সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জন্মদিনে ‘মরে গিয়েও বেঁচে থাকা’ কার্ট কোবাইনকে স্মরণ

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:৩৯ পিএম

নির্ভানার 'স্মেলস লাইক টিন স্পিরিট' গানটি শোনেননি এমন সংগীতশ্রোতা পাওয়া শুধু কঠিনই নয়, দুষ্কর। অল্টারনেটিভ ও গ্র্যাঞ্জ রক জনরার এই অবিশ্বাস্য জনপ্রিয় গানটি ব্যান্ড হিসেবে নির্ভানাকে নিয়ে গেছে খ্যাতি ও সম্ভাবনার চূড়ান্তে। আর ব্যান্ড সুপ্রিমো কার্ট কোবাইন উঠে গেছেন সব কিছু ছাড়িয়ে। তবে খুব বেশিদিন এ সাফল্য দেখতে পারেননি নন্দিত বিশ্বতারকা। মাত্র ২৭ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন এই মহাপ্রতিভা—যার হাত ধরে উঠে আসে অল্টারনেটিভ জনরা। আজ এই তারকার জন্মদিনে। জন্মদিনে 'মরে গিয়েও বেঁচে থাকা' এই মহাতারকাকে স্মরণ করছে তার ভক্ত-অনুরাগীরা।

অতিপ্রতিভাবানরা যেমন হন, কার্ট কোবাইনও আলাদা কিছু ছিলেন না। ভীষণ  বেখেয়ালি এবং নিজের ভেতর ডুবে থাকা মানুষ। তিনি তার ছোট্ট জীবনে এতটাই পেয়েছিলেন যে জীবন উপভোগ করার সময়ই পাননি।

'নিজের জন্মদিন নিয়ে কখনোই কোনো বিশেষ উচ্ছ্বাস বা আয়োজন ছিল না তার। বেশ সাদামাটাভাবেই পালন করত, কোনো দিন ভুলেও যেত'- এমনটাই দাবি করেছিলেন তার স্ত্রী এবং মার্কিন গায়িকা, গিটারিস্ট, গীতিকার ও অভিনয়শিল্পী কোর্টনি লাভ (কোর্টনি মিশেল হ্যারিসন)।

'যদিও ওর সাথে আমার বিবাহিত জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত এবং ও খুব তাড়াতাড়ি পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় তবে আমি এটুকু অন্তত বলব- ও আসলে খুব অন্তর্মুখী এবং প্রতিভাবান ছিল। নিজেকে নিয়ে ভাবার সময় ছিল না। আর জন্মদিন বা বিবাহবার্ষিকী নিয়ে ভাবনার তো প্রশ্নই আসে না।'

কোর্টনি বলেন, 'ভীষণ ভাবুক ছিল ও। একবার ওর জন্মদিনে আমার ব্যান্ডমেটরা (জেনে রাখা প্রয়োজন- কোর্টনি লাভ হোল, সুগার বেবিডল, ফেইথ নো মোর বা পাগান বেবিস এর মতো একাধিক অল্টারনেটিভ ও গ্র্যাঞ্জ রক সুপার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যান্ড সুপ্রিমো ছিলেন) সবাই ওর জন্য ডিনারের আয়োজন করি কিন্তু ও অন্য কোথাও গিয়ে আড্ডা দিচ্ছিল। পর দিন যখন ওর সাথে আবার আমার দেখা হয় তখন ওই ডিনারটা বাসি হয়ে গিয়েছিল।'

১৯৯২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের হনুলুলুর ওয়াইকিকি বিচে বিয়ে করেন কার্ট কোবাইন এবং কোর্টনি লাভ। তাদের একমাত্র সন্তানের নাম ফ্রান্সেস বেন কোবাইন।

১৯৬৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেন কার্ট ডোনাল্ড কোবাইন ওরফে কার্ট কোবাইন। ১৯৮৭ সালে ক্রিস নভোসেলিককে নিয়ে গঠন করেন 'নির্ভানা'। তিনটি অ্যালবাম আসে তাদের। ব্যান্ড গঠনের সাত বছরের মাথায় ১৯৯৪ সালের ৫ এপ্রিল নিজের বাসায় আত্মহত্যা করেন কার্ট।

অল্টারনেটিভ মিউজিকের অন্যতম প্রভাবশালী সংগীতনির্মাতা হিসেবে ধরা হয় কার্টকে। তার গিটারের টোনকে বলা হয় 'সবচেয়ে আলাদা, সবচেয়ে শ্রুতিমধুর'। অনেকে তাকে 'মেলোডি মেকার' বলে আখ্যা দেন। তার সমসাময়িক ব্যান্ডগুলোর {রেডিওহেড, আর ই এম (র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট), দ্য স্ম্যাশিং পাম্পকিনস, রেড হট চিলি পিপার্স, পিক্সিস, ফু ফাইটার্স, টকিং হেডস} এর কাছে তিনি ছিলেন অন্যতম আকর্ষণের বিষয়, এক ভীষণ আবেগ ও বিস্ময়ের নাম।

এছাড়া পৃথিবীর সব র‍্যাংকিংই তাকে শত শীর্ষ গিটারিস্ট ও ভোকাল হিসেবেই আলোচনায় রাখে। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত