নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ঘরের সিঁধ কেটে চুরি করতে গিয়ে মা-মেয়েকে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনজনের চোর দলের দুজন গৃহবধূকে (৩০) ও অপরজন তার কিশোরী মেয়েকে (১১) ধর্ষণ করে। চোরের দল যাওয়ার সময় মা ও মেয়ের নাকফুল ও কানের দুল এবং নগদ ১৭ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে (০৫ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নের চর কাজী মোখলেস গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ তিন সন্তানের জননী ও কিশোরী স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার পরিবারটি কয়েক মাস আগে হাতিয়া থেকে এসে ওই গ্রামে নতুন বসতি স্থাপন করে। ওই গৃহবধূর স্বামী পেশায় দিনমজুর। তিনি কাজের জন্য বিভিন্ন এলাকায় গেলে ২/৩ দিন পর বাড়িতে ফেরেন। গত দুদিন আগে তিনি কাজের সন্ধানে আবারও বাইরে যান। এসময় গৃহবধূ বাড়িতে তার তিন সন্তান নিয়ে অবস্থান করছিলেন। সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে বসতঘরের সিঁধ কেটে প্রথমে এক চোর ভেতরে প্রবেশ করে ঘরের দরজা খুলে দিলে বাকি দুই চোর ঘরে প্রবেশ করে। এদের মধ্যে দুজন ওই গৃহবধূকে এবং অপরজন কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ করে। চোরের দল যাওয়ার সময় গৃহবধূর হাত-পা ও মুখ বেঁধে মা-মেয়ের নাকফুল ও কানের দুল এবং নগদ ১৭ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
শিশুদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন গৃহবধূর বাঁধন খুলে দেয় ও চরজব্বার থানায় খবর দেয়।
চর জব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। গৃহবধূ ও তার মেয়েকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।
জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি। তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে। আশা করি দ্রুতই বিস্তারিত জানতে পারব।
এর আগে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। আলোচিত ওই ঘটনার মামলায় গতকাল ১০ জনের ফাঁসি রায় দেন আদালত। একই সঙ্গে ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের