ব্যাট হাতে আন্দ্রে রাসেলের ছোট্ট একটি ঝড়। ৪টি চার, ৪টি ছয়। ১২ বলে রান ৪৩। তাতে ম্লান সাকিবের ৪-০-২০-৩ স্পেলটি। একটা সময় নাগালের বাইরে থাকা লক্ষ্যটি তাই ১৪ বল হাতে রেখেই ছুঁয়ে ফেলল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। ৬ উইকেটের এই জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে সেরা দুইয়ে থেকে প্রথম কোয়ালিফায়ার খেলা নিশ্চিত হলো কুমিল্লার। ২৫ তারিখের প্রথম কোয়ালিফায়ারে আবারও মুখোমুখি হবে এ দুই দল।
দুই ও তিনে থাকা নিয়ে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও বরিশালের ভেতর একটা লড়াই চলছিল। দুইয়ে থাকা মানেই প্রথম কোয়ালিফায়ারে জায়গা নিশ্চিত করা, এতে করে প্লে-অফে একটা ম্যাচ হারলেও সুযোগ থাকে ফিরে আসার। রংপুরকে হারিয়ে ১১ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকাটা নিশ্চিত কুমিল্লার। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স শেষ করেছে ১৪ পয়েন্টে, ফরচুন বরিশালের পক্ষেও সম্ভব ১৪ পয়েন্টে যাওয়ার। তবে তাদের ওপরই থাকবে কুমিল্লা, এমনকি সুযোগ আছে গ্রুপের শেষ ম্যাচে বরিশালকে হারিয়ে ১৮ পয়েন্টে যাওয়ারও।
টস জিতে বোলিং নিয়েছিলেন কুমিল্লা অধিনায়ক লিটন দাস। রংপুরের ব্যাটিংয়ের শুরুটা আগ্রাসী হলেও উইকেট হারিয়েছে বেশি। পাওয়ার প্লেতে ছয় ওভারে ৪৭ রান তুলতেই নেই ৪ উইকেট। ব্রেন্ডন কিং ৪, রনি তালুকদার ১৪, সাকিব আল হাসান ২৪ আর শেখ মেহেদি হাসান ৮ রানে বিদায় নিলে বিপদে পড়ে রংপুর। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানও বিদায় নেন ২ রানে।
আসা-যাওয়ার মিছিলে একপাশে সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন জিমি নিশাম। দলের রান ১০০ পূরণের আগেই সাজঘরে ফেরত আসেন ৭ ব্যাটসম্যান। ১০৭ রানে ৯ উইকেট হারানো রংপুরকে দেড়শ ছোঁয়া পুঁজি এনে দেন একা নিশাম। শেষ উইকেটে ইমরান তাহিরকে নিয়ে গড়েন ৪৩ রানের জুটি। ৩৩ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন নিশাম। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৪২ বলে ৬৯ রানে। ৯টি চারের সঙ্গে ২টি ছক্কা হাঁকান ইনিংসে।
একপ্রান্তে ক্রমশ উইকেট পতন চললেও অন্যপ্রান্তে অবিচল ছিলেন জেমস নিশাম। ৪২ বলে অপরাজিত ৬৯ রানের ইনিংসই রংপুরকে দেয় ১৫০ রানের পুঁজি। নিশাম, সাকিব আর রনি বাদে আর কেউই দুই অঙ্কের রানে পৌঁছাতে পারেননি।
তানভির ইসলাম ও মইন আলি ছাড়া কুমিল্লার বাকি বোলাররা ছিলেন দারুণ সাশ্রয়ী। ৪ ওভারে ১৮ রানে ৩ উইকেট ঝুলিতে ভরেন পেসার মুশফিক হাসান। ৩ উইকেট শিকার করেন আন্দ্রে রাসেলও। ২টি উইকেট পান ম্যাথিউ ফোর্ডে।
১৫১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ভালো শুরু পায় কুমিল্লা। ১১ বলে ১৫ রান করে সুনীল নারিন সাজঘরে ফিরলে ভাঙে ৩৬ রানের উদ্বোধনী জুটি। তবে তিনে নেমে ব্যর্থ হয়েছেন তাওহিদ হৃদয়। ইনফর্ম এই টপ অর্ডার ব্যাটার সিলভার ডাক খেয়েছেন।
শেষে রাসেলের ৪ ছক্কা আর ৪ বাউন্ডারিতে ১২ বলে অপরাজিত ৪৩ রানের ক্যামিওতে ১৭.৪ ওভারে ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের দেখা পায় কুমিল্লা। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচসেরা হন রাসেল।
