ইন্দোনেশিয়ায় জেনারেল সুহার্তোর স্বৈরাচারী দুঃশাসন তখন প্রায় শেষের পথে। ছাত্র-জনতার প্রতিরোধে সেনাশাসকের গদি টলমল। সেই মুহূর্তে ১৯৯৮ সালের কোনো এক স্বৈরশাসনবিরোধী মিছিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ওয়ায়ান নামের এক ছাত্র। তখন থেকে আজ পর্যন্ত টানা ১৭ বছর দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে চলেছেন গণতন্ত্রপন্থি মিছিলে প্রাণহারানো ওই যুবকের মা মারিয়া কাটারিনা সুমারসিহ।
সন্তানহারা মারিয়া কাটারিনা সুমারসিহর মর্মবেদনা এখন আরও বেড়েছে। কারণ সুহার্তোর দুঃশাসনের অন্যতম কা-ারি সেনাশাসনকালে মানবাধিকার লঙ্ঘন, হত্যা, গুমসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত জেনারেল প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তো ভোটে জয়লাভ করে প্রেসিডেন্ট পদে বসার অপেক্ষায়।
সুমারসিহ দমে যাচ্ছেন না। তিনি তার বিচারপ্রার্থনার লড়াই অব্যাহত রাখবেন। নিজ ছেলে শুধু নয়, সুহার্তোর নির্যাতনের শিকার প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই তিনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, ‘ওয়ায়ান যখন গুলিবিদ্ধ হলো, আমার সহানুভূতি যেন অন্যদের প্রতিও সঞ্চারিত হলো। আমি শুধু আমার ছেলে এবং আমার বন্ধুদের হত্যার বিরুদ্ধে লড়ছি না, সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি।’
ইন্দোনেশিয়ার জেনারেল সুহার্তোর মেয়েজামাই সুবিয়ান্তোর শাসনামল শুরুর প্রাক্কালে সুমারসিহ বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্র দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একটি কর্তৃত্ববাদী, সামরিক বাহিনী-প্রভাবিত এবং দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হওয়ার পথ খুলে গেল, ব্যাপকভাবেই খুলে গেল।’
ওয়ায়ানের পুরো নাম বারনাদিনুস রিয়েলিনো নর্মা ইরমাওয়ান। রাজধানী জাকার্তার আতমা জায়া ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন ওই সময়ের ২০ বছর বয়সী এই তরুণ। তার মৃত্যুর কিছুদিন পরই ক্ষমতা হারান সুহার্তো। ছেলের মৃত্যু সম্পর্কে তিনি বললেন, ‘সে ছিল একটি নীতিনিষ্ঠ এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের একজন যোদ্ধা।’
