তারাই ছিলেন নিজ নিজ স্প্রিন্টে ফেভারিট। বিলম্বে হওয়া ১০০ মিটার স্প্রিন্টে অনুমিত ফলই এসেছে; যা একটু লড়াই হয়েছে মেয়েদের বিভাগে। তবে অঘটন ঘটতে দেননি শিরিন আক্তার। এ নিয়ে ১৫তম বারের মতো দ্রুততম মানবীর খেতাব নিজের করে রাখলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এই স্প্রিন্টার। ছেলেদের বিভাগে ইমরানুর রহমানকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেননি কেউ। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এই স্প্রিন্টার অভিষেকের পর থেকেই সেরার মুকুট রেখেছেন নিজের কাছে। শুক্রবার চতুর্থবারের মতো দ্রুততম মানব হলেন সর্বশেষ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সোনাজয়ী স্প্রিন্টার। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বসানো নতুন অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকে শুক্রবার শুরু হওয়া ৪৭তম জাতীয় অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম দিনে আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল এই দুটি ইভেন্ট। তবে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়ে আলো কেড়ে নেন হাইজাম্পার ঋতু আক্তার।
সেনাবাহিনীর হয়ে খেলা ইমরানুর দেশের অ্যাথলেটিকসের বড় বিজ্ঞাপন হয়ে উঠেছেন গত কয়েক বছরে। ঘরোয়ায় যেমন তার একচ্ছত্র আধিপত্য, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন তিনি। গত বছর এশিয়ান ইন্ডোর চ্যাম্পিয়নশিপে ৬০ মিটার স্প্রিন্টে সেরা হয়ে সবাইকে চমকে দেওয়া ৩০ বছর বয়সী ইমরান কাল সেরা হতে সময় নেন ১০.৩৬ সেকেন্ড। ১০০ মিটার অবশ্য তার ক্যারিয়ারসেরা টাইমিংয়ের চেয়ে অনেক পিছিয়ে শেষ করেছেন তিনি। গত বছর যুক্তরাজ্যে স্টার্টফোর্ড কমিউনিটি ট্র্যাকে দৌড়েছিলেন ১০.১১ সেকেন্ডে। যদিও ১০.৩৬-এই তিনি অনেকটা পেছনে ফেলেন দ্বিতীয় হওয়া নৌবাহিনীর মোহাম্মদ ইসমাইলকে (১০.৬৭ সেকেন্ড)। এই ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জেতা রাকিবুল হাসান সময় নেন ১০.৭২ সেকেন্ড।
এর আগে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ১০বার সেরার মুকুট পরেছিলেন শিরিন। আর চারবার তিনি সেরা হন সামার মিটে। ১০কে ১১ করতে কাল তার জোর লড়াই হয়েছে একই সংস্থার সুমাইয়া দেওয়ানের সঙ্গে। তবে অভিজ্ঞতার কাছে এবারো হারতে হয় সুমাইয়াকে। শিরিন ১২.১১ সেকেন্ড নেন রেকর্ড ১৫তম বারের মতো সেরা হতে। সুমাইয়ার সময় লাগে ১২.২৯ সেকেন্ড। এই ইভেন্টে তৃতীয় হন যশোরের সামিয়া আক্তার সাথী। গত সামার মিটে ১১.৯৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন শিরিন। নিজের সেরাকে ছাপিয়ে যেতে পারেননি তিনিও।
জাতীয় মিটের প্রথম দিনে মোট ১৭টি ইভেন্ট হয়েছে। এর মধ্যে নতুন জাতীয় রেকর্ড হয়েছে তিন ইভেন্টে। তিনটি রেকর্ডই করেছেন নারী ক্রীড়াবিদরা। ঋতুর রেকর্ড ছাড়াও মেয়েদের ৫ হাজার মিটারে রেকর্ড গড়ে সেরা হন নৌবাহিনীর শাসসুন্নাহার রতœা। তিনি সময় নেন ১৮:৪৯:৩৮ মিনিট। এই ইভেন্টে আগের রেকর্ডটি ছিল নৌবাহিনীরই রিংকি বিশ^াসের (১৯:৪১:৪০ মি.), যা তিনি গড়েছিলেন ২০২২ সালে। মেয়েদের শটপুটে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েন নৌবাহিনীর জাকিয়া আক্তার। তিনি ছুড়েছেন ১৩.৫২ মিটার। ১৯৯২ সালে নেলী জেসমিনের গড়া ১২.১৪ মিটার শুক্রবার ভাঙেন জাকিয়া।
ছেলেদের হাই জাম্পে ফেভারিট মাহফুজুর রহমানই সেরা হয়েছেন। নৌবাহিনীর এই ক্রীড়াবিদ লাফিয়েছেন ২ মিটার উচ্চতায়। ২০১৯ সালে এসএ গেমসে ২.১৬ মিটার লাফিয়ে রৌপ্যপদক জেতা মাহফুজুর একবারের চেষ্টায় ২ মিটার লাফান। এরপর আলোকস্বল্পতার কারণে আর লাফাননি। তবে বাকিরা কেউই তাকে ছুতে পারেননি। সেনাবাহিনীর স্বপন বিশ্বাস দ্বিতীয় ও নৌবাহিনীর সাখাওয়াত হোসেন তৃতীয় হন।
ইমরান-শিরিন-ঋতু-জাকিয়াদের সাফল্যের দিনে জাতীয় অ্যাথলেটিকস আয়োজনে দেখা গেছে অনেক অব্যবস্থাপনা। নতুন ট্র্যাকে শুরুটা গোছানো হয়নি ফেডারেশন কর্তাদের ব্যর্থতায়। ১০০ মিটার ইভেন্ট শুরু হওয়ার কথা ছিল পৌনে ৪টা ও ৪টায়। কিন্তু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের লম্বা বক্তৃতার পর ইভেন্ট শুরু হয় প্রায় এক ঘণ্টা পর। মশাল প্রজ¦ালনের সময় ঘটতে পারত বড় দুর্ঘটনা। সাবেক দ্রুততম মানবী নাজমুন নাহার বিউটি ও পোল ভোল্টার শরীফুল হাসান মশাল নিয়ে নতুন ট্র্যাকের ওপর দিয়ে দৌড়াচ্ছিলেন। এমন সময় মশাল থেকে আগুন চলে আসে হাতলের দিকে। পরে আগুলেন কু-ুলি পড়ে টার্ফের ওপর। দ্রুত একজন সেই আগুনের কু-লী পা দিয়ে মাঠে ঠেলে দেন।
