জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।
আজ রবিবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। এছাড়াও পৃথক পৃথকভাবে মানববন্ধন করে গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি (ডিএসএফ) এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। এসময় আন্দোলকারী শিক্ষার্থী এবং ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে চারটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো:- ১. দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছাত্রলীগের দখলদারিত্বের অবসান ঘটিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বৈধ সিট নিশ্চিত করতে হবে। ২. সারাদেশে যত ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে সবগুলোর তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার করতে হবে। ৩. জাবির ধর্ষণে অভিযুক্ত মামুনকে গ্রেপ্তার করে দুজনকেই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ৪. ধর্ষণকারীদের পালাতে সহায়তাকারী প্রভোস্ট, প্রক্টর ও অন্যান্যদের দ্রুত পদত্যাগ করতে হবে।
ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কাঠামো গড়ে তুলেছে যার বাইপ্রোডাক্ট হলো জাবির এই ধর্ষণের ঘটনা। জবাবদিহিতা ছাড়া ক্ষমতাই এই ঘটনার নেপথ্যে ইন্ধন যুগিয়েছ। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে আইন আদালতসহ সকল প্রয়িষ্ঠান আওয়ামী লীগ ধ্বংস করেছে। ফলে এঘটনার ন্যায় বিচার পাওয়া অনেকটাই অসম্ভব। আমরা দেখেছি, ছাত্রলীগের নেতা মুস্তাফিজ গতকাল পরিকল্পনামাফিক এই ধর্ষণ করেছে, যেখানে ভুক্তভোগী নারীর স্বামীকে রুমে বেঁধে রাখা হয়। এই ঘটনা প্রকাশিত হবার পরে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের পালাতে সাহায্য করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যদি হল পাহারা দিয়ে ধর্ষকদের সহযোগীদের পালাতে বাধা না দিত তাহলে তাদের কখনো আটক করাও সম্ভব হতো না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে করা মানববন্ধনের বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী অদিতি ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো একটি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার জায়গা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এমন এক জায়গায় এসব ঘটনা পুরো দেশের জন্য লজ্জাজনক। এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মানুষ হওয়ার কোনো উপাদান নেই। ফলে দেখা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আজ গণধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে। এটা পুরো শিক্ষার্থী সমাজের জন্য লজ্জাজনক।
একই দাবিতে সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতাসহ সংশ্লিষ্টদের বিচার এবং সকল ধরনের নারী নিপীড়ন বন্ধের দাবি জানান তারা।