ছুটির দিনে বাঁধনহারা

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:০৬ এএম

লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের আনাগোনায় মুখর ছিল ছুটির দিনের বিকেল। মেলায় শিশুদের কোলাহলও ছিল চোখে পড়ার মতো।

গতকাল শুক্রবার লাইন ধরে মেলায় প্রবেশ করতে হয়েছে। স্টল স্টলে দেখা গেছে ভিড়। বিক্রি বাড়ায় প্রকাশকদের মুখে ছিল হাসি। পাঠকরা বই দেখছেন, কিনছেন। পছন্দের লেখকের সঙ্গে তুলেছেন সেলফি।  গ্রন্থ উন্মোচন কেন্দ্রেও ছিল দীর্ঘ লাইন। ছুটির দিনে মেলা যেন পেল তার চিরচেনা রূপ।

সকালে শিশুপ্রহরে শিশুদের মাতিয়ে রেখেছিল সিসিমপুরের হালুম, টুকটুকি, ইকরি, শিকু। স্কুলের শিক্ষার্থী ছাড়াও অনেক শিশুকে দেখা গেছে শিশুপ্রহরে। বাবা-মায়ের সঙ্গে বইমেলায় বই কিনতে দেখা যায় শিশুদের। মেলায় শিশু-কিশোরদের আগমনে বিক্রি বেড়েছে শিশুচত্বরের স্টলগুলোয়।

এই অংশের স্টলমালিকরা জানান, ছুটির দিন ও শিশুপ্রহর ছাড়া অন্য দিন মেলায় শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি কম থাকে। তাই এ সময় শিশুচত্বরে বইয়ের বেচাকেনাও কম হয়। শুক্র-শনিবার অভিভাবকরা শিশু-কিশোরদের মেলায় নিয়ে আসেন। এই দুই দিন বিক্রিও অন্যান্য দিনের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

শিশুদের স্টল ম্যানেজার রাহাতুল ইসলাম বলেন, ‘আজ (গতকাল) শিশুপ্রহর থাকায় অনেক শিশু মা-বাবার সঙ্গে মেলায় এসেছে। তাই অনেক বই বিক্রি হয়েছে। শিশুপ্রহর না থাকলে আমাদের স্টলে আনাগোনা খুবই কম থাকে।’ ঐতিহ্য প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী আরাফাত ইসলাম বলেন, ‘মেলায় আজ সর্বোচ্চ বিক্রি হচ্ছে। দর্শনার্থীও অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি। আজ মেলা অনেক বেশি জমজমাট।’

চয়ন প্রকাশনার পরিচালক ওয়াসীম হক বলেন, ‘এমন জমজমাট মেলা আমরা চাই। ছুটির দিনে অন্য রকম আমেজ বিরাজ করে। পাঠকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল আজ বইমেলা। অন্যান্য দিনের তুলনায় বিক্রিও বেড়েছে। আশা করছি দিন যত যাবে পাঠক-দর্শনার্থীদের আনাগোনা ও বিক্রিও বাড়বে।’

শোভা প্রকাশনীর প্রকাশক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আজ বেশ জমজমাট মনে হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার বই বেশি বিক্রি হবে আশা করছি।’ আগামী প্রকাশনীর প্রকাশক ওসমান গনি জানান, বিক্রি আগের তুলনায় বাড়ছে। দিন যত গড়াচ্ছে, মেলা আরও প্রাণবন্ত হচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার ছিল অমর একুশে বইমেলার নবম দিন। মেলা শুরু হয় বেলা ১১টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত শিশুপ্রহর। গতকাল নতুন বই এসেছে ১৭১টি। অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে ৮টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এতে ক-শাখায় ৩৯৫, খ-শাখায় ২৩৫ এবং গ-শাখায় ৬৫ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন অধ্যাপক নিসার হোসেন। সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার প্রাথমিক বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন বাচিকশিল্পী আনজুমান আরা, মো. গোলাম সারোয়ার ও রফিকুল ইসলাম।

বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : এস ওয়াজেদ আলী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবু হেনা মোস্তফা এনাম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ইকতিয়ার চৌধুরী এবং কুদরত-ই-হুদা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন।

আজকের সময়সূচি : আজ ১০ ফেব্রুয়ারি শনিবার অমর একুশে বইমেলার দশম দিন। মেলা শুরু হবে বেলা ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত মেলায় থাকবে শিশুপ্রহর। শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতা: অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার প্রাথমিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আলোচনা অনুষ্ঠান : বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি : সুচিত্রা মিত্র শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সাইম রানা। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন আহমেদ শাকিল হাসমী এবং অণিমা রায়। সভাপতিত্ব করবেন মফিদুল হক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত