কুমিল্লার অপেক্ষা বাড়াল সিলেট

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:২৩ এএম

মোহাম্মদ মিঠুন যখন জয়ী দলের অধিনায়ক হিসেবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রতিক্রিয়া জানাতে আসছিলেন, তখন তার চেহারা থেকে হাসিটা সরছিলই না। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের মতো তারকাবহুল দলকে হারানোর তৃপ্তি খেলা করছিল চোখে মুখে। শীর্ষে পৌঁছানোর এক ধাপ আগে, আসরে নিজেদের ১০ ম্যাচে এসে অষ্টম জয়ের বদলে কুমিল্লা পেল তৃতীয় হারের দেখা। সিলেট স্ট্রাইকার্স ১২ রানে হারিয়ে দিয়েছে রাসেল-নারিনের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসকে। তাতে করে সিলেটের প্লে-অফ ভাগ্য খোলেনি, তবে শীর্ষ দুইয়ে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ল কুমিল্লার।

রবিবার সিলেট স্ট্রাইকার্সের ফেসবুক পাতায় যখন কেনার লুইসকে দলে নেওয়ার ঘোষণা জানানো হয়, তখন নিচে অদ্ভুত সব মন্তব্য আসতে থাকে। কেউ লিখেছেন, কেন এই সময়ে বিদেশি আনা হলো, আগে কেন নয়। কেউ চিনতে পারেননি এই ক্যারিবিয়ানকে। এমন অনেক মন্তব্য জমেছে ছবির নিচে। ২৫ বলে ৩৩ রান করেছেন লুইস, তাতে সিলেটের উদ্বোধনী জুটি নিয়ে সমস্যা কিছুটা হলেও কেটেছে। জাকির হাসান ১৭ বলে করেছেন ১৮, গোটা বিপিএল জুড়েই দলকে ভুগিয়েছেন এই ব্যাটসম্যান। এই ম্যাচের আগে টানা ৫ ম্যাচে এক অঙ্কের রানে আউট হয়েছেন জাকির, সর্বোচ্চ ছিল ৮! মাঝারি শুরুর পর নাজমুল হোসেন শান্তর ১৮ বলে ১২ রানের সংগ্রামী ইনিংস আর ইয়াসির রাব্বির (২)  আরেকটি ব্যর্থতার পালা শেষে  সিলেট স্ট্রাইকার্স যখন পরিচিত পথেই এগোচ্ছে, তখন রুখে দাঁড়ালেন বেনি হাওয়েল। তার ৫ বাউন্ডারি আর ৪ ছক্কায় ৩১ বলে ৬২* রানের ইনিংসের সঙ্গে মিঠুনের ২০ বলে ২৮ রানের ইনিংস সিলেটকে এনে দেয় লড়াইয়ের পুঁজি। ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৭৭ রান করে সিলেট, যা এই আসরে সিলেটের সর্বোচ্চ ইনিংস। ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে জোড়া শিকার সুনীল নারিনের।

একাদশে চলে এসেছেন সুনীল নারিন ও আন্দ্রে রাসেল। জনসন চার্লস এবং মইন আলিরা তো ছিলেনই।  সঙ্গে লিটন, হৃদয়দের নিয়ে কুমিল্লা দলটার কোনো তুলনাই চলে না সিলেটের সঙ্গে। সেই সিলেটকে হারিয়েই গত মৌসুমের ফাইনাল জেতা কুমিল্লা কিনা হেরেই গেল! অথচ একটা সময় মনে হচ্ছিল আন্দ্রে রাসেল শেষ পর্যন্ত জিতিয়ে দেবেন। ১৭৮ রান তাড়ায় ইমরুল কায়েস শুরুতে ফিরে গেলেও লিটন দাস ছিলেন প্রায় শেষ পর্যন্ত। শেষ ৩ ওভারে উইকেটে রাসেল আর লিটন, ৬ উইকেট হাতে ১৮ বলে ৪৯ রানের সমীকরণটাকে মনে হচ্ছে খুবই সম্ভব। সেটাকে আরও সম্ভব করে তুলল শফিকুল ইসলামের ৯ ডেলিভারির একটা ওভার, ১৮তম ওভারে ৩ খানা ওয়াইড করেছেন এই পেসার। ১২ বলে ৩৭, উইকেটে রাসেল আছেন; এটা তো খুবই সম্ভব। কিন্তু হলো না। বেনি হাওয়েল ওভারের দ্বিতীয় বলে রাসেলের হাতে ছয় হজম করলেও তিনখানা ডট বল দিয়েছেন। শেষ ৬ বলে জিততে কুমিল্লার লাগে ২৫ রান, সেঞ্চুরি পেতে লিটনের ১৫। তানজিম হাসান সাকিবের প্রথম বলেই লিটন আউট ৮৫ রানে। শেষ ওভারে রাসেল স্ট্রাইক পেয়েছেন মোটে শেষ ৩ বল। তাতে ডট, চার এবং আউট। ১৪ বলে ২৩ রান করে রাসেল পারেননি দলকে জেতাতে, ৮৫ রান করে পারেননি লিটনও; বরং হাফসেঞ্চুরি আর মইন আলির উইকেট নিয়ে বেনি হাওয়েল জিতিয়ে দিয়েছেন সিলেট স্ট্রাইকার্সকে।

এই হারে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের শীর্ষ দুইয়ে থাকাটা হয়ে উঠল জটিল। ১০ ম্যাচে ৭ জয় থেকে ১৪ পয়েন্ট কুমিল্লার। ওপরে আছে রংপুর রাইডার্স। চট্টগ্রাম ও বরিশালের সুযোগ আছে কুমিল্লাকে ধরে ফেলার। সে ক্ষেত্রে তৃতীয় হলে এলিমিনেটর খেলার ঝুঁকিটা থেকেই যাচ্ছে চারবারের চ্যাম্পিয়নদের। অন্যদিকে ১১তম ম্যাচে এসে চতুর্থ জয়ে সিলেটের লাভ শুধু জয়ের হাসি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত