ইসরায়েলের দাবি

গাজায় জাতিসংঘের দপ্তরের নিচে হামাসের কমান্ড টানেল

  • গাজা সিটিতে ইউএনআরডব্লিউএর গাজা সদর দপ্তরের নিচে হামাসের একটি কমান্ড টানেল নেটওয়ার্ক খুঁজে পাওয়ার দাবি জানিয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী
আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:০৭ পিএম

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় জাতিসংঘের ত্রাণ ও শরণার্থী সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) সদর দপ্তরের নিচে হামাসের কমান্ড টানেল খুঁজে পাওয়া গেছে বলে দাবি জানিয়েছে ইসরায়েল।

এটি ফিলিস্তিনিদের জন্য হামাসের শোষণের নতুন প্রমাণ বলেও অভিহিত করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। রবিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

গতকাল শনিবার ইসরায়েলি সেনাদের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, গাজা সিটিতে ইউএনআরডব্লিউএর গাজা সদর দপ্তরের নিচে পরিচালিত একটি টানেল নেটওয়ার্ক খুঁজে পাওয়া গেছে। টানেলটি ৭০০ মিটার দীর্ঘ এবং ১৮ মিটার গভীর।

রয়টার্স জানায়, বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই টানেলের মধ্যে বিদেশি সাংবাদিকদেরও নিয়ে যায়।

সাংবাদিকদের এই টানেলে নিয়ে যাওয়ার কাজে নেতৃত্ব দেন ইসরায়েলি একজন লেফটেন্যান্ট-কর্নেল ইডো। তিনি বলেন, শ্বাসরুদ্ধকর গরম, সরু এবং মাঝে মাঝে কিছুটা ঝোপ-ঝাড়ের মধ্য দিয়ে বিশ মিনিট হাঁটার পর তারা ইউএনআরডব্লিউএ সদর দপ্তরের নিচে পৌঁছান।

সামরিক বাহিনী বলছে, টানেলটি ৭০০ মিটার দীর্ঘ এবং ভূপৃষ্ঠের ১৮ মিটার গভীরে অবস্থিত। সেখানে অফিসের মত স্থান রয়েছে যেখানে স্টিলের সেফগুলো খোলা এবং খালি অবস্থায় ছিল। সেখানে টয়লেটও ছিল। এছাড়া একটি বড় চেম্বার কম্পিউটার সার্ভার দিয়ে পরিপূর্ণ অবস্থায় ছিল।

ইসরায়েলি এই লেফটেন্যান্ট-কর্নেল দাবি জানান, ‘হামাসের সবকিছু এখান থেকে পরিচালিত হয়। সুড়ঙ্গগুলোর সমস্ত জ্বালানি ও শক্তি, আপনি যেখান দিয়ে হেঁটেছেন, তা এখান থেকেই চালিত হয়।’

তিনি আরও জানান, ‘ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার মুখে হামাস এই টানেল থেকে সরে গেছে এবং যাওয়ার আগে যোগাযোগের সক্ষমতাও কেটে দিয়েছে।‘

তবে এক বিবৃতিতে ইউএনআরডব্লিউএ বলেছে, ‘হামাস-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পাঁচ দিন পরে গত বছরের ১২ অক্টোবর সংস্থাটি সদর দপ্তর খালি করে দেয় যার কারণে এই বিষয়য়ে নিশ্চিত করতে বা কোনও ধরনের মন্তব্য করতে অক্ষম তারা।

কিছুদিন আগেই গত বছরের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলার সাথে ইউএনআরডব্লিউএ-এর কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ সামনে এনেছে ইসরায়েল। এরপর থেকেই সংস্থাটি বেশ সংকটে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশ জাতিসংঘের এই সংস্থার অর্থায়ন স্থগিত করে।

যদিও হামাসের হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে সংস্থাটি তার বেশ কয়েকজন কর্মীকে বরখাস্ত করার ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি তদন্ত করার কথাও ঘোষণা করেছে।

এদিকে ইউএনআরডব্লিউএকে কলঙ্কিত করার জন্য ইসরায়েল মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনিরা।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত