জলবায়ু ঝুঁকি এবং জলবায়ু বিজ্ঞানের বিষয়টি বিবেচনা নিয়ে নগরের উন্নয়ন করা জরুরি। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধির মধ্যে সমন্বয় থাকার কোনো বিকল্প নেই।
আজ মঙ্গলবার সকালে সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি) আয়োজিত ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ: পলিসি গ্যাপস অ্যান্ড রিকমেন্ডেশনস’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন।
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী মো. সামছুদ্দোহা।
তিনি বলেন, সরকারের প্রতিটি নীতিমালা জলবায়ু পরিবর্তনের দিক বিবেচনা করে বাস্তবায়ন করতে হবে। বাংলাদেশে নগরায়ন বিদ্যমান শহর অঞ্চলগুলিকে কেন্দ্র করেই ঘটে, তাই শহর অঞ্চলগুলি অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে বিপর্যস্ত, যার ফলস্বরূপ শহরের বাসিন্দাদের নিম্নমানের জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
তিনি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ জলবায়ু অভিবাসীদের বসবাসের জন্য শহরগুলিকে জলবায়ু সহিষ্ণু হিসেবে তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেন। নগরায়ন যাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু সহনশীল হয়ে ওঠে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতীবাচক প্রভাব প্রশমনে অবদান রাখতে পারে সে ভাবে তৈরি করতে নাগরিক সমাজের পক্ষ্য থেকে নীতি সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় চাপ প্রদান করার ওপর গুরুত্ব দেন।
সেমিনারে সিপিআরডির রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা এবং গবেষণা সহকারী ইলমী তাবাসসুম গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করেন। সেমিনারে সিপিআরডির প্রকাশিত একটি গবেষণা নিবন্ধের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
সিপিআরডির নিবন্ধে বলা হয় বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এবং জলবায়ু-সহনশীল নগরায়নে সরকার, নীতি নির্ধারক এবং নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এতে পৌরসভাগুলির বাজেটের সীমাবদ্ধতা প্রশমিত করা, দরিদ্রবান্ধব ও জলবায়ু পরিবর্তন ক্ষতিগ্রস্ত সহায়ক নগরায়ন, বিভিন্ন মন্ত্রণাসমূহের মধ্যে সমন্বয় এবং বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রক্রিয়াগুলিতে অংশীজনের অর্থবহ অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
স্ট্যানফোর্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার প্রধান শহরগুলিতে জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতার আলোকে মেগা প্রকল্পগুলি পুনর্মূল্যায়ন করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বিদ্যমান নীতিগুলির মধ্যে আন্ত সংযোগের একটি উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।
ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পলিসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি শাখার পরিচালক পার্থ হেফাজ শেখ বলেন, আমাদের দেশে ঢাকা শহরকে যে পরিমাণ গুরুত্ব দেওয়া হয়, সে তুলনায় অন্যান্য শহরগুলিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় না বলেই লক্ষ্য করা গেছে। নীতি বাস্তবায়নের জন্য বাজেটের সংস্থান বাড়াতে সরকারের সাথে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
অন্যান্যদের বক্তব্য রাখেন ডরপের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোহাম্মদ জোবায়ের হাসান, দিয়াকোনিয়ার কান্ট্রি ডিরেক্টর খোদেজা সুলতানা লোপা, প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন'র রিজিওনাল ক্লাইমেট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার শাহনেওয়াজ ওয়ারা, আইসিএলইআই'র বাংলাদেশ প্রতিনিধি মো. জুবায়ের রশিদ, মো. আতিকুর রহমান মল্লিক প্রমুখ।
