৪৪ হাজারের বেশি কোটা খালি রেখেই শেষ হজ নিবন্ধন

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:০৯ এএম

চতুর্থ মেয়াদে সময় বাড়িয়েও ৪৪ হাজারের বেশি কোটা খালি রেখে শেষ হয়েছে হজ নিবন্ধন প্রক্রিয়া। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারিভাবে নিবন্ধন করেছেন ৮৩ হাজার ১২০ জন হজযাত্রী। তাদের মধ্যে সরকারিভাবে নিবন্ধন করেছেন ৪ হাজার ২৬০ জন। আর বেসরকারিভাবে করেছেন ৭৮ হাজার ৮৬০ জন। নিবন্ধন শেষে এখনো কোটা খালি রয়েছে ৪৪ হাজার ৭৮টি। এ বছর সৌদি আরব বাংলাদেশিদের জন্য ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮টি কোটা নির্ধারণ করে দিয়েছিল।

হজসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতীতে এতসংখ্যক কোটা কখনো ফাঁকা থাকেনি। এ বছর জাতীয় নির্বাচন ও বৈশ্বিক বিভিন্ন প্রভাবের কারণে এমনটি ঘটেছে। এ ছাড়া হজ ছেড়ে ওমরাহর দিকে ঝুঁকেছেন অনেকে।

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) সভাপতি শাহাদাত হোসাইন তসলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অতীতে এতসংখ্যক কোটা কখনো ফাঁকা থাকেনি। জাতীয় নির্বাচনের সময় অনেকেই দেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাই প্রাক-নিবন্ধন করলেও চূড়ান্তভাবে হজে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। এ ছাড়া হজের তুলনায় ওমরাহ করতে টাকা কম লাগায় মানুষের ওমরায় আগ্রহ বেড়েছে। এসব কারণে এ বছর হজে সাড়া কম মিলেছে।’

আগামী বছর হজযাত্রার ব্যয় কমানো হবে কি না জানতে চাইলে হাব সভাপতি বলেন, ‘এরকম সম্ভাবনা নেই। সৌদি আরবে খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমাদেরও বাড়াতে হয়।’

চলতি মৌসুমে হজের নিবন্ধন শুরু হয় গত বছর ১৫ নভেম্বর, যা ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে। এ সময়ের মধ্যে হজে গমনেচ্ছুদের প্রত্যাশিত সাড়া না মেলায় সময় বাড়ানো হয় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তাতেও কোটার অর্ধেকও পূরণ না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এতেও প্রত্যাশিত কোটা পূরণ না হওয়ায় তৃতীয় দফায় ১ ফেব্রুয়ারি এবং সর্বশেষ ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২২ সালে হজযাত্রীদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রথম প্যাকেজে সর্বমোট খরচ ধরা হয়েছিল ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় প্যাকেজে ৩ লাখ ৬০ হাজার এবং তৃতীয় প্যাকেজে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা ছিল। তবে পরের বছরই খরচ বেড়ে যায়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের খরচ নির্ধারণ করা হয় ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় খরচ ধরা হয় ৬ লাখ ৭২ হাজার ৬১৮ টাকা। খরচ বাড়ার কারণে প্রাক-নিবন্ধনকারী অনেকেই আর নিবন্ধন করেননি। বর্তমানে হজে যেতে হলে প্রথম ধাপে ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন করতে হয়। আর মূল নিবন্ধনের জন্য ন্যূনতম ২ লাখ ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। বাকি টাকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়।

এবার হজের খরচ কমিয়ে গত নভেম্বরে প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। সাধারণ প্যাকেজে হজ করতে ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪০ এবং বিশেষ প্যাকেজে ৯ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ টাকা ব্যয় ধরা হয়। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮৩ হাজার ২০০ টাকা কমিয়ে সাধারণ প্যাকেজ ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৮০০ এবং বিশেষ প্যাকেজ ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করে হাব।

কোটা খালি রেখেই হজ নিবন্ধন শেষ হওয়ার বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. মো. মন্জুরুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আর সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই। কেননা ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি সরকারকে জানিয়ে কোটা সমর্পণ করতে হবে। বাংলাদেশি কোটার ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ হজযাত্রীর জন্য মাথাপিছু সিকিউরিটি মানি হিসেবে ২৮ রিয়াল করে জমা দিতে হয়। এরই মধ্যে বিশেষ বিবেচনায় ছয় দিন সময় বাড়িয়ে আমাদের কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত