বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নিউরোলোজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সবুজের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে শাহবাগ থানায় মামলাটি করেছেন মনোরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এক নারী সহকর্মী। গত বৃহস্পতিবার রাতে এজাহার জমা দেওয়ার পর গতকাল শুক্রবার তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
গতকাল বিকেলে শাহবাগ থানার এসআই মো. বজলুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মামলার পর আমরা এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। অভিযুক্ত অধ্যাপককে গ্রেপ্তারে কাজ করছি।’
মামলার বাদী সহকারী অধ্যাপকের অভিযোগ, অধ্যাপক শহীদুল্লাহ সবুজ তাকে তার কক্ষে বিভিন্ন সময়ে ডাকেন এবং একটি হাসপাতাল নির্মাণ করবেন বলে জানান। হাসপাতালের অংশীদার হতে অনুরোধ করেন শহীদুল্লাহ সবুজ। এজন্য তার কাছ থেকে টাকা নেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে অশ্লীল ও আপত্তিকর প্রস্তাব দিতেন।
মামলার এজাহারে বাদী বলেছেন, আসামি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ সবুজ সিনিয়র হওয়ায় চাকরির নিরাপত্তার স্বার্থে এ বিষয়ে কাউকে কিছু বলেননি। এরপরও শহীদুল্লাহ সবুজ যখন হাসপাতালে নিজ কক্ষে একা থাকতেন, তখন নানা কাজের অজুহাতে তাকে আসার জন্য ডাকতেন। তখন তার ডাকে সাড়া না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন। এর মধ্যে হঠাৎ একদিন শহীদুল্লাহ সবুজ তার কক্ষে ডেকে নিয়ে জড়িয়ে ধরে মোবাইল ফোনে ছবি তুলে নেন। এই ছবিকে পুঁজি করে বিভিন্ন সময় ব্ল্যাকমেইল করে আসছিলেন। একপর্যায়ে শহীদুল্লাহকে হাসপাতালের অংশীদারত্ব বাবদ দুই দফায় ২০ লাখ টাকা দেন। সর্বশেষ গত ২৫ জানুয়ারি হাসপাতালের বি-ব্লকের অ্যালামনাই রুমে শহীদুল্লাহ কুপ্রস্তাব দিয়ে জড়িয়ে ধরেন। নিজেকে বাঁচাতে চিৎকার দিলে বাদীর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করেন শহীদুল্লাহ সবুজ। সে সময় তিনি নারী চিকিৎসককে জড়িয়ে ধরার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং পরিবারের লোকজনের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান। মানসম্মানের ভয়ে বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক চুপ থাকেন ভুক্তভোগী।
মামলার বাদী সহকারী অধ্যাপক গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডা. শহীদুল্লাহ বিভিন্ন সময় রুমে ডেকে আপত্তিকর প্রস্তাব দিত। আমার সিনিয়র, তাই চাকরির নিরাপত্তার স্বার্থে আমি শুরুতে কাউকে কিছুই জানাইনি। তারপরও বিভিন্ন কাজের অজুহাতে যখন রুমে একা থাকত, আমাকে তার রুমে আসার জন্য ডাকত। আর প্রায় দিনই আমি এড়িয়ে যেতাম। আমার সঙ্গে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পরিবারের কাছে ছড়িয়ে দেবে বলেও হুমকি দেয়। আমি মানসম্মানের ভয়ে তাৎক্ষণিক চুপ থাকি। গত ২৫ জানুয়ারির ঘটনার পর বিষয়টি আমি পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা করি। মামলা করার পর বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর আমি নানামুখী চাপে আছি। আমাকে বিভিন্ন নাম্বার থেকে ফোন করে তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অধ্যাপক শহীদুল্লাহ সবুজের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে বিএসএমএমইউর প্রক্টর অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল বলেন, ‘ভুক্তভোগী সহকারী অধ্যাপক আমাদের কাছে এখনো কোনো অভিযোগ করেননি। কাল (আজ শনিবার) তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করবেন বলে শুনেছি। আমরা বিষয়টি আমলে নিয়েছি। তিনি অভিযোগ না করলেও আমাদের পক্ষ থেকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
