সীমান্তে ভারী গোলাবর্ষণ কমলেও কাটেনি আতঙ্ক

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৪৭ এএম

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালীর মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ভারী গোলাবর্ষণ কমেছে। তবে কয়েক ঘণ্টা পরপর এক-দুটি গুলির শব্দ ভেসে আসছে। এই তথ্যটি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজনরা।

এদিকে ভারী গোলাবর্ষণ কমলেও স্থানীয়রা আতঙ্কে রয়েছে। তবে আজ বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সাধারণ মানুষকে রাস্তাঘাটে দেখা যাচ্ছে।

আজ সকাল সাড়ে ৯টায় ঘুমধুমের বেতবুনিয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ৫০-৬০টি দোকানের মধ্যে বেশির ভাগ দোকান খুলেছে। মানুষ চায়ের দোকানগুলোতে আড্ডা দিচ্ছেন। তরকারির দোকানগুলোতে ভিড় বাড়ছে। কয়েক দিন ধরে এই বাজারের মাত্র কয়েকটি দোকান খোলা থাকত। বেতবুনিয়া বাজার থেকে জলপাইতলী-তুমব্রু সড়কে ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল আগের চেয়ে বেশি দেখা গেছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি ও উখিয়া সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের তুমব্রু রাইট ক্যাম্প ও ঢেঁকিবনিয়া সীমান্তচৌকি দখলকে ঘিরে গত শনিবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) গোলাগুলি শুরু হয়। হামলা ঠেকাতে না পেরে প্রাণে বাঁচতে দেশটির সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি), পুলিশ, ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার ২৬৪ সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

ঘুমধুম ইউনিয়নের মণ্ডল পাড়ার অবস্থান মিয়ানমারের ঢেঁকিবনিয়া সীমান্তচৌকির খুব কাছে। এ গ্রামের তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গত রবিবার থেকে পরিবারের সদস্যরা টেকনাফের হোয়াইক্ষ্যংয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন। তবে তিনি বাড়ি আছেন।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা ঘুমধুমের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন। উত্তর ঘুমধুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

গতকাল রাত ৮টার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ১৩৭ নারী-পুরুষ ও শিশু আশ্রয় নিয়েছেন। ঘুমধুমের ইউপি সদস্য দিল মোহাম্মদ ভুট্টো তাদের খাবার দিচ্ছেন। দিল মোহাম্মদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে গুলির শব্দ কমেছে। তবে এলাকার মানুষজন এখনো আতঙ্কে আছে। সীমান্তের মানুষের অতীতের অভিজ্ঞতা ভালো না। টানা ১২ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আবারও সংঘর্ষ শুরু হয় তাদের মধ্যে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত