নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টকে প্রায় ৫৪ কোটি টাকা জমা দিয়ে এনবিআরের দাবি করা আয়কর নিয়ে হাইকোর্টে ইনকাম ট্যাক্স রেফারেন্স (আয়কর রেফারেন্স) মামলা করতে হবে বলে আদেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত থেকে। আয়করের ২৫ শতাংশ হারে টাকা জমার বিষয়ে মওকুফ চেয়ে করা রিট আবেদনের ওপর দেওয়া রুল খারিজ করে গতকাল সোমবার বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।
আদালত বলেছে, গ্রামীণ টেলিকমের আরজি খারিজে এনবিআরের সিদ্ধান্ত সঠিক। এই টাকা জমা দিয়ে রেফারেন্স মামলা ফাইল করতে হবে।
আদালতে ড. ইউনূসের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. মোস্তাফিজুর রহমান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল তাহমিনা পলি।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের তথ্যমতে, ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরের ২১৫ কোটি টাকার কিছু বেশি আয়কর দাবি করে গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টকে নোটিস দেয় এনবিআর। ওই নোটিসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ টেলিকম প্রথমে কমিশনার অব ট্যাক্সেসে আপিল করলে সেটি খারিজ হয়। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ট্যাক্সেস অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে আপিল করলে সেটিও খারিজ হয়ে যায়। এরপর এ নিয়ে ২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদন করে গ্রামীণ টেলিকম। ওই বছরের ২৬ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল দেয়। গতকাল সেই রুল খারিজ করে এ রায় হলো।
ব্যারিস্টার তাহমিনা পলি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আয়কর রেফারেন্স মামলা করতে হলে ইনকাম ট্যাক্স অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৪-এ সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী, দাবিকৃত আয়করের ২৫ শতাংশ জমা দিয়ে মামলা করতে হয়। সে হিসাবে ৫৪ কোটি টাকা দিতে হবে। এই টাকা মওকুফ চেয়ে গ্রামীণ টেলিকম এনবিআরে আবেদন করলে সেটি খারিজ হয়। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে করা রিট আবেদনটি খারিজ হলো। তিনি বলেন, ‘আমরা তথ্যপ্রমাণ দিয়েছি, তারা টাকা নেই বলে মওকুফ চাইলেও ওই সময় তাদের কাছে ওই টাকার চেয়ে ৭ থেকে ৮ গুণ বেশি টাকা ছিল। কাজেই এখন তাদের ৫৪ কোটি টাকা জমা দিয়ে এ মামলা ফাইল করতে হবে।’
হাইকোর্টের এ রায়ের বিষয়ে গ্রামীণ টেলিকমের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
