নির্বাচনী ব্যালটের জন্য ৫০ হাজার গাছ কাটল পাকিস্তান!

  • বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তান কাগজ উৎপাদন করে না, আমদানি করে
  • ২০১৮ সালের নির্বাচনে ব্যালট ছাপাতে লেগেছিল ৮০০ টন কাগজ, ২০২৪-এ ২১৭০ টন
  • পাকিস্তানে বনায়নের হার বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম
আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:০১ পিএম

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক নির্বাচনে ব্যবহৃত ব্যালটের জন্য ৪৯ হাজার ৬০০টি গাছ কাটা হয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবেশকর্মীদের একাংশ। তাদের মতে, ব্যালট ও অন্যান্য নথির জন্য দুই হাজার ১৭০ টন কাগজ প্রয়োজন ছিল। সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তান ট্রিবিউন।

সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, পরিবেশকর্মীদের এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, পাকিস্তান কাগজ উৎপাদন করে না, আমদানি করে। এবার নির্বাচনের জন্য ব্যবহৃত কাগজ এবং কার্ডবোর্ড পুনর্ব্যবহার করেছে তারা।

পাকিস্তানে ২০১৮ সালের নির্বাচনে ব্যালট ছাপাতে ৮০০ টন কাগজ লেগেছিল। এবার নির্বাচন কমিশন (ইসিপি) ধারণা করেছিল, দুই হাজার ১৭০ টন কাগজ প্রয়োজন হতে পারে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. উসমান আলী বলেন, পাকিস্তানে কাগজ প্রায় উৎপাদন হয় না বললেই চলে। এ ধরনের শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো ও কাঁচামালের অভাব রয়েছে। তার মতে, পাকিস্তান পণ্যটি আমদানি করেছে কারণ ভালো মানের কাগজ তৈরির জন্য সাইপ্রেস গাছের প্রয়োজন।

পাকিস্তানে দুই যুগে কমেছে ২০ শতাংশ বনভূমি। ছবি: এএফপি

ড. উসমান আলী বলেন, একটি দেশে ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকতে হয়। কিন্তু পাকিস্তানে বনভূমি ৪ শতাংশেরও কম। তাই ব্যালট ছাপাতে যদি দুই হাজার ১৭০ টন কাগজ ব্যবহার করা হত, তাহলে প্রায় ৭০ হাজার গাছ কেটে ফেলতে হত।

তিনি জানান, পাকিস্তানে গাছ কাটা হোক বা অন্য দেশে, বাস্তবতা হলো বিশ্বে বনাঞ্চল কমছে। এই অর্থে পাকিস্তানও কার্বন নিঃসরণে অবদান রাখছে। ভিশন ২০৩০-এর অধীনে দেশটিকে কার্বন নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

পাকিস্তানে ২০১৮ সালের নির্বাচনে কিছু রাজনৈতিক দল ব্যালট পেপারের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিল। এই পদ্ধতিতে কাগজের ব্যবহার কমত। কিন্তু এই পদ্ধতিতে ভোট গণনা প্রক্রিয়া সঠিক সময়ে সম্পন্ন করার সুযোগ থাকলেও প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করা হয়।

বন উজাড় চলছেই

সম্প্রতি ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিকসের (পিআইডিই) সাম্প্রতিক গবেষণার বরাতে বলা হয়, গত দুই যুগে ২০ শতাংশ বনভূমি হারিয়েছে পাকিস্তান। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান নগরায়ন ও গ্যাসের মতো জ্বালানি ঘাটতির কারণে দেশটিতে বছরে প্রায় ২৭ হাজার হেক্টর বন উজাড় হচ্ছে বলে গবেষণায় উঠে আসে।

পিআইডিই বলছে, পাকিস্তানে বনায়নের হার বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় বনভূমিতে ব্যক্তিগত মালিকানার হার সবচেয়ে বেশি পাকিস্তান ও বাংলাদেশে (যথাক্রমে ৩৬ ও ৩৪ শতাংশ)। ১০০ কোটিরও কম গাছ আছে বিশ্বের এমন দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম।

গবেষণায় আরও বলা হয়, পাকিস্তানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে গাছ আছে এক হাজার ১৩১টি। জনপ্রতি আছে মাত্র পাঁচটি, যা টেকসই উন্নয়নের জন্য যথাযথ নয়, যেখানে জনপ্রতি ৯০০ গাছ প্রয়োজন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত