত সময়ে এত প্রাণহানির উদাহরণ নেই। এখনো চলছে এই নৃশংস ও ভয়াবহ আক্রমণ। গত ৭ অক্টোবর হামাস অতর্কিতভাবে ইসরায়েলে আক্রমণ করার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই লড়াই। দশকের পর দশক ধরে ইসরায়েলি দখলদারি, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার স্বপ্নকে নিঃশেষ করে দেওয়ার প্রচেষ্টার সামনে দাঁড়িয়ে হামাস যুদ্ধ শুরু করে। তবে দিন যত গড়ায় বুঝতে বাকি থাকে না, এই লড়াই অসম। এর নেপথ্যেও আছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ। এর পেছনে প্রভাব আছে ইউক্রেন যুদ্ধেরও। আসলে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পরপরই বিশ্বরাজনীতির নয়া মেরুকরণের যে হাওয়া বইতে শুরু করেছে এর জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ঐতিহাসিক অবস্থান নড়বড় হতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের। চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব-ইরানের বিরোধ কমে আসে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র সৌদি আরবও বেঁকে বসে নানা ইস্যুতে। ফলে উপসাগরীয় ও ইরাক যুদ্ধের পর ইসলামিক স্টেট (আইএস) নির্মূলের নামে যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান তারা তৈরি করেছিল গেল দশকে, তা হারানোর ভয় পেয়ে বসে যুক্তরাষ্ট্রকে। তারা নতুন করে ভূমধ্যসাগর ও আবর সাগর এলাকায় তাদের উপস্থিতি বাড়ানোর পথ খুঁজছিল। হামাস অতর্কিতভাবে ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেই পথ খুলে দেয়। ইসরায়েলকে যুদ্ধে জড়ানোর উসকানি দেয় দেশটি।
বিশ্বজুড়ে চলমান সব সংঘাতের মধ্যে ইউক্রেন আর গাজা যুদ্ধই প্রকট হয়ে উঠেছে। তবে এর বাইরেও আফ্রিকার সুদানে নতুন করে শুরু হয়েছে গৃহযুদ্ধ। সেখানে সেনাবাহিনীকে যেমন চ্যালেঞ্জ করছে রাষ্ট্রীয় আধা সামিরক বাহিনী। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীই একইভাবে সবচেয়ে বড় কঠিন সময় পার করছে। তবে তাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে দেশের নানা প্রান্তে গড়ে ওঠা নানা জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র দল এবং গণতন্ত্রপন্থিরা। বিভিন্ন অঞ্চলে সামিরক জান্তার বাহিনী ব্যাপকভাবে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটাচ্ছে। এগুলো ক্ষমতা দখলের দ্বন্দ্বের কারণেই হচ্ছে।
এদিকে আরব বসন্তের জোয়ারে ২০১১ সালের সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। কিন্তু ইরানের শিয়া মতাবলম্বী প্রশাসন ও রাশিয়ার সঙ্গে উষ্ণ রক্ষা করে চলা আসাদ সরকার নৃশংস কায়দায় বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করে। আসাদ সরকারকে সরাতে পশ্চিমাদের সমর্থন নিয়ে আলাদা ছায়া সরকার শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। একপর্যায়ে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র লড়াই শুরু করে আসাদবিরোধীরা। সেই থেকে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ এখনো চলছে। মাঝে আন্তর্জাতিক ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আবির্ভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে। তবে আইএস ক্ষয়িষ্ণু হলেও সিরিয়া ধীরে ধীরে বহুপক্ষীয় যুদ্ধের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এর ব্যাপকতা কিছুটা কমলেও শেষ হয়নি সংঘাত। ওই সংঘাতের নেপথ্যে আছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইরান কিংবা সৌদি আরবেরও স্বার্থ।
ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী ও সিরিয়ার সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করে রাশিয়া। আবার সিরিয়ার সরকারবিরোধীদের সমর্থনের পাশাপাশি আইএস এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করে যুক্তরাষ্ট্র। মোটকথা, একটি জটিল সমীকরণের যুদ্ধ চলছে সিরিয়ায়। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে নিহত হয়েছে প্রায় ছয় লাখের মতো বেসামরিক মানুষ।
বহুপক্ষীয় যুদ্ধের আরেক বড় জায়গা হয়ে রয়েছে ইয়েমেন। আরব বসন্তের প্রেক্ষাপটে সুন্নি মতাবলম্বী প্রেসিডেন্ট আলি আব্দুল্লাহ সালেহর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। ২০১৪ সালে রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেয় শিয়া মতাবলম্বী হুতি বিদ্রোহী। তারা ইরানের সমর্থন পেয়ে আসছে। এ সময় সুন্নিপন্থি প্রেসিডেন্ট সালেহ সৌদি আরব পালিয়ে যান। পরে সালেহকে ক্ষমতায় ফেরাতে ২০১৫ সালের মার্চে সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোকে নিয়ে ইয়েমেনে হুতিদের হটিয়ে দিতে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন এই যুদ্ধজোটের সঙ্গে হুতিদের লড়াইয়ে নিহত হয় প্রায় ৩ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ। সৃষ্টি হয় তীব্র মানবিক সংকট। মাঝে সৌদি প্রশাসনের সঙ্গে হুতিদের বন্দিবিনিময় হলেও যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। বর্তমানে হামাসের হয়ে ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে লড়ছে হুতিরা।
ওদিকে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলের সংঘাত বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। ২০১১ সাল থেকে মালি, বুরকিনা ফাসো, নাইজারজুড়ে চলছে সংঘাত। আরব বসন্তের পর থেকে ইসলামি জঙ্গিবাদই এসব সহিংসতার মূল কারণ। দেশ তিনটিতে ফ্রান্সসহ বিদেশি সেনারা অবস্থান নিয়ে জঙ্গিবাদী কার্যকলাপ রুখতে চেষ্টা করছিল। আগের থেকে তীব্রতা কমে এলেও এখনো থেমে যায়নি এই সংঘাত। সম্প্রতি দেশ তিনটিতে সামরিক অভ্যুত্থান হওয়ার পর দৃশ্যপট পাল্টেছে। বর্তমানে ফরাসি সেনারা আর নেই। সেনাশাসকরা জঙ্গিবাদ রুখতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিন দেশেই আলকায়েদা ও আইএস-সমর্থিত বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। তাদের সহায়তা করছে রাশিয়ার ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার।
অঞ্চলটিতে চীনেরও আছে বিপুল অর্থনৈতিক স্বার্থ। ফলে সেখান থেকে পশ্চিমারা বিতাড়িত হলে লাভটা চীন-রাশিয়ারই বেশি হবে। তবে খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চলটি থেকে খুব সহজেই নিজেদের গুটিয়ে নিতে চাইবে না পশ্চিমা কোম্পানিগুলো। ফলে একটা অস্থির অবস্থা জারি রাখতে নিজেদের সরকারের মাধ্যমে সেখানে অর্থ-অস্ত্র বিনিয়োগেও পিছপা হচ্ছে না তারা।