সাফের সাধারণ সম্পাদক হেলাল বললেন

সাফের স্বার্থেই যুগ্ম চ্যাম্পিয়নের সিদ্ধান্ত

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:১২ এএম

সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ওমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপের কলঙ্কজনক সমাপ্তির জন্য শ্রীলঙ্কান ম্যাচ কমিশনার ডিলান ডি সিলভা জয়সুরিয়াকে দুষলেন সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক হেলাল। তার এক ভুলের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় দুই ঘণ্টা কম ঝক্কি পোহাতে হয়নি তাকে। সাফের ভবিষ্যতের স্বার্থেই পরবর্তীতে ফাইনালের দুই দল বাংলাদেশ ও ভারতকে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন।

পুরস্কার বিতরণী শেষে মাঠেই সাফের পক্ষ থেকে এই ঘটনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন হেলাল। বিষয়টাকে দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, 'যে ধরনের ঘটনা ঘটেছে, একেবারেই দুর্ভাগ্যজনক। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অতীতে কখনই এরকম কোনো কিছু হয়নি। ভুলটা হয়ে গেছে ম্যাচ কমিশনার দ্বারা। সে ভুলটা করেছে। নিয়মকানুনটা সে পুরোপুরি না দেখে হয়তো সিদ্ধান্তটা দিয়ে দিয়েছে। আমি যতটুকু জানি, রেফারি খেলা চালিয়ে যেতে বলেছিল, সে (ম্যাচ কমিশনার) তখন বলেছিল রেগুলেশনে এটাই (কয়েন টস) আছে। এই ভুলটা সে করাতে এই সমস্যা হয়েছে। এএফসির সাথে কথা বলাতে ওরা আমাদের জানালো, এটাই নিয়ম (পেনাল্টি শ্যুট আউট চালিয়ে যাওয়া)।'

কয়েন টসের মাধ্যমে ভারতকে প্রথমে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেন ম্যাচ রেফারি। এই ঘোষণায় ভারতও মাঠে শিরোপা উদযাপনে মেতে ওঠে। পরে যখন নিজের ভুল বুঝতে পারেন, তখন দুই দলকে পেনাল্টি শ্যুট আউট চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন ম্যাচ কমিশনার। তবে ভারত সেটা মেনে না নিয়ে মাঠ ছেড়ে চলে যায়। এরপর সাফের পক্ষ থেকে একাধিক প্রস্তাব রাখা হয় ভারতের কাছে। প্রথমে কোনটাই তারা মেনে নিতে চায়নি। পরে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ কর্তাদের হস্তক্ষেপে যুগ্ম চ্যাম্পিয়নের প্রস্তাব মেনে নেয় ভারত। যদিও পুরস্কার বিতরণীতে পুরো দল উপস্থিত হয়নি। হেলাল বিষয়টি সবিস্তরে জানালেন এভাবে, 'এমন পরিস্থিতি দাঁড়াল, আমাদের কিছু করার নেই। আমরা সমঝোতার জন্য কয়েকটা প্রস্তাবনা দিয়েছিলাম। এক- ম্যাচটা আমরা অ্যাবানডনড (পরিত্যাক্ত) করে দেই এবং আরেকটা ম্যাচ আয়োজন করব। দুই- টাইব্রেকার চালিয়ে নেওয়া এবং তিন-যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা। শেষ পর্যন্ত এই আলোচনায় অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদককে অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। শেষ পর্যন্ত তারা রাজি হয়, যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিষয়ে। এই ট্রফিটা আপাতত আমরা ভারতকে দিয়ে দিয়েছি। আরেকটা ট্রফি তৈরি করে পরে বাংলাদেশকে দিয়ে দিব।'

টুর্নামেন্টের বাইলজে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণার কথা উল্লেখ ছিল না। তারপরও সাফের স্বার্থেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে জানালেন হেলাল, 'যে পরিস্থিতি হয়েছে, ওই পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে একটা সিদ্ধান্ত দিতে হয়েছে। এ ছাড়া আমার সামনে আর কোনো উপায় ছিল না। এখানে তো আর কারও আপিল করার কিছু নেই। দুই পক্ষই সম্মত হয়েছে বলেই তো এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'

এমন ঘটনায় সাফ প্রশ্নবিদ্ধ হবে কীনা জানতে চাইলে হেলাল বলেন, 'প্রশ্নবিদ্ধ…এটা আপনারা বলতে পারেন। কিন্তু এটা সাফের কোনো ব্যাপার না। ম্যাচ কমিশনার স্বাধীনভাবে কাজে করে, তারা সাফের অংশ নয়। ম্যাচ কমিশনার যদি ভুল করে থাকে, রেফারির যদি ভুল হয়…রেফারিদের তো ম্যাচে অনেক ভুল হয়; এটা কি সাফের দায়িত্ব। এটা কি ফিফা দায়িত্ব নিবে। ভুল তো ভুলই। ভবিষ্যতে এমন ভুল হবে, আমরা তেমনটা মনে করি না। যে রেগুলেশন, সেটা আমরা ম্যাচ কমিশনারকে আগেই পাঠিয়ে দেই। এখন তাদেরকে হার্ড কপি রাখতেও বলা হবে। মুখস্থ বিদ্যা নয়, যখনই কোনো সমস্যা হবে, তখন তারা যেন হার্ড কপি দেখে নিতে পারে।'

ম্যাচ কমিশনার হিসেবে হেলালের রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তাই এরকম ভুল দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন, 'আমি যখন ম্যাচ কমিশনার ছিলাম, এরকম কোন পরিস্থিতি তৈরী হলে বাইলজটা দেখেই সিদ্ধান্ত দিতাম। এটাই নিয়ম। সে আসলে নিয়ম-কানুন ঠিক মতো না পরেই সিদ্ধান্ত দিয়েছে।'

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত