কারাগারে বসেই এআই-এর মাধ্যমে প্রচারণা ইমরানের

  • নির্বাচনী প্রচারণায় বিকল্প ও অপ্রচলিত পদ্ধতি ব্যবহার করছেন পিটিআই নেতারা। এআই ভয়েস জেনারেশন ব্যবহার করে অডিও বক্তব্য তৈরি করা হচ্ছে ইমরানের
আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:৩৪ পিএম

পাকিস্তানে দুই বছরেরও কম সময়ে প্রধানমন্ত্রী এবং এরপর কারাগারে, ইমরান খান। বিভিন্ন নাটকীয়তায় রাজনৈতিক জৌলুস হারিয়েছে তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফ।

তবে ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই বলেছে যে, তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা বিভিন্ন মামলায় জেলে থাকলেও তারা আসছে সাধারণ নির্বাচনে জিততে পারবে। কঠিন এই পরিস্থিতিতেও পিটিআই তাদের বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হয়নি।

নির্বাচন উপলক্ষে কয়েক সপ্তাহ আগেই জোর প্রচারণা শুরু করেছে পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএর-এ) ও পাকিস্তান পিপল’স পার্টির মতো রাজনৈতিক দলগুলো। কিন্তু ভালোমতো প্রচারণা চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন না পিটিআই নেতারা।

‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলেও নানাভাবে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। সরাসরি মাঠে-ময়দানে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, প্রার্থীদের গুম ও হত্যার অভিযোগও রয়েছে।  

আর তাই এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনী প্রচারণায় বিকল্প ও অপ্রচলিত পদ্ধতি ব্যবহার করছেন পিটিআই নেতারা। কারাগারে থাকায় সরাসরি বক্তব্য দিতে পারছেন না ইমরান খান। এক্ষেত্রে একটি কৌশল বের করেছেন তিনি।

পাকিস্তানি গণমাধ্যম জিও নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, কারাগার থেকে আইনজীবীদের মাধ্যমে নোট আকারে বক্তব্য লিখে পাঠোচ্ছেন ইমরান খান। আর সেই নোট থেকে এআই ভয়েস জেনারেশন ব্যবহার করে অডিও বক্তব্য তৈরি করা হচ্ছে। সেই অডিও বক্তব্য দিয়ে টিকটকে ডিজিটাল সভা-সমাবেশ আয়োজন করছে পিটিআই নেতারা।

এইসব বক্তব্যে সমর্থকদের নির্বাচনের দিনে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী। ইউটিউব ডাটা অনুসারে ডিজিটাল এসব সভা-সমাবেশ লাখ লাখ মানুষ ভিউ করেছেন।

বলা হচ্ছে পিটিআই-এর নতুন প্রযুক্তিতে প্রচারণা এবং সাবেক ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা তাকে এখনও শীর্ষে রেখেছে।

বিবিসি বাংলা বলছে, এবারের নির্বাচনে পিটিআই-এর প্রচারণার জন্য প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পিটিআই-এর সবচেয়ে বড় সমর্থক তরুণ ভোটাররা। তারা মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি সক্রিয়। তাই তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ডিজিটাল পদ্ধতিই ব্যবহার করছেন তারা।

পার্টির অফিসিয়াল এক্স বা সাবেক টুইটার অ্যাকাউন্ট, ইনস্টাগ্রাম এবং টিকটক পেইজগুলোর প্রতিটিতে কয়েক মিলিয়ন ফলোয়ার রয়েছে। যা কিনা অন্য দুটি প্রধান দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি-পিপিপি এবং পাকিস্তান মুসলিম লীগ, নওয়াজ-পিএমএল’এন এর চেয়েও বেশি।

ইমরান খানের ফেসবুক পেজেও একটি চ্যাটবট রয়েছে। যার মাধ্যম নির্বাচন সম্পর্কিত সব তথ্য ও দিক-নির্দেশনা মুহূর্তে পৌঁছে যাচ্ছে নেতাকর্মী ও নির্বাচনের প্রার্থীদের কাছে। এছাড়া পিটিআই একটি অ্যাপও তৈরি করেছে যা ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের তাদের নির্বাচনী এলাকায় সহজেই পিটিআই এর প্রার্থী খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।

তবে এর কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। ইন্টারনেট মনিটরিং গ্রুপ নেটব্লক্সের মতে, গোটা পাকিস্তান জুড়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম জুড়ে বিপর্যয় দেখা দেয়। মূলত পিটিআইয়ের সমাবেশের সময়েই এ ধরণের বিঘ্ন ঘটতে দেখা গিয়েছে।

আর তাই প্রযুক্তির পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি ইমরানের ছবি সম্বলিত লিফলেট বিতরণ ও করছে তার দল।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক উইলসন সেন্টারের সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউট-এর পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন, পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর মাত্র ৩০ শতাংশ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে। ফলে পিটিআই-এর বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টায় অনলাইন প্রচারণায় সীমাবদ্ধতা থাকবে। অতীতেও এমন হয়েছে। গত নির্বাচনে নওয়াজ শরিফ কারাগারে থাকার সময়ও এমনটি ঘটেছে।

এমন অবস্থায় ভোটাররা মনে করতে পারেন, পিটিআই বা ইমরান খানের জয়ের আশা নেই। সেক্ষেত্রে তাদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতির হার অনিশ্চিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন অবস্থায় দেখার বিষয় যে শুধু ইমরান খানের নামের ম্যাজিক কি পিটিআইকে জিতিয়ে দিতে পারবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত