৩০ বলে ৪৫ রান, দুটো চার এবং চারটে ছক্কা। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের চলমান আসরে ষষ্ঠ ইনিংসে এসে বলা যায় নিজের প্রতি অবশেষে কিছুটা হলেও সুবিচার করেছেন লিটন কুমার দাস। পাওয়ার প্লে শেষে বিনা উইকেটে ৪৬ রানের পরও দলীয় সংগ্রহটা যে দেড়শ রানও হয়নি, সেজন্য বাংলাদেশ জাতীয় দলের রোগটাকেই দায়ী করলেন লিটন। জাতীয় দল যে কারণে টি-টোয়েন্টিতে ভালো হয়ে ওঠেনি, সেই মাঝের ওভারে এক-দুই রান নিতে না পারা আর ডট বলের আধিক্যের সঙ্গে বাউন্ডারি বের করতে না পারা; এসব কারণেই উইকেট ভালো হওয়ার পরও রান হচ্ছে না বিপিএলে।
২৩টা ম্যাচ শেষে চলতি বিপিএলের ৪৬টা ইনিংসে ১৭০-এর বেশি রান হয়েছে মাত্র ৯টা ইনিংসে। সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ১৯৩ রান, সর্বোচ্চ রান তাড়া বরিশালের ১৮৭ এর জবাবে খুলনার ১৮৮। বেশিরভাগ ম্যাচেই রান হচ্ছে দেড়শর আশপাশে, দলীয় একশ রানের নিচে অলআউট হওয়া ইনিংসের সংখ্যা ৩। কোনো সেঞ্চুরি হয়নি এখনো, যারা রান করছেন তাদের স্ট্রাইক-রেট টি-টোয়েন্টির প্রথাগত ছন্দের সঙ্গে বেমানান। ৬ ম্যাচে ২৫১ রান করে দেশে ফিরে যাওয়া পাকিস্তানের বাবর আজম এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক, তার স্ট্রাইক-রেট ১১৪.৬১। ৭ ইনিংসে ২৩৮ রান করা মুশফিকুর রহিমের স্ট্রাইক রেট ১২৫.৯২। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে বিপিএল শুরুর আগে ভালো উইকেটের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত খুব কম ম্যাচেই দেখা গেছে রান উৎসব। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের অধিনায়ক লিটন দাসের কাছে এর কারণ জানতে চাইলে তার উত্তর, ‘সব সময় উইকেটকে দোষ দেওয়ার তা কিন্তু না। যারা ক্যালকুলেটিভ ঝুঁকি নিয়ে খেলতে পারে তারা এই মাঠে... আজ কিন্তু একটা পরিস্থিতি ছিল ১৭০ রান হওয়ার মতন ছিল। হলে উইকেটকে কেউই দোষ দিতাম না। কোনো কারণে আমরা পারিনি, মিডল ওভারে আমাদের কিছু ঘাটতি আছে। বাংলাদেশ দলেও আমরা এই জিনিসটার ভুক্তভোগী। পাওয়ার প্লে-তে ভালো করলে মাঝখানে ভালো খেলতে পারি না। আবার মাঝখানে খেলতে পারলে ফিনিশ করতে পারি না। এখনো আমরা শেখার ধাপে আছি, এমন না যে ভালো দল আমরা। বিপিএলের গেমগুলো চলতে চলতে আমরা এক পর্যায়ে শিখে যাব কীভাবে মাঝের ওভারে খেলতে হয়।’
উইকেট বদলেরও কিছু নেই বরং এই উইকেটেই কীভাবে ভালো খেলতে হবে সেটা আয়ত্ত করাটাই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানালেন লিটন, ‘দেখেন, আমি কিছু বললে কি উইকেট চেঞ্জ হবে? আমি যদি চাই কালকের ম্যাচে দুইশো রানের উইকেট দিতে, দিতে পারবে? যেটা ফ্যাক্ট না সেটা কীভাবে হবে। এখন দেড়শো রানের উইকেটে আমরা কীভাবে খেলতে পারি সেটা দেখতে হবে। আপনি সব সময় টি-টোয়েন্টিতে দেড়শো রানের উইকেট পাবেন না। দেড়শো রানের উইকেটে আমরা কীভাবে দেড়শো রান করতে পারি এটা একটা চ্যালেঞ্জ।’
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের খেলায় মাঝের ওভারে ডট বলের সংখ্যা কমিয়ে সিঙ্গেলস ডাবলস নেওয়ার সামর্থ্য বাড়লে আর বাউন্ডারি মারার প্রবণতা যোগ হলেই বড় সংগ্রহ দেখা যাবে বিপিএলে যার প্রভাবটা আসবে জাতীয় দলেও, এমনটাই মনে করেন লিটন, ‘হতে পারে (জাতীয় দলেরও মূল সমস্যা মিডল অর্ডার)। একে তো আমরা কেউই পাওয়ার হিটার না। গায়ে এত জোর আছে যে ছয় মারব খালি তাও না। কিন্তু আমাদের মতন খেলোয়াড়রাও টি-টোয়েন্টিতে অনেক রান করছে, তারা কীভাবে খেলছে! তারা এক দুই করে নিয়ে বাউন্ডারি খুঁজছে। আমরা চেষ্টায় আছি এসব করার। হয়তো আস্তে আস্তে আসবে। (খুলনার বিপক্ষে) আমরা মিডল ওভারে ভালো ক্রিকেট খেলিনি, অনেক ডট হয়েছে। আমরা অনেক বড় বড় শট খেলতে চাচ্ছি। এক, দুইয়ের অপশন কিন্তু আছে। দেখবেন বড় বড় খেলোয়াড়রা এক-দুই করে খেলা বানায়। যে জিনিসটা আমাদের ঘাটতি আছে।’
জাতীয় দলে খেলার জন্য ডাক পাওয়া আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা এরই মধ্যে বিপিএল ছেড়েছেন। কাল চলে গেছেন পাকিস্তানের ক্রিকেটাররাও। যাওয়ার আগে রাঙিয়ে গেছেন আমির জামাল। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের এই বোলার কাল নিয়েছেন ২৩ রানে ৫ উইকেট, আসরের এখন পর্যন্ত একমাত্র ফাইফার। আমির জামালের দারুণ বোলিংয়ের সঙ্গে খুলনা টাইগার্সের কা-জ্ঞানহীন ব্যাটিং, দুইয়ের যোগফল টানা ৪ জয়ের পর ২ ম্যাচে হার। কুমিল্লার করা ৭ উইকেটে ১৪৯ রান তাড়া করে খুলনা অলআউট ১১৫ রানে। এনামুল হক বিজয় ১৯, এভিল লুইস ১০, নাহিদুল ইসলাম ২১ আর মোহাম্মদ ওয়াসিমের ২৩ রান কেবলই ব্যবধান কমিয়েছে।
ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে প্লে-অফের রূপরেখা। রংপুর ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আর খুলনা ৮ পয়েন্ট নিয়ে চারে। তবে পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের হারিয়ে খুলনা খানিকটা দুর্বল। অধিনায়ক বিজয়ও জানেন না সামনে কারা আসছেন। সেই সমস্যা নেই রংপুরের। চতুর্থ জয়ে কুমিল্লা উঠে এসেছে তিনে। প্লে-অফের জায়গার জন্য জোর লড়াইটা হবে ফরচুন বরিশাল আর খুলনা টাইগার্সের ভেতর, আভাস এমনটাই।
