খুলনায় চোখে-মুখে সুপার গ্লু (আঠা) লাগিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনাটিকে চুরি বলে দাবি করেছে পুলিশ। চোর ইমামুল জোয়ার্দার ওরফে এনামুল ভুক্তভোগী নারীকে ধর্ষণ নয়, শুধু বিবস্ত্র করে লাঞ্ছিত করেছিল বলে ভাষ্য পুলিশের। গতকাল শুক্রবার দুপুরে খুলনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। ওই ঘটনায় পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর গ্রামের ইমামুল জোয়ার্দার ওরফে এনামুল, তার মা রাশিদা বেগম, স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুমন হালদার ও এনামুলের সহযোগী আব্দুস সামাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় এনামুলের কাছ থেকে এক রাউন্ড গুলিসহ একটি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০০ পিস ইয়াবা ও চেতনানাশক ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার বলেন, ইমামুল জোয়ার্দার ওরফে এনামুল জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে সে রাতের বেলায় দু-তিন দিন রাড়ুলী গ্রামের ষষ্টিতলা বাজারসংলগ্ন মাঠের পাশে ভুক্তভোগী গৃহবধূর বাড়ির দক্ষিণ পাশে মেহগুনিবাগানে মাদক সেবন করতে গিয়েছিল। ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে সে ওই বাড়ির কাছে গিয়ে দেখে ওই গৃহবধূ একা জাল বুনছেন। এনামুল মাগরিবের নামাজের পর ঘরের সানশেড ধরে ছাদের ওপরে উঠে সিঁড়িঘর দিয়ে নিচে নেমে সিঁড়ির নিচে পাত্রে রাখা ভাত দেখতে পায়। তখন সে ভাতে চেতনানাশক ট্যাবলেট মিশিয়ে আসে। পরে রাত ২টার দিকে আবার ছাদ দিয়ে ওই গৃহবধূর ঘরে ঢোকে এনামুল। এ সময় ওই নারী জেগে উঠলে সে তার মুখ চেপে ধরে চোখে-মুখে সুপার গ্লু লাগিয়ে দেয়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হলে এনামুল শাবল দিয়ে তার ঘাড়ে আঘাত করে। এতে রক্তক্ষরণ হওয়ার পর গৃহবধূ অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর এনামুল তার হাত-মুখ বেঁধে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। চেতনা ফিরে এলে গৃহবধূ হাত খুলে ফেলেন। তখন এনামুল রাগ হয়ে তার বুকে কামড় দেয়। এ সময় ওড়নার একপাশ দিয়ে পেছন থেকে হাত ও অন্যপাশ দিয়ে গৃহবধূর পা বাঁধে। আরেকটি ওড়না দিয়ে তার মুখ বাঁধে। ভুক্তভোগীর গোঙানিতে পাশের বাড়ির একজন নারী চোর চোর বলে ঘরের বেড়ার টিনে বাড়ি দিলে এনামুল একটি মোবাইল ফোন ও কানের দুটি দুল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরের দিন এনামুল পাশের ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজারের মা জুয়েলার্সে কানের দুল দুটি বিক্রি করে। চুরির স্বর্ণালংকার কেনায় দোকানটির মালিক সুমন হালদারকে আটক করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে এনামুলকে রিমান্ডে এনে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১১ ফেব্রুয়ারি রাতের ওই ঘটনার পর ভুক্তভোগী গৃহবধূকে (৪৫) পরদিন সকালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেলে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। এখনো তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
