দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশ

৭ দিনের মধ্যে পাহাড় ও কৃষিজমির মাটি কাটা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ 

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:০৩ পিএম

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পাহাড় ও কৃষি জমির টপসয়েল (মাটির উপরিভাগ) কাটা ৭ দিনের মধ্যে বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সরোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

পাহাড় ও কৃষি জমির মাটি কাটা নিয়ে গত ৪ ফেব্রুয়ারি দেশ রূপান্তর পত্রিকায় ‘লোহাগাড়ায় মাটিখেকোরা বেপরোয়া’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ প্রতিবেদনে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার প্রতিটি ইউনিয়নের কারা কারা অবৈধ মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের নামসহ প্রকাশ করা হয়। এ প্রতিবেদন যুক্ত করে হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে রিট করা হয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ এবং আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, দেশ রূপান্তরের ৪ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনটি পাওয়ার পর হাইকোর্টে রিট করি। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর ৬(খ) ধারা অনুসারে বিনা অনুমতিতে পাহাড় ও কৃষি জমির টপসয়েল কাটা নিষেধ। আদালত শুনানি শেষে লোহাগাড়ার পাহাড় ও মাটি কাটা বন্ধে সাতদিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বিবাদীর নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি লোহাগাড়ার পাহাড় ও মাটি কাটা বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবেনা এবং পাহাড় ও কৃষি জমির মাটি কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবেনা, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। পরিবেশ সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং চট্টগ্রামের পরিচালক, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ৯ বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পরিবেশবাদী সংগঠন ব্রতীর প্রধান নির্বাহী এবং ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সহ-আহ্বায়ক শারমীন মুরশিদ বলেন, সম্প্রতি লোহাগাড়ার উপজেলায় সরজমিন পরিদর্শনে গিয়ে লোহাগাড়ার চুনতি অভয়ারণ্যসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী মহল ও জনপ্রতিনিধিদের ছত্রছায়ায় মাটিখেকোরা যেভাবে পরিবেশের ক্ষতি করছে তাতে দেখা যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন একেবারেই নিষ্ক্রিয়। তাই বিষয়টি নিয়ে আমরা মহামান্য আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। ভবিষ্যতে পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয়দের নিয়ে সামাজিক আন্দোলন করব। সকলে এগিয়ে না আসলে এই এলাকায় আর কোনো বন, পাহাড় ও কৃষিজমির অস্তিত্ব থাকবেনা।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ৯ ইউনিয়নে মাটিখেকোরা পাহাড় ও কৃষি জমির টপসয়েল কেটে ইট ভাটায় বিক্রি করছে। অভিযোগ রয়েছে, এতে স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিদের সংশ্লিষ্টতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় মাটিখেকোরা এ অবৈধ কাজটি দিনের পর দিন করেই যাচ্ছেন। এ কারণে পরিবেশ-প্রকৃতি, কৃষি উৎপাদন এবং চুনতি অভয়ারণ্যের জীববৈচিত্র মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত